ঝালকাঠি পুলিশ সুপারের নিজের অর্থদিয়ে অসহায় শিশুর চোখের ছানি অপারেশন করালেন

 

মোঃ নাঈম হাসান ঈমন ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠিতে এক অসহায় পরিবারের তিন বছরের এক শিশুর চোখের ছানি অপারেশনের ব্যায়ভার বহন করেছেন ঝালকাঠি পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন। ঝালকাঠি শহরের বসুন্ধরা রোডের শ্রমজীবী আব্দুল লতিফ হাওলাদারের শিশু সন্তান তানভীন বেশ কয়েকমাস ধরে চোখে ঝাপসা দেখে। চোখ থেকে অঝোরে পানিও ঝরত তার। হাঁটতে গেলেও চোখে ঠিকমতো না দেখতে পেয়ে বারবার হোচট খেয়ে পড়ে ব্যথা পেত। ছেলেকে নিয়ে মহাবিপদে পড়েন লতিফ। একদিকে অর্থাভাবে টানাপোড়েন অপরদিকে ছেলের চোখের সমস্যায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাদের বাসার কাছেই পুলিশ সুপারের কার্যালয়। সহায়তার জন্য দ্বারস্থ হন পুলিশ সুপারের কাছে। পরবর্তীতে তানবিনের বাবা আব্দুল লতিফ তাঁর সন্তানের এ সমস্যার কথা ঝালকাঠির পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনকে জানান। পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন লতিফের কাছে পুরো বিষয়টি শুনে তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অসুস্থ শিশু তানভীনের চোখের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন।

গত ২১ জানুয়ারি ঢাকার ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে শিশু তানভীনের চোখের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক পরিচর্যায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে এখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে তানভীন। লতিফ ও তার পরিবার এখন পুলিশ সুপারের জন্য দোয়া করছেন। ঝালকাঠি পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন জানান, লতিফের ছেলে তানভীনের বয়স সাড়ে ৩ বছরের মতো হবে। চোখে ছানি পড়ায় খুবই অসহায় অবস্থায় ছিল। লতিফ আমার কাছে এসে বলায় আমি মানবিক দিক থেকে তার দায়িত্ব নিয়েছি। আল্লাহ আমাকে সামর্থ দিয়েছেন, তাই আমি সাহায্য করেছি।

উল্লেখ্য, পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন ঝালকাঠিতে যোগদানের পর থেকেই জেলার অসহায় অনেক মানুষকে সহায়তা করে একজন মানবিক পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

এবার নাটোরে শিয়াল আতংক, সংশ্লিষ্টরা দায় চাপলেন একে অন্যের ঘাড়ে

সজিবুল ইসলাম হৃদয়: নাটোরের লালপুর উপজেলার বিভিন্নস্থানে বেড়েছে শিয়াল আতংক। শেয়ালের কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার খবর …

error: Content is protected !!