অশ্রু-জলে সিক্ত হাজারো চোখ

সজিবুল ইসলাম হৃদয়:  অধ্যক্ষ প্রফেসর হবিবুর রহমান স্যার অত্যন্ত বন্ধুত্বসুলভ ছিলেন, কারণ প্রতিটি বিষয় তাঁর কাছে বিনা বাধায় শেয়ার করা যেত। স্যারকে কোনো সমস্যার কথা বললে তিনি তা সমাধান করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতেন। তিনি সবসময় অনুপ্রেরণা জোগাতেন এবং বলতেন তুমি পারবে এবং আমরা তা সত্যিই পারতাম। এমন একজন মানুষকে আমরা সহজে হারাতেও দিবনা। আপনার কীর্তিকর্ম জেগে থাকবে এই রাজশাহী কলেজের প্রাণের গহিনে – আবেগময় কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহী কলেজের বাংলা ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আনিকা ইসলাম।

শুধু আনিকায় নয় বিদায়ের করুণ সূরে সবার মন ভারাক্রান্ত, বিষন্নতায় আচ্ছন্ন তাদের হৃদয় মন। অশ্রু-জলে সিক্ত হাজারো চোখ। একে অন্যের চোখের দিকে তাকানোর সাহস হারিয়ে ফেলেছিলো। চেষ্টা করেছে লুকিয়ে রাখতে। তবে তা কি আর সম্ভব! দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাসের পূর্বপাশের খেলার মাঠে প্রস্তুতিকৃত মঞ্চে চোখ যেন বার বার অধ্যক্ষ স্যারকেই খুঁজে ফিরে।

 

ভূগোলের শিক্ষার্থী ইমন আলী বলেন, বিদায় কয়েক রকমের হয়। প্রতিটা বিদায়ের পেছনে কিছু না কিছু স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। তবে অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান স্যারকে নিয়ে তার সাথে ঘটে যাওয়া কোন স্মৃতি নেই। কিন্তুু কলেজ ভর্তির পর থেকেই দিনে দিনে তাঁর সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দূর থেকেই দেখার চেষ্টা করেছি বাবা ও শিক্ষকের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু। তবে আমি তার মধ্যে এতটুকু পার্থক্য দেখিনি। দেখেছি শিক্ষার্থীদের প্রতি মানুষটার ভালোবাসা, মানুষটার আন্তরিকতা।

 

এদিন আবেগাপ্লুত কন্ঠে অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান বলেন, কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেমন শাসন করেছি, তেমনি অন্তর থেকে ভালোবেসেছি। তাদের সঙ্গে আমার যে বন্ধন তা কখনো ছিঁড়বে না। এরমধ্যে দিয়েই কলেজের অন্য রকম পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি আমি চলে গেলেও এ কলেজের পরিবেশ এমনই থাকবে। রাজশাহী কলেজ আমার প্রাণ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবিত্ত, গরীব শিক্ষার্থীদের বিষ দিন’

জবি প্রতিনিধি: ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নবিত্ত, গরীব শিক্ষার্থীদের বিষ দিন। আমরা বিষ খেয়ে মরে যাই। আমাদের পরিবার …

error: Content is protected !!