তিন দশকেও আধুনিক হয়নি ঝালকাঠির বাস টার্মিনাল

 

মোঃ নাঈম হাসান ঈমন ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃদেশের ৬৩টি জেলা শহরে আধুনিক বাস টার্মিনাল থাকলেও নেই, ঝালকাঠিতে। ৩৩ বছর আগের জরাজীর্ণ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নিয়ে নাজেহাল বাস মালিক সমিতি ও যাত্রীরা। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা আর শীতে ধুলাবালিতে নাকাল সবাই।গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি ঝালকাঠির জেলা বাস টার্মিনালে। গত ৩৩ বছর ধরে বাসটার্মিনালটি চলছে সেই আগের নিয়মেই।জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে এক একর জমির উপর স্থাপন করা হয় ঝালকাঠি জেলা বাস টার্মিনাল।

এমনই জরাজীর্ণ অবস্থা ঝালকাঠি জেলা শহরের বাস টার্মিনাল মালিক সমিতি ভবনের। নেই যাত্রী ছাউনি, টয়লেট কিংবা বিশ্রামাগার। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলায় দুর্গন্ধে নাজেহাল যাত্রী, বাস চালক ও শ্রমিকরা। খানাখন্দে ভরে গেছে টার্মিনাল এলাকা। সীমানা প্রাচীর না থাকায় চুরি হয়ে যায় বাসের যন্ত্রাংশ। জরাজীর্ণ টিকিট কাউন্টারগুলোতে বসে থাকাও দায়।

ঝালকাঠির সাথে প্রতিদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার দুরপল্লার বাসসহ অভ্যন্তরীন ৮ রুটে শতাধিকের বেশি বাস চলাচল করে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার সাথে সরাসরি ও ভায়া হয়ে শতাধিক যাত্রীবাহী বাস ছাড়ে এই টার্মিনাল থেকেই। এতে কয়েক হাজার যাত্রীকে চলাফেরা করতে হয় এই টার্মিনাল হয়ে। বেশিরভাগ দূরপাল্লার বাসই টার্মিনালে ঢুকতে না পারে, যাত্রী ওঠা নামা করে রাস্তায়। এতে দুর্ঘটনাও বাড়ছে দিন দিন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস টার্মিনালে জায়গা সংকট রয়েছে। নেই কোনও সীমানা প্রাচীর, যাত্রী ছাউনি, উন্নতমানের পাবলিক টয়লেট আর বিশ্রামাগার। ডাস্টবিন ও পয়নিঃস্কাশনের ব্যবস্থা নেই বাসটার্মিনাল এলাকায়। টার্মিনাল জুড়ে রয়েছে উচুঁ-নিচুঁ গর্ত আর খানাখন্দ। এতে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা আর শীত বা শুষ্ক মৌসুমের ধুলা-বালিতে নাকাল যাত্রী, চালক ও হেলপারসহ এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি পাবলিক টয়লেট থাকলেও ভাঙ্গাচুরা,দূর্গন্ধ অবস্থায় অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। তবুও পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের জনপ্রতি ৫ ও ৭ টাকা করে আদায় করছে ইজারা নেয়া এক নারী । আরও দেখা গেছে, জরাজীর্ণ আর জোড়াতালি দেয়া কাউন্টারে চলছে টিকিট বিক্রির কাজ। ডাস্টবিন না থাকায় স্থানীয় দোকান ও যাত্রীদের ফেলা বর্জ্য এবং মলমূত্রের দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাফেরা করতে হচ্ছে। এতে পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।

এছাড়াও বাস টার্মিনালে পাকা সীমানা প্রাচীর বা কাঁটাতারের কোনও ভেড়া না থাকায় প্রায়ই বাসের ডিজেল, গিয়ার অয়েল, টায়ার, অতিরিক্ত টায়ারের রিং, সিসি ক্যামেরাসহ অনেক যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। শাহিনুর মরিয়ম নামে এক যাত্রী জানান, ঝালকাঠি বাস টার্মিনালে আসলেই তার মনে হয় কোনও পরিত্যক্ত জায়গায় এসেছেন। নোংরা, ময়লা-আবর্জনা আর ধুলা-বালির মধ্য দিয়েই নিয়মিত বরিশালে যাতায়াত করতে হয় তাকে। অবস্থার পরিবর্তন ও যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কেউ এগিয়ে আসেন না বলেও তার অভিযোগ।

ঝালকাঠি বাস টার্মিনালে থাকা এক চালক জানান, এই বাস টার্মিনালে সমস্যার শেষ নেই। বাস নিয়ে এসে এখানে বিশ্রামেরও সুযোগ হয় না চালকদের। তাছাড়া সীমানা দেয়াল বা বেড়া না থাকায় বাসের যন্ত্রাংশ চুরি হয়। ফলে চুরি এড়াতে রাতে বাসের মধ্যেই থাকতে হয়। তিনি আরও জানান, বর্ষাকালে টার্মিনালে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে বাসের চাকা পড়লে উঠাইতেও অনেক কষ্ট হয়। তাই নিরাপদে বাস রাখা, চালক, হেলপারদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাসহ বাস টার্মিনালটি আধুনিক করার দাবি সংশ্লিষ্টদের সবার।

এক টিকিট কাউন্টার কর্মী জানান, নোংরা পরিবেশ, পাশে ফেলানো ময়লা আর্বজনার দুর্গন্ধ ও ভাঙা কাউন্টারেই তাদের টিকিট বিক্রি করতে হয়। শুধু শুনা যায় টার্মিনালটি সংস্কার করা কিন্তু কোনও কোনও কাজ দৃশ্যমান হয় না বলেও জানান তিনি। দেশের সব জেলায় আধুনিক বাস টার্মিনাল থাকলেও নেই ঝালকাঠিতে। তাই একটি আধুনিক বাস টার্মিনালের দাবি ঝালকাঠিবাসীর।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বেদে সম্প্রদায়ের মাঝে সম্মিলিত সাংবাদিক সমিতির ঈদ উপহার প্রদান

সিয়াম: শরীয়তপুরের ডামুড্যায় বেদে সম্প্রদায়ের মাঝে সম্মিলিত সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ …

error: Content is protected !!