তদারকির অভাব, কেরানীগঞ্জে অনেক রেস্তেরায় মানহীন খাদ্যে ঝুকিতে ভোক্তারা

রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে কাছের উপজেলা হওয়াতে কেরানীগঞ্জের গুরুত্ব বেড়ে চলেছে দিন দিন। এছাড়া সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় রাজধানীর মানুষজন একটু অবসর পেলেই কেরানীগঞ্জে ছুটে আসে প্রাকৃতি সৌন্দর্য ও আনন্দ উপভোগ করার জন্য।

আর এ সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে কেরানীগঞ্জে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্যাফে ও রেস্তোরা। শুধু রাজধানীবাসী নয় ছুটির দিন বা অবসরে কেরানীগঞ্জবাসীও ভীড় করে এইসব ক্যাফে ও রেস্তোরাতে। তবে প্রশাসনের সঠিক নজরদারির অভাবে এ সমস্ত ক্যাফে ও রেস্তোরার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন রান্নার পরিবেশ,খাদ্যের অযৌক্তিক দাম,বাসি ও মানহীন খাবার পরিবেশনসহ নানা অভিযোগ নিয়ে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়, খোলা জায়গায়, পাড়া মহল্লায় আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে অসংখ্য রেষ্টুরেন্ট।

এ সমস্ত ক্যাফে রেস্তেরাগুলোর অধিকাংশের নেই রেস্তোরা ব্যবসার লাইসেন্স। শুধু মাত্র একটি ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে ব্যবসা চালিয়ে আসছে অনেকে। যাদেরও রেস্তোরা ব্যবসার লাইসেন্স আছে, লাইসেন্স দেয়ার আগে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না এসব ক্যাফে রেস্তেরার খাবারের পরিবেশ ও মান। ফলে একদিকে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুকি অন্যদিকে ভোক্তারা ঠকছে খাবারে । দিন দিন এভাবে চলতে থাকলেও দেখার যেন কেও নেই। শুধু মাত্র মাঝে মাঝে কিছু কিছু মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও তা নামমাত্রই।

 

কেরানীগঞ্জে কতগুলো ক্যাফে রেস্তোরা রয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে।

বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তেরা-২০১৬ (সংশোধিত) বিধি অনুসারে দেশের হোটেল রেস্তোরাগুলোকে এ, বি, সি ও ডি এই চার ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। সবশ্রেনীর রেস্তোরাঁর জন্যই রয়েছে ন্যূনতম ২৪ ধরনের বিধি।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রান্নাঘর, রান্নায় ফ্রেশ তেল ব্যবহার,পরিবেশনকারীদের নির্দিষ্ট পোশাক, রান্না ও বাসনপত্র ধোয়ার পরিষ্কার বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার, উচ্ছিষ্ট খাবার অপসারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুম, প্রশিক্ষিত বাবুর্চি দিয়ে রেস্তরাঁ পরিচালনা, নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা,যুক্তিসংগত মূল্য তালিকা, অভিযোগ বাক্স থাকা ইত্যাদি বিষয়গুলোও রয়েছে বিধিতে। উন্মুক্ত স্থান বা রাস্তার পাশে রান্না নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিধিতে।

সরেজমীন কেরানীগঞ্জের বেশ কিছু ক্যাফে ও রেস্তোরায় গিয়ে দেখা গেছে এসমস্ত বিধির কিছুই মানা হচ্ছে না। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান এগুলো মেনে চললেও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। রেস্তোরা গুলোতে মানা হচ্ছে না হোটেল ও রেস্তেরা পরিচালনা বিধি, ফলে স্বাস্থ্যঝুকিতে পড়ছে ভোক্তারা। এছাড়া খাবারের মান ও দাম নিয়েও রয়েছে অনেক ভোক্তার অভিযোগ।

মো: শাহনেয়াজ হোসেন লাকি নামে স্থানীয় একজন বলেন, গত দুই বছরে কেরানীগঞ্জে অসংখ্যা ক্যাফে ও রেষ্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। অনেক রেষ্টুরেন্ট ই আছে কোন মতে একটি জায়গা নিয়ে হোটেল ব্যবসা চালু করেছে। প্রশাসনের ঠিক মতো তদারকির অভাবে এসব খাদ্য দ্রব্যের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। খাদ্যের মান সম্পর্কে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দরকার।

কথা হয় শ্রাবনী আক্তার আশা নামে এক তরুনীর সাথে। তার বাসা রাজধানীর মোহাম্মদপুরে। তিনি জানান, প্রতি সপ্তাহেই একবার কেরানীগঞ্জের প্রাকিতৃক পরিবেশের টানে ঘুড়তে আসা হয়। কেরানীগঞ্জের অধিকাংশ রেষ্টুরেন্ট ই শুধু মাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছে। কিন্তু খাবারের মানের দিকে অনেকের ই কোন নজর নেই । শুধুমাত্র ঘুড়তে আসার কারনেই এখানে খাবার কিনে খেতে হয়। অনেক রেষ্টুরেন্ট ই কোনমতে দায়সারা ভাবে খাবার সরবরাহ করে। ফলে ভোক্তারা সঠিক দামে ন্যায্য মানের খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। খাবারের মান আরো ভালো করা উচিত।

কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা শারমিন আহমেদ নামে অপর এক তরুণী জানান, বেশির ভাগ রেষ্টুরেন্ট ও ক্যাফে গুলোতে বাহির দিয়ে চাক চিক্যে ভরা কিন্তু খাবারের মান তেমন ভালো না। ঠিক যেন ওপর দিয়ে ফিটফাট ভেতর দিয়ে সদরঘাট। ছুটির দিন গুলোতে মানুষ এসব রেষ্টুরেন্টে ঘুড়তে আসে। আর অতিরিক্ত ভীড়ের কারনে তাদের ডিমান্ড বেড়ে যায় কয়েকগুন। তারা কোন মতে খাবার পরিবেশন করে থাকে। খাবারের দাম ও অযৌক্তিক। প্রশাসন এ সব বিষয়ে ঠিক মতো তদারকি করলে খাদ্যের মান ও ভালো হতো, জনগনের উপকার ও হতো।

 

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত দেবনাথ বলেন, কেরানীগঞ্জে যত্রতত্র ক্যাফে রেস্তোরা হয়ে যাওয়াতে আমরা প্রতিটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে লিস্ট পাঠিয়েছি , তারা ক্যাফে রোস্তোরার ব্যাপারে অবগত আছে কি না জানার জন্য। খাবারের মানের বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানলাম। জন সাধারনের স্বাস্থ্য ঝুকির বিষয়টি মাথায় রেখে, ক্যাফে রেস্তরাগুলোর খাবারের মান, খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়গুলো যেন যথাযথ ভাবে নিশ্চিত করার জন্য এখন থেকে ক্যাফে রেস্তোরাগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

মরাদেহটি উদ্ধার

বুড়িগঙ্গা থেকে অজ্ঞাত তরুনীর ভাসমান লাশ উদ্ধার

বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অজ্ঞাতনামা (২০) তরুনীর ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুরে দক্ষিণ …

error: Content is protected !!