শুধু নিজেরই নয় অন্যদেরও পথ দেখিয়েছেন আবিদ

সজিবুল ইসলাম হৃদয়ঃ মহামারি করোনা ভাইরাস সমস্ত পৃথিবীকে থমকে দিয়েছে। থমকে দিয়েছে বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক চাকা। টানা লকডাউনে বন্ধ হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মানুষের আয়-রোজগারের পথ। তবে এমন অবস্থার মধ্যেও নতুন উদ্দোক্তা হিসাবে সফল হয়েছেন অনেকে। বেকারত্বের অভিশাপ মোচনে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, হয়েছেন নতুন উদ্যোক্তা। শুধু নিজেরই নয়, অন্যদেরও কর্মসংস্থানের পথ দেখিয়েছেন। তাদেরই একজন সম্ভান্ত্র পরিবারের সন্তান চায়না শিডিয়ান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আবিদ রহমান (২২)।

বাবার স্বপ্ন ছিলো প্রকৌশলী হওয়া, বাবার স্বপ্ন পূরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। রাবিতে থাকা কালীন স্কলারশীপ হওয়ায় চায়না শিডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ায় রাবির ইতি টেনেছেন। কোভিড-১৯ এর জন্যেই চায়নাতে যাওয়া হয়ে উঠে নি। তাই অবসর এই সময়টাতে নিজেকে ভিন্ন ধর্মী উদ্দোক্তা হিসেবে নিজেকে আবিষ্কার করেন রাজশাহীর পদ্মা গার্ডেন এলাকায়। স্যুট-বুট পড়েই বিক্রি করছেন খুলনার বিখ্যাত চুই ঝালের ঝালমুড়ি।


যশোর অভায়নগরের সভ্রান্ত পরিবার থেকে উঠে আসা আবিদের বাবা প্রথম জীবনে শিক্ষক থাকলেও পরবর্তীতে শিক্ষকতা ছেড়ে ব্যবসার হাল ধরেছেন। গৃহিনী মা ১৯৭৮ সালে এসএসসি পাশ করেছেন। বড় ভাই সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও জার্মানী থেকে এমএসসি করে হংকং সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। বড় ভাবি রাবি থেকে এলএলবি এবং এলএলএম সম্পন্ন করেছেন। মেঝভাই খুলনা বিএল কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে নগদে চাকুরী করেন।

 

তবে তিনি কেন এই পেশাতে আসলেন তার জাবাবে তিনি বলেন, একজন উদ্যোক্তা হিসাবে ইউনিক কিছু করতে চেয়েছি। ইউনিক কিছুর মধ্যে অনেকে দেখছি মধু, ঘি, খেজুর গুড়, পোশাক সহ বিভিন্ন আইটেম নিয়ে কাজ করছে। তখন নতুন কিছু  হিসেবে দেখলাম মানুষের মুখে ভিন্নধর্মী স্বাদ দিতে হবে, তখন এই ঝালমুড়ি বিক্রির কথা চিন্তা করি। তখন ভাবলাম ঝালমুড়ি অনেকে বিক্রি করে, তাদের টা রেখে আমারটা কেন খাবে! এ চিন্তা থেকে ঝালমুড়িতে খুলনার বিখ্যাত চুই ঝাল যোগ করি, যেটা সদাচার রাজশাহীতে পাওয়া যায় না। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৬ অক্টোবর থেকে পদ্মা গার্ডেনে যাত্রা শুরু।

ব্যবসার পুঁজি ও আয় কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুঁজি বলতে তেমন কিছুই না। মাত্র ৭হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করেছিলাম। এখন আমার সঙ্গে আরও ৩ সহকর্মী মাসিক বেতন ভিত্তি কাজ করেন। তারাও স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করছে। স্বল্প সময়ে তার সব আনুষাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন ৪/৫শত টাকা লাভ থাকে বলে জানান তিনি।

কেমন সারা পাচ্ছেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাপক সাড়া পেয়েছি, ঝালমুড়ির সেই পুরাতন স্বাদ নাকি মানুষের মধ্যে আবার ফিরে এসেছে। ক্রেতার মুখে এই কথা শুনলে নিজেকে আর ছোট মনে হয় না। সামনের দিকে ছুটে চলার অনুপ্রেরণা পায়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু রাজশাহী থেকে পথ চলা শুরু তাই রাজশাহীতে আরো ১০টা শাখার খোলার পরিকল্পনা আছে এবং ফ্রেব্রুয়ারী মাসে রাজশাহীতে তার আরও দুইটি শাখা আসছে। স্বপ্ন দেখি দেশের ৬৪ জেলায় ও ৪৯ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ টি করে শাখা রাখতে চাই, যেটা আবিদ মুড়ি ঘর নামে পরিচিত হবে।

বেকারদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, পৃথিবীতে কোন কাজই ছোট নয়। আপনরা চাকুরী না খুঁজে ব্যবসা করুন ৷ এতে নিজে স্বাবলম্বী হবেন৷ অন্যকেও কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

‌আগামী ইউপি নির্বাচনে হাজী মো: নাসির উদ্দিনকে মেম্বার হিসাবে পেতে চায় এলাকার জনসাধারন

দেখতে দেখতে ৫ বছর পেরিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আর মাত্র কিছুদিন পরেই …

error: Content is protected !!