৫ দফা দাবীতে কেরানীগঞ্জে ওয়াশিং ফ্যাক্টরী মালিক সমিতির মানব বন্ধন

ওয়াশিং ফ্যাক্টরীর সাথে জড়িত সাড়ে তিন লাখ শ্রমিক কে বেকার হওয়ার হাত থেকে বাচানো, ওয়াশিং কারখানাগুলো শিল্প জোনে স্থানান্তরে সুযোগ সুবিধা করে দেয়াসহ ৫ দফা দাবীতে কেরানীগঞ্জে মানববন্ধন করেছে ওয়াশিং ফ্যাক্টরী মালিক সমিতি। ২৭ জানুয়ারী বুধবার কেরানীগঞ্জের কদমতলী নুর ইসলাম কমান্ডার চত্তর এলাকায় এ মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানব বন্ধনে কেরানীগঞ্জের ওয়াশিং ফ্যাক্টরির কয়েক হাজার মালিক শ্রমিক অংশ গ্রহন করে।

মানব বন্ধনে অংশ নেয়া ওয়াশিং ব্যবসায়ীরা জানান, কেরানীগঞ্জে বর্তমানে ৮১টি ওয়াশিং ফ্যাক্টরী রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ এ ওয়াশিং ফ্যাক্টরী গুলো এখানে চলে আসছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি ওয়াশিং ফ্যাক্টরী পরিচালনার জন্য আমাদের একটা নির্দিষ্ট জোনে যেতে হবে এখানে ব্যবসা করা যাবে না।। তখন নিজস্ব উদ্যোগে ‘‘কেরাণীগঞ্জ শিল্প পার্ক’’ প্রজেক্টে (বিসিক শিল্প এলাকার পাশে) প্রায় ৫০০ কাঠা জমি কিনে আমাদের ফ্যাক্টরীগুলো সেখানে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু গ্যাস বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সুবিধা না থাকায় আমরা এখন ই দ্রুত সময়ে সেখানে যেতে পারছি না। এ জন্য সেখানে আমাদের গ্যাস বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এবং সময় দিতে হবে।

 

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে আমাদের ওয়াশিং ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। এতে করে হুমকির মুখে পরেছে আমাদের ব্যবসা বানিজ্য। এমনিতেই করোনাকালীন সময়ে আমরা গত বছরের বাকি টাকা মার্কেট থেকে সংগ্রহ করতে পারি নি। দুই মাস পরে ঈদ মৌসুম। এমতাবস্থায় এখণ কারখানাগুলো বন্ধ থাকলে আমরা ধার দেনা কিভাবে পরিশোধ করবো? শ্রমিকদের অনেক মাসের বেতন বকেয়া আছে , তাদের বেতন কিভাবে দিবো ? আমরাই কিভাবে বাচবো আর আমাদের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকরাও কিভাবে বাচবে?

 

 

তাই আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমাদের কারখানাগুলো সামনে ঈদ মৌসুম পর্যন্ত চালাতে পারলে মার্কেট থেকে আমরা আমাদের পাওনা টাকা কালেকসন করতে পারতাম। আমাদের শ্রমিকদের বেতনসহ সকল ধার দেনা পরিশোধ করতে পারতাম। অন্যথায় এভাবে আমাদের ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকলে আমরাও দেউলীয়া হয়ে যাবো । আমাদের কয়েক লাখ শ্রমিক ও বেকার হয়ে অনিশ্চিত জীবন যাপন করবে।

 

 

মানব বন্ধনে ব্যবসায়ীরা যে ৫ দফা দাবী জানায় তা হলো:

*) বন্ধ ফ্যাক্টরিগুলো চালু করে বাজারের বকেয়া পাওনা টাকা উত্তোলনের সুযোগ করে দিতে হবে।

*) শিল্প জোনের ৫০০ কাঠা জমিতে অবিলম্বে গ্যাস, বিদ্যুৎ, সূয়্যারেজ লাইন, রাস্তা -ঘাট ও ই.টি.পিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

*) লোকাল গার্মেন্টস শিল্পে জড়িত সাড়ে তিন লাখ শ্রমিক ও তাদের পরিবার-পরিজন যেন পথে না বসে তাই ফ্যাক্টরী স্থানান্তর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সেগুলো বন্ধ করা যাবে না।

*) শিল্প জোনে দ্রুত কারখানা তৈরি করে শ্রমিকদের রুটি রুজির ব্যবস্থা করতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদান করতে হবে|

*) এবং হটকারী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাদের বিপদগ্রস্থ না করতে আহ্বান জানানো হয়। #

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জে বিভিন্ন খালের তীর ঘেষে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন

ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিভিন্ন খালের তীর ঘেষে গড়ে উঠেছে একাধিক বহুতল ভবন। এসকল ভবনের অধিকাংশের নেই …

error: Content is protected !!