নওগাঁর রাণীনগরের মা বাবা হারা শিশুর দায়িত্ব নিলেন চেয়ারম্যান 

 

 

নওগাঁর রাণীনগরের বাবা-মাহারা বাউন্ডুল শিশু -রফিকুলেদায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন নওগাঁর রাণীনগরের গোনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হাসান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুনের কাছে শিশুটিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে হস্তান্তর করেন তিনি।

বাবা মা হারা শিশুর রফিকুলকে ২৩ জানুয়ারি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর রেলওয়ে স্টেশনের পাওয়া গেলে। স্থানীয় সোনার বাংলা সমাজ কল্যাণ ও ক্রিয়া সংসদের আহ্বায়ক এস এম হেলাল খন্দকার শিশুটিকে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাছে নিয়ে জান, শিশু রফিকুল এর দেওয়া তথ্য অনুসারে তার বয়স ১০বছর সে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ত।তার বাবা-মা প্রায় এক বছর আগে মারা যান তাদের মৃত্যুর পর থেকে একমাত্র ভাই শফিকুল ইসলামের কাছে থাকতে সে।

ভাই রাজমিস্ত্রি কাজ করেন। ও নওগাঁর রাণীনগরে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।

রফিকুল বলেন হঠাৎ আমার ভাই ভাবি আর আমার দায়ীত্ব নিতে পারবেনা বলে দেই পরে তারা আমাকে একটি ট্রেনে তুলে দেন। জানিনা কোথায় যাচ্ছি পরে বলে বলিয়াকান্দি স্টেশনের ট্রেন থামলে নেমে পড়ি।

ট্রেনে তুলে দেওয়ার সময় রাণীনগর স্টেশন ফাঁকা ছিল তার কান্নার শব্দ ট্রেনের শব্দে কেউ শুনতে পাইনি, আর তার ভাই ভাবী ভয় দেখায় তাই চুপ থাকতে হয়েছে বলে জানান রফিকুল। সোনার বাংলা সমাজ কল্যাণ ও ক্রীড়া সংসদের

আহবায়ক এসএম হেলাল খন্দকার বলেন,টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেন চলে যাওয়ার পরই স্টেশন এলোমেলোভাবে ঘুরতে দেখলে রফিকুলকে বাড়িতে নিয়ে জান তিনি।পরে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন। রাতে বিষয়টি থানা পুলিশ (ইউএনও) জানান এবং(ইউএনও)কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়

রাজবাড়ী বালিয়াকান্দি ইউএনও আম্বিয়া সুলতান শিশুটির দেওয়া তথ্য অনুসারে নওগাঁর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন

পরে এ বিষয়ে রফিকুলের বড় ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন আমার ছোট ভাই বাউন্ডুল টাইপের তাকে দোকানে কাজ দিয়েছিলাম,সে কাজ না করে ঘুরে বেড়াতো আমাদের অভাবের সংসার নিজেই চলতে পারি না। তার দায়িত্ব নিতে পারব না

চেয়ারম্যান আবুল হাসান বলেন, ‘রফিকুলকে এখানে আনা হলে আমি অসহায় শিশুটির দেখভালের দায়িত্ব নেই। তাকে আমার বাসায় রাখি। এর কিছুদিন পরেই বাসা থেকে কাউকে কিছু না বলে রফিকুল আবার হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করে থানায় জিডি করি

‘অনেক সন্ধানের পর রফিকুলকে গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের সখিপুর থেকে উদ্ধার করি। শিশুটি চরম বাউন্ডুলে স্বভাবের। আমার পক্ষে আর শিশুটির দেখভাল করা সম্ভব নয়। তাই বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই রফিকুলকে নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করেছি।’

ইউএনও আল মামুন বলেন, ‘রফিকুলের ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে কোনো শিশু সদনে তাকে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করব

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম পারভেজ হাসান সরকারের

  ফকরুদ্দীন আহমেদঃময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় আদিকাল থেকে করে আসা দেশের সুনামধন্য রাজনীতিবিদ ও গুণিজন মরহুম …

error: Content is protected !!