প্রতিটা গাছ একেকটা বিলবোর্ড

প্রাণের স্পন্দন যেখানে খুঁজে পাওয়া যায় এ যেন তারই সাথে যেন নিষ্ঠুরতম আচরণ।লোহা আর পেরেকে ক্ষত-বিক্ষত গাছগুলি, ক্ষত-বিক্ষত শরীরে প্রচন্ড যন্ত্রনা নিয়ে নিরবে যেন দাঁড়িয়ে আছে। গাছে বড় বড় পেরেক দিয়ে সাঁটানো হয়েছে ছোট বড় সাইনবোর্ড আর বিলবোর্ড। যেন দেখার কেউ নেই!

উপমহাদেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানি জগদীশ চন্দ্র বসু প্রমান করেছেন বৃক্ষের যেমন জীবন আছে,তেমনি তার যন্ত্রনা অনুভবের বিষয়টিও রয়েছে।
অথচ আমরা অক্সিজেন ফ্যাক্টরি নামে খ্যাত গাছগুলির শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে একদিকে যেমন অমানবিক কাজ করছি অন্যদিকে গাছটি নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনী শক্তি হারিয়ে মারা পড়ছে এ যেন প্রতিটি প্রাণের স্পন্দন এর সাথে প্রতারণা, গাছ মানুষকে দিয়েছে তার সর্বস্ব দিয়েছে কোমল হিমেল বাতাস দিয়েছে অক্সিজেন আর, অপর প্রান্তে নিয়েছে মানুষের বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস। যা পরিবেশের বর্জ্য শুধুই তা না মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রেই রয়েছে তার অবদান যা অপরিসীম তবে মানুষকে এতকিছু দিয়ে ও গাছ পেয়েছে শুধু লাঞ্ছনা কষ্ট অনুভূতি এ যেন মানুষের অমানবিক আচরণ।

গাছ মানুষের পরম বন্ধু। গাছ যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, তেমনি আর্থিকভাবেও উপকার করে। কিন্তু আমরা গাছের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করে থাকি। প্রয়োজনে–অপ্রয়োজনে গাছকে হত্যা করার অলিখিত প্রতিযোগিতা চলছে যেন সর্বত্র।

সাইনবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুন ও বিজ্ঞাপন। পিছিয়ে নেই বিভিন্ন স্কুল,কলেজ , মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিং সেন্টারগুলোও। এসব ব্যানার, ফেস্টুন, বিজ্ঞাপন ঝোলানো হয়েছে পেরেক ঠুকে। একেকটি গাছ যেন একেকটি বিজ্ঞাপন বোর্ড। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এভাবে গাছে পেরেক ঠোকা হচ্ছে, অথচ তা দেখার কেউ নেই। আসলে কারও এ বিষয়ে কোনো মাথাব্যথাই নেই।

সারা দেশেই এ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পোস্টার, ব্যানার ও বিজ্ঞাপনে এমনভাবে ছেয়ে গেছে যে কোনটা কোন গাছ, তা আর চেনার উপায় থাকে না। এটা খুবই বিপজ্জনক একটি ব্যাপার। পরিবেশ বিদদের মতে, পেরেক লাগানোর কারণে গাছের গায়ে যে ছিদ্র হয়, তা দিয়ে পানি ও এর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব ঢোকে। এতে গাছের ওই জায়গায় দ্রুত পচন ধরে। ফলে তার খাদ্য ও পানি শোষণপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এতে গাছ মারাও যেতে পারে। তাই কোনো গাছে পেরেক ঠোকা মানে ওই গাছের চরম ক্ষতি করা। যেখানে আমাদের বেশি করে গাছ লাগানো এবং গাছের পরিচর্যা করা প্রয়োজন, সেখানে আমরা উল্টো গাছের ক্ষতি করে চলেছি।

এভাবে রাজনৈতিক দলের প্রচারণা বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য গাছ ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। একান্ত প্রয়োজন দেখা দিলে গাছের গায়ে তার বা রশি দিয়ে তা বেঁধে ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো যেতে পারে। কোনোভাবেই পেরেক ঠোকা চলবে না। গাছে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড না লাগানোর বিষয়ে ২০০২ সালের ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে একটি আইন পাস হয়। কিন্তু শুধু কাগজপত্রেই আইনটি আছে। বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ নেই। এই আইনটি সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে এবং এর প্রয়োগ ঘটাতে হবে। গাছ রক্ষায় প্রয়োজনে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। তা না হলে গাছের গায়ে পেরেক ঠোকা কখনোই বন্ধ হবে না। পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে উদ্যোগ নেয়া উচিৎ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের উধার্থ আহ্বান’ করি এ জীবন্ত বৃক্ষ গুলোকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

লেখক: রহমতউল্লাহ আসিকুর জামান নুর

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

শীতের আগমনী বার্তায় খেজুর রস

  শীতের আগমনী বার্তা হিসাবে গাছিরা খেজুর গাছ ঝরা শুরু করেছে। এই সময়টিতে তারা সারাদিন …

error: Content is protected !!