বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন

কেরানীগঞ্জে দেশের সর্ববৃহৎ কড়াই ; প্রতিদিন একসাথে রান্না হবে তিন হাজার অসহায় মানুষের খাবার

দেশের অসহায় পথশিশু, সুবিধা বঞ্চিত দরিদ্র ও অসচ্ছল শিশু ও অসহায় মানুষদের পাশে দাড়াতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সব সময় কাজ করে থাকে। এবার তারা কেরানীগঞ্জের গদাবাগে তৈরী করলো মেগা কিচেন। যেখানে সাড়ে ৮ ফুট ব্যাস ও দুই ফুট গভীর একটি কড়াইয়ে প্রতিদিন রান্না হয় প্রায় তিন হাজার অসহায় মানুষের খাবার।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের তৈরী বিশাল এ কড়াইটার ওজন প্রায় ১ টন। কড়াইতে খাবার রান্না করার জন্য চারটি চুলা একসাথে ব্যবহার করা হয়। এতে প্রায় ১ হাজার কেজির বেশি এক সাথে রান্না করা যাবে। এতো বড়ো কড়াইয়ে রান্নার সময় নাড়া দেয়ার জন্য চারপাশে উচু পাকা টুলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কড়াইটি তৈরী করতে খরচা হয়েছে ২ লাখ টাকা। কেরানীগঞ্জের জিনজিরা থেকেই তৈরী করা হয়েছে কড়াইটি। এতো বড়ো কড়াই কেউ তৈরী করতে রাজি হয় নি। যিনি কড়াইটা তৈরী করেছেন তিনিও কয়েকবার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে কড়াই তৈরীতে না করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অনেক অনুরোধ করার পরে প্রায় তিন মাস সময় নিয়ে তৈরী হয় কড়াইটি। বিদ্যানন্দ দাবী করছে এটিই রান্না করার জন্য দেশে তৈরী সবচেয়ে বড়ো কড়াই।

কেরানীগঞ্জের গদারবাগ এলাকায় মেগা কিচেনে গেলে কথা হয় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এর হেড অব কমিউনিকেশন মো: সালমানের সাথে। সালমান বলেন, করোনার শুরু থেকেই আমরা বড়ো পরিসরে পথ শিশু ও অসহায়দের খাবারের ব্যবস্থা করতে থাকি। এতো লোকের খাবারের আয়োজন বিদ্যানন্দ অনেক আগে থেকেই করে আসছে। তবে আমরা ভাবছিলাম কিভাবে অল্প সময়ে ও অল্প শ্রমে বেশি লোকের খাবারের ব্যবস্থা করা যায়। মূলত শ্রম ও সময় বাচাতেই আমাদের এই মেগা কিচেনের পরিকল্পনাটা মাথায় আসে। পরে আমরা এইখানে মেগা কিচেনটি স্থাপন করি। এই জায়গাটা প্রায় তিন হাজার স্কয়ারফুট। জায়গাটা অনুদান দিয়েছেন স্থানীয় পৃন্টিং ব্যবসায়ী এমদাদুল হক। তিনি নিজেও বিদ্যানন্দের একজন সেচ্ছাসেবক ও দাতা।

তিনি আরো বলেন, তিন হাজার লোকের রান্না করতে অনেকগুলো চুলা লাগতো, পাতিল লাগতো, সময় লাগতো , গ্যাস অপচয় হতো অনেক। আর একসাথে এতো খাবার রান্না করতে অনেক লোকের ও প্রয়োজন হতো। এখন মাত্র ৩-৪ ঘন্টায় মাত্র তিনজন মিলে অনায়েসে ২-৩ হাজার লোকের খাবার রান্না করা যায়, গ্যাসের অপচয় ও কম হয় । বিশাল আকৃতির এই কড়াই তৈরী করার উদ্দেশ্যই ছিলো রান্নার কাজটাকে সহজ করা।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ১ টাকার আহারের খাবার রান্না হয় এই মেগা কিচেনে। গত ১৩ জানুয়ারী চালু হওয়া এই মেগা কিচেনে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন হাজার লোকের খাবার রান্না করা হয়। পরে তা বিলিয়ে দেয়া হয় রাজধানীল মিরপুর,ভাষানটেক,দুয়ারীপারা, রায়ের বাগ সহ আশে পাশের বস্তিগুলোতে। এছাড়াও হাইকোর্ট মাজার, কমলাপুর রেইলওয়ে স্টেশন সহ নানান জায়গায় অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝেও বিলিয়ে দেয়া হয় এই খাবার।

বিশাল এই কড়াইতে প্রতিদিন ২/৩ হাজার লোকের রান্না করতে গড়ে প্রায় আশি হাজার টাকা খরচ হয়। সম্পূর্ন টাকাটাই আসে অনুদানের থেকে। প্রতিদিন এ কড়াইতে রান্না করা শাহী খিচুড়িতে থাকে চাল, ডাল, ডিম, নানান পদের সবজি, এছাড়াও থাকে গরু, খাশি অথবা মুরগির মাংশ। অনেক বড়ো আকারের আয়োজন হলেও স্বাদের সাথে কখোনোই আপোষ করে না বিদ্যানন্দ।

মো: সালমান আরো জানান, বিদ্যানন্দের ১ টাকায় পেট ভরে আহার প্রকল্পটা শুরু হয়েছিলো প্রতিদিন ৩০ জন পথশিশুকে খাওয়ানোর মধ্যে দিয়ে, বর্তমানে এ প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন ২/৩ হাজার অসহায় মানুষ খাবার পাচ্ছে। তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ প্রতিদিন ১ লাখ লোককে খাওয়ানো। তাদের কার্য পরিধি বাড়ানো জন্য অতিদ্রæতই তারা মটর সাইকেলের মাধ্যেমে অসহায়দের মাঝে খাবার পৌছানোর ব্যবস্থা করবে। এছাড়া শুধু ঢাকা নয় ঢাকার বাইরেও অসহায়রা যেন খাবার পায় সেই লক্ষে রান্না করা খাবারের পরিবর্তে অসহায়দের মাঝে খাদ্য উপকরন বিতরনের চিন্তা ভাবনাও আছে বিদ্যানন্দের।


২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর কিশোর কুমার দাসের হাত ধরে নারায়নগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন । বিদ্যানন্দের মোট ১২টি শাখা চালু হয়। কিশোর কুমার দাস পেরুতে থাকেন। বর্তমানে তিনি দেশেই আছেন। তিনি নিজেই সেচ্ছাসেবকদের রান্নার কৌশল শেখাচ্ছেন কয়েকদিন ধরে। মেগা কিচেনের এই পরিকল্পনা সফল হলে দেশব্যাপী বিদ্যানন্দের মেগা কিচেন তৈরী হবে বলেন আশা করছেন ফাউন্ডেশনটি।
মেগা কিচেনে বিশাল আকৃতির কড়াইটির পাশেই বড়ো করে লেখা ‘‘ সেরা সম্পর্কগুলো খাবার শেয়ার থেকে সৃষ্টি হয় ’’ #

 

নিউজ ঢাকা ২৪

আরো পড়ুন: কারাগারের পাশে অবৈধ ইটভাটা

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে বন্ধ হলো বাল্য বিবাহ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ৯৯৯ এ ফোনের মাধ্যেম পুলিশের হস্তক্ষেপে মাহি (১৩) নামে এক নাবালিকা মেয়ের বন্ধ …

error: Content is protected !!