ইতিহাসের সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি উইলিয়াম জেমস

উইলিয়াম জেমস সিডিস ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন এবং বিজ্ঞানী নিউটন থেকেও অধিক আইকিউ সম্পন্ন। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন ও নিউটন ছিলেন যথাক্রমে আনুমানিক ১৬০ ও ১৫২ আইকিউ ক্ষমতাসম্পন্ন, যেখানে সিডিস এর আইকিউ ছিল আনুমানিক ২৬০! যা এই পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংখ্যা আইকিউ পরিমাপের ক্ষেত্রে। এমনকি বর্তমান সময়ের অন্যতম বিশিষ্ট তরুণ উদ্যোক্তা ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ এর আইকিউও হলো ১৫২।

কিন্তু অসাধারণ এই প্রতিভার অধিকারী হয়েও সিডিস ছিলেন লোকচক্ষুর আড়ালে। খুব কম মানুষই আছেন যারা সিডিস সম্পর্কে জানেন। মূলত ব্যক্তিগত জীবনে সিডিস ছিলেন জনপ্রিয়তাবিমুখ মানুষ। খ্যাতি, যশ এসবের মোহ কখনই তাকে আকৃষ্ট করে নি। আর এই কারণেই হয়তো তিনি ছিলেন লোকচক্ষুর আড়াল।

১৮৯৮ সালের ১লা এপ্রিল নিউইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করা উইলিয়াম জেমস সিডিস ছিলেন একইসাথে তুখোড় গণিতবিদ এবং বহু ভাষাবিদ। মাত্র ১৮ মাস বয়সেই তিনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা সাবলীলভাবে পড়তে পারতেন। ৮ বছর বয়সেই ৬টি ভাষায় (ফ্রেঞ্চ, জার্মানি, রুশ, হিব্র, তুর্কি, আর্মেনিয়ান) পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন সিডিস। এমনকি তিনি এতটাই প্রতিভাবান ছিলেন যে তিনি “ভেন্ডারগুড” নামে নিজের একটা ভাষাও তৈরি করেন।

মূলত সিডিসের বহু ভাষাবিদ হওয়ার পিছনে তার পিতা বরিস সিডিসের ভূমিকাও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। বরিস ছিলেন সেই সময়ের সেরা মনোচিকিৎসকদের একজন। বহু ভাষায় তিনি পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। মূলত ভাষার প্রতি এই টানই তাকে আগ্রহী করেছিল সিডিসকে বহু ভাষার শিক্ষা দেওয়ার জন্য। সিডিস এর মা সারাহ উইলিয়ামস ও ছিলেন সেসময়ের সেরা চিকিৎসকদের একজন। সুতরাং জন্মসূত্রেই সিডিস প্রতিভাবান হবেন এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে তার মেধার প্রখরতা ছিল বরিস ও সারাহ এর ধারণার বাইরে। বরিস এবং সারাহ ছিলেন ইউেক্রন শরণার্থী। শরণার্থীদের মধ্যে অনেকেই নিউইয়র্ক সিটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, এমনকি অনেকেই বোস্টন শহরো।

সিডিসের মেধার জোর ধরেই পিতা বরিস মাত্র ৮ বছর বয়সেই হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। কিন্তু বয়স কম হওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষ বরিসকে ভর্তি করতে রাজি না হলেও, ৩ বছর পরে ১১ বছর বয়সে প্রতিভার দুরন্তপনা দেখে তারা তাকে ভর্তি করতে বাধ্য হন। তুখোড়তার দরুন সিডিস সবক্ষেত্রেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯১০ সালে যখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন তরুণ শিক্ষার্থী তখনই তিনি গণিতের জটিল বিষয় শিক্ষকদের চেয়ে ভালো পড়াতে পারতেন। এমনকি কোনও কোনও বিষয় তাদের চেয়েও ভালো বুঝতেন। অতঃপর তরুণ এই প্রতিভাবান মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তার স্নাতক সম্পন্ন করেন।

আইকিউ পরিমাপের ক্ষেত্রে ১০০ কে ধরা হয় সাধারণ পরিমাপ যেখানে ১৩০ এর উপরের পরিমাপকে বলা হয় অনন্যসাধারণ বা আশীর্বাদপ্রাপ্ত এবং ৭০ এর নিচের পরিমাপকে ধরা হয় কম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন। এবং ধারণা করা হয় সিডিস এর আইকিউ ছিল আনুমানিক ২৫০ এর উপরে এবং তা ছিল ৩টা মানুষের আইকিউ এর সমষ্টি।

লেখকঃ মুহাম্মদ রায়হান আদনান

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

এক অন্য রকম বিয়ে

মোকারিম হোসেন,পাকুন্দিয়া( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ গ্রাম বাংলার সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই ভিন্নধর্মী এই আয়োজন। ২২ …

error: Content is protected !!