জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: দেড় দশকেও কাটেনি শ্রেণিকক্ষ সংকট

অপূর্ব চৌধুরী: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শ্রেণিকক্ষ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনে বিভিন্ন বিভাগ স্থানান্তরের কথা থাকলেও এর নির্মাণ কাজ চলছে ধীরগতিতে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত তিনটি (সঙ্গীত, চারুকলা ও নাট্যকলা) বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ সংকটে ভুগছেন তারা। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে প্রায়ই সিড়িতে বসে ক্লাস করতে হয় তাদের।রিহার্সাল করার ক্ষেত্রেও সমস্যার সম্মুখীন হয় তারা।সংকটের এই অবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগেই।

জানা যায়, ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে চারুকলা বিভাগ।বর্তমানে বিশেষায়িত এই বিভাগটিতে সাতটি ব্যাচ অধ্যয়নরত। তবে শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মোট চারটি। এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অধিকাংশ সময়েই সিড়িতে বসে ক্লাস করতে হয় তাদের।

একই অবস্থা নাট্যকলা বিভাগেও।এ বিভাগে সাতটি ব্যাচের বিপরীতে দুইটি ল্যাবরুম সহ শ্রেণিকক্ষ আছে মোট চারটি। এক ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলাকালীন সময়ে অন্য ব্যাচকে বাইরে অপেক্ষা করতে হয় শ্রেণিকক্ষের জন্য।এছাড়াও মাঝে মাঝে এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলে কলা ভবনের বিভিন্ন বিভাগের শ্রেণিকক্ষে।রিহার্সালেও চরম ভোগান্তি পোহায় তারা।

২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে সঙ্গীত বিভাগ। অপর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ আর নানাবিধ সংকটে বিঘ্নিত হচ্ছে এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও। সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীরা চরম মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রাচীন প্রাণিবিদ্যা বিভাগ৷ পুরাতন এই বিভাগটির সূচনা থেকেই তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে বলে জানা যায়৷ বিভাগটিতে বর্তমানে অধ্যয়নরত ৫টি ব্যাচের বিপরীতে শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র চারটি। ল্যাবরুম রয়েছে দুইটি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ক্লাসরুমের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও টুলের অভাবও রয়েছে এ বিভাগে। ক্লাসে বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলে অনেককে দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হয়। যার মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে ভোগান্তির নতুন মাত্রা ।

একই সংকট রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান,রসায়ন, ভূগোল ও পরিবেশ, পরিসংখ্যান, ইসলামিক স্টাডিজ সহ বেশ   কয়েকটি বিভাগে। বিজ্ঞান ও লাইফ এন্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বিভাগে ল্যাবরুমের সংকটও প্রকট।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জায়গার অভাব, চতুর্থ মেয়াদেও নতুন ভবনের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া এবং অবকাঠামো সংকট সহ বেশ কিছু জটিলতায় প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৬ বছরেও শ্রেণিকক্ষ সংকট কাটাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে ক্লাস করতে পারেনা। ল্যাবরুম সংকটের ফলে ব্যবহারিক ক্লাসেও বিঘ্ন ঘটে।পাশাপাশি বিশেষায়িত বিভাগসমূহের শিক্ষার্থীদের রিহার্সালেও চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিউল আলম চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নাট্যকলা বিভাগে চরম শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে।ল্যাবরুম সহ মোট চারটি রুমে কোনরকমে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি ল্যাব ও রিহার্সালেও সমস্যায় পড়তে হয়।নতুন ভবনের ১০ম তলায় নাট্যকলা বিভাগ স্থানান্তর করার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি শিক্ষার্থীরা। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমার দাবি নতুন ভবনের অব্যবহৃত শ্রেণীকক্ষগুলোকে নাট্যকলা বিভাগের জন্য বরাদ্দ কিংবা ইউটিলিটি ভবনেই যথাযথ শ্রেণীকক্ষের ব্যবস্থা করে যেন শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দূর করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চারুকলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের বিভাগে মোট ক্লাসরুম চারটি।আমরা এতটাই হতভাগা যে সিড়িতে বসে ক্লাস করতে হয়।এরকম ক্লাস করতে খুব খারাপ লাগে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের বিভাগে এমনিতেই শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে। তারপর আবার বেঞ্চ,টুলও পর্যাপ্ত নেই।এগুলোর অভাবে মাঝে মধ্যে অনেকে দাঁড়িয়ে ক্লাস করে।

এ ব্যাপারে চারুকলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বজলুর রশীদ খান বলেন, প্রশাসন থেকে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অতিদ্রুত নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন করে সেখানে আমাদের জন্য কিছু শ্রেণিকক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান শামস্ শাহরিয়ার কবি বলেন, বিভাগের শ্রেণিকক্ষ সংকটের কথা প্রশাসনকে জানিয়েছি।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সংকট ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।ফলে এই সংকট দূর হচ্ছেনা।

সঙ্গীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আলী এফ. এম রেজোয়ান বলেন, বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমরা বিভিন্ন সংকটে ভুগছি।নতুন ভবনের কাজে বিলম্ব হচ্ছে বলে বিভাগ সেখানে স্থানান্তর করা যাচ্ছেনা৷ এখন আমরা অপেক্ষা করছি কাজ শেষ হওয়ার জন্য।

সার্বিক বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, শ্রেণিকক্ষ সংকট কাটানোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।শ্রেণিকক্ষ সংকটের জন্য শিক্ষার্থীরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন ভবনের অসম্পন্ন শ্রেণিকক্ষগুলোর কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক মাসের মধ্যে সেখানে অন্তত ৫-৬টি শ্রেণিকক্ষ ক্লাস নেওয়ার উপযোগী করার কাজ শুরু হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবিত্ত, গরীব শিক্ষার্থীদের বিষ দিন’

জবি প্রতিনিধি: ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবিত্ত, গরীব শিক্ষার্থীদের বিষ দিন। আমরা বিষ খেয়ে মরে যাই। আমাদের পরিবার …

error: Content is protected !!