শেরপুরের নকলায় পৌঁছাছে করোনার ২৫৩০ডোজ ভ্যাকসিন

রাইসুল ইসলাম রিফাত (শেরপুর প্রতিনিধি): শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় বহুল প্রতীক্ষিত করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) এর ২৫৩ টি অ্যাম্পুলে (ভায়াল) এসে পৌঁছেছে। প্রতিটি অ্যাম্পুল থেকে নির্ধারিত মাত্রায় ১০ জনকে টিকা দেওয়া সম্ভব। এহিসেব মতে ২৫৩ টি অ্যাম্পুলের মাধ্যমে উপজেলার মোট ২ হাজার ৫৩০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। তাছাড়া এসকল টিকা সঠিকভাবে প্রদানের জন্য ২টি বক্সে করে ০.৫ এমএল ৪ হাজার ৮০০ টি সিরিঞ্জ পৌঁছেছে।

৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরের দিকে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যম্বুলেন্সে করে শেরপুর সদর হাসপাতাল থেকে টিকাগুলো নকলায় আনা হয়। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত একটি বক্সে সরবরাহ করা টিকাগুলো গ্রহনের পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক নির্ধারিত তাপমাত্রায় নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ভ্যাক্সিন ও সিরিঞ্জ বুঝে নেওয়ার সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আহাম্মেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সৌরভ কুমার সরকার, ডেন্টাল সার্জন ডা. নাজমুস সাকিব, নকলা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আবুল হাসিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরকার, স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম ও ফরমান আলী, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) আব্দুর রহিম, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট আবু কাউসার বিদ্যুৎ, সেনেটারী ইন্সপেক্টর হাসান ফেরদৌস আলমসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ১০ টায় মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশব্যাপী একযুগে উদ্বোধন করার সাথে সাথে নকলাতেও টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। টিকাদান কর্মসূচি সফলতার সহিত সম্পন্ন করতে উপজেলার ৪৮ জন স্বেচ্ছাসেবী কর্মী ও ২৪ জন টীকাদান কর্মীকে এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা আলাদা বুথ, বেড, অবজারভেশন রুমসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, নকলা উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ৯টি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি টিকাদান কেন্দ্র থেকে এসকল টিকা দেওয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬ সদস্যের একটি দল কাজ করবেন। এর মধ্যে ২ জন টিকাদান কর্মী ও ৪ জন স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন। প্রথম পর্যায়ে ভ্যাক্সিন পাবেন স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, মিডিয়াকর্মীসহ বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ। জেলা সদরে ৮টি ভ্যাক্সিন টিম ও জেলার অন্য ৪টি উপজেলায় ২টি করে ভ্যাক্সিন টিম কাজ করবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দায়িত্বশীল এবং ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের আগে টিকা দেওয়া হবে। বেশ কয়েকদিন ধরে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ও তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপে যেসকল ভ্যাক্সিন এসেছে, চলতি বছরের ১৬ এপ্রিলে সেসকল ভ্যাক্সিনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে। ৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১০ পর্যন্ত নকলা উপজেলা থেকে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা লোকের সংখ্যা দুইশ’র কোটা ছাড়ায়নি বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরাদ্দকৃত ভ্যাক্সিনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ রেজিস্ট্রেশন ও টিকাদান সম্ভব হবে। তিনি জানান, অনলাইনে নিবন্ধনকৃত ব্যক্তিদের করোনার টিকা দেওয়ার পরে তাদেরকে অন্তত ৩০ মিনিট সুরক্ষা ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। পর্যবেক্ষণকালে কোন ব্যক্তির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাৎক্ষণিক বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম তাদেরকে চিকিৎসা দিবেন বলে জানা গেছে। ভ্যাক্সিন নিয়ে কোন প্রকার গুজব না ছড়িয়ে, সবাইকে এই ভ্যাক্সিন কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে আহবান জানান ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। ভ্যাক্সিন কার্যক্রমে সহযোগিতার অংশ হিসেবে নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফেইসবুক পেইজসহ বিভিন্ন দপ্তরের নামে খোলা ফেইসবুক পেইজ এবং নকলা ইয়্যুথ রিপোর্টার্স ক্লাবের সকল সদস্যসহ ফেইসবুক ব্যবহারকারী বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর জনগন জনসচেতনতা বাড়াতে করোনা ভাইরাসের টিকা পেতে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের লিংকসহ পোস্ট করেছেন।

উল্লেখ্য, শেরপুর জেলার জন্য ৩৬ হাজার ডোজ করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) এর ভ্যাক্সিন এসেছে। যদিও জেলায় প্রায় ৪০ হাজার ডোজের চাহিদা রয়েছে। ২৯ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে ভ্যাক্সিন গুলো বুঝেনেন শেরপুর সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনওয়ারুর রউফ। এরইমধ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তরফ থেকে ডাক্তার, ৩৬ জন নার্স ও ৭২ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জে দূর্বৃত্তের অতর্কিত হামলায় গোয়েন্দা পুলিশ আহত

ঢাকার কেরানীগঞ্জে দূর্বত্তের অতর্কিত হামলায় মো: ইমাম হোসেন (৩৪) নামে এক গোয়েন্দা পুলিশ আহত হয়েছে। …

error: Content is protected !!