বিদ্যুতের অবৈধ পার্শ্ব সংযোগ দিয়ে রাতারাতি কোটিপতি

কোটিপতি হবার ইচ্ছে সকল মানুষেরই থাকে। কিন্তু সবাই হতে পারে না, কেউ চেষ্টা করে সফল হয় কেউবা বৃথা চেষ্টা করে যায়। সঠিক উপায় জানা না থাকায় সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারে না অনেকেই। তবে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার চুনকুটিয়া চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা হাজী মোঃ সায়মন সে সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন ঠিকই। বিদ্যুতের অবৈধ পার্শ্ব সংযোগ দিয়ে রিতিমত রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন তিনি।

জানা গেছে, চুনকুটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় একটি অবৈধ বাজারে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদ্যুতের অবৈধ পার্শ্ব সংযোগ দিয়েছেন তিনি। প্রায় ২০ বছর আগে তুষার কম্পিউটার নামে একটি ফটোকপির ব্যবসা শুরু করেন তিনি। এরপর থেকে কোন রকম দিনাতিপাত করলেও বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ দেয়ার  পর কপাল খুলে যায় তার। অবৈধ অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে কোটিপতি হয়েছেন তিনি।

বর্তমানে চুনকুটিয়া এলাকার বিজয় টাওয়ারে অর্ধকোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্লাট রয়েছে তার। এছাড়া বেশ কয়েকটি জমি ছাড়াও একই এলাকায় তার রয়েছে ফটোকপি ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। তার তত্বাবধানে রয়েছে বিদ্যুতে প্রায় ৮/১০ টি হেভি লোডের মিটার। এসব মিটার থেকেই তিনি একটি বাজারে ও আশপাশের এলাকায় পার্শ্ব সংযোগ দিয়ে আসছে।

অথচ বিদ্যুৎ আইন ২০১৮ এর ৩৮(খ) ধারা অনুযায়ী লিখিত অনুমতি ব্যতীত মিটার হইতে অন্য কোন ব্যক্তিকে পার্শ্ব সংযোগ প্রদান করিলে; তা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন। এতো কড়াকড়ি আইন থাকলেও অজানা কারণেই তা প্রয়োগ করছে না ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৪ এর শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা। শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকার মধ্যেই প্রকাশ্যে এধরনের অবৈধ কর্মকান্ড করলেও তা আমলে নিচ্ছে না বিদ্যুৎ অফিস।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক চুনকুটিয়া চৌরাস্তা এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, এ বাজারে অবৈধ বিদ্যুত ও জেনারেটর সার্ভিসের নামে সরকারি বিদ্যুৎ বিক্রি করছে সায়মন। তার কর্মচারী মাহবুব প্রতিদিন রাতে বিল কালেকশন করে। বাজারে প্রতিটি লাইটের জন্য তাকে আলাদা করে বিল দিতে হয়। শুধু বাজার থেকেই প্রতিদিন ৪/৫ হাজার টাকা কালেকশন হয়। এছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন অফিস ও বাসাবাড়িতেও তার মাসিক ভিত্তিতে সংযোগ দেয়া আছে।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, সে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনকে ম্যানেজ করেই কাজ করে। তার নামে বিভিন্ন এলাকার আলাদা আলাদা সংযোগ রয়েছে। এক এলাকার বিদ্যুৎ গেলে অন্য এলাকার বিদ্যুৎ দিয়ে সে কাজ চালিয়ে নেয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে তাকে তেল পুড়িয়ে জেনা‌রেটর চালু দিতে হয় না। তিনি আরো বলেন, একই তারের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা অনেক ঝুকিপূর্ণ। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হাজি সায়মন বলেন, ২০০৬ সালের থেকে ক্ষুদ্র আকারে এ বাজারটি চালু হলেও ৮/৯ বছর ধরে বাজারটি ভালভাবে চলছে। আমি বাজারে কোনো অবৈধ বিদ্যুৎ দেই না। যে বিদ্যুৎ দেই নিয়মিত তার বিল দিয়ে আসছি। বাজার থেকে যে লাইট প্রতি ১০/১৫ টাকা কালেকশন হয় সেটা দিয়ে কর্মচারী বেতনও হয়না।

এব্যাপারে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৪ এর শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের ডিজিএম আবু তৈয়ব জহিরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ঐ ব্যাক্তি সব কাগজপত্র দিয়েই সংযোগ নিয়েছেন। বাজারের নামে কাগজপত্র জমা দিয়ে মিটার নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন পরে ফোন দিয়েন সব গ্রাহকের বিষয় আমার জানা থাকে না। পরবর্তীতে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আবার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, লিখিতভাবে অভিযোগ করেন ব্যবস্থা নিবো।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৪ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মাহবুব আলম বলেন, জিএম বলেন, একাধিক মিটার নেয়ার জন্য যে কেউই আবেদন করতে পারে আমরা তদন্ত করে প্রাপ্যতা যাচাই করে মিটার দেই। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে রিসেল করার অধিকার কারো নেই।  এ ধরনের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিবো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বাবা হারালেন সাংবাদিক রাসেল

অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমের নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্য ইসমাইল হোসাইন রাসেলের …

error: Content is protected !!