ঝালকাঠিতে হাঁস পালনে ভাগ্য ফিরিয়েছে দুই কলেজছাত্রের

মোঃ নাঈম হাসান ঈমন ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ হাঁস পালনে ভাগ্য ফিরিয়েছে ঝালকাঠির রাজাপুরের ছোট কৈবর্তখালি গ্রামের আলিম সিকদারের ছেলে কলেজ ছাত্র রাসেল ও রাকিব সিকদার। করোনায় কলেজ বন্ধ থাকায় বাড়িতে বেকার সময় কাটাচ্ছিলেন রাসেল-রাকিব। সময়কে কাজে লাগিয়ে হাঁসের খামার করে বর্তমানে ডিম বিক্রি করে প্রতিদিন আয় করছেন প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে কলেজ ছাত্র রাসেল সিকদার জানান, গত ২০২০ সালের মার্চে মাসের শেষের দিকে করোনার জন্য স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা হাঁসের ফার্ম করার জন্য উদ্যোগ নেন। বাড়ি থেকে উত্তর দিকে একটি খালের পশের পাকা সড়কের বিপরীতে কৃষি জমি কেটে উঁচু করে হাঁস পালনের উপযোগী একটি কাঠ-টিনের একটি ঘর নির্মাণ করেন। পানিতে হাঁস পালনের জন্য ওই ঘরের সামনের প্রায় দুইশ গজ খাল জাল দ্বারা বেড়া দিয়ে আটকে দেন।

ঘরটিতে বিদ্যুত সংযোগ দেন এবং নির্দিষ্ট এলাকাটি সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে নেন। প্রতিটি হাঁসের বাচ্চা ৩৫ টাকা দরে এগারোশ ক্যাম্পেল জাতের হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করেন। এতে তাদের খরচ হয় প্রায় দেড়লক্ষাধিক টাকা। হাঁসগুলো সার্বক্ষণিক দেখাশুনা করার জন্য দুইমাস আগে থেকে এলাকার আবু সালের মাদ্রাসা পড়–য়া ছেলে মিরাজ (১১) কে মাসে ২ হাজার টাকা বেতনে রেখেছেন বলেও জানান রাসেল সিকদার।

তারা জানান, প্রতিদিনের খাবারের সাথে পশু সম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকারের প্রায় দুইশ টাকার পরিমাণ ঔষধ খাওয়াতে হচ্ছে। বর্তমানে নয়শ হাঁসের মধ্যে প্রতি দিন ৫শত থেকে ৬শত ডিম দেয়। প্রতি হালি ডিম ৪৫ টাকা দরে ফার্ম থেকে পাইকার এসে ক্রয় করে নিয়ে যায়। ভবিষ্যতে এই ফার্ম বড় করা এবং পাশাপাশি গরু অথবা মুরগির ফার্ম করার ইচ্ছা আছে তাদের। এদিকে, এ খামার দেখে ওই এলাকার অন্য বেকার যুবকদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ সাজেদুল ইসলাম জানান, পশু হাসপাতালের যারা ফিল্ডে কাজ করেন তারা ওই ফার্মের খোজ খবর নিচ্ছেন এবং পরামর্শ দিচ্ছেন। অপরদিকে, ফার্মের লোকজন এসে হাসপাতাল থেকে ঔষধ নেন। তিনি আরো জানান, ফার্ম কর্তৃপক্ষ চাইলে হাসপাতাল কাছ থেকে একটি প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে করোনাকালীন সরকারের দেয়া প্রনোদণা থেকে ব্যাংক দিয়ে পাঁচ শতাংশ মুনাফায় সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

নন্দীগ্রামে ধান কাটার ধুম, কৃষকের মুখে হাসি

অসীম কুমার, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার নন্দীগ্রামে শ্রমিক সংকট নিয়েও চলছে বোরো ধান কাটার ধুম। …

error: Content is protected !!