শীতে আমলকি কেন খাবেন?

শীতে চাই শরীরের আলাদা যত্ন। আর আলাদা যত্নে প্রয়োজন আমলকি। নিয়মিত আমলকি খেলে অনেক উপকার পাবেন। সর্দি, কাশি ও গলাব্যথা দূর করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোসহ অনেক গুণাগুন রয়েছে আমলকির। স্কার্ভি বা দন্ত্যরোগ সারাতে জুড়ি নেই এই ফলটির। এছাড়া লিভার, জন্ডিস, পেটের পীড়া ও রক্তশূন্যতার জন্যও খুবই উপকারী।

আমলকির আরো যতো গুণাগুণ
শীতে সাধারণত ত্বক ও চুল শুষ্ক হয়ে যায়। প্রতিদিন সকালে আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে ত্বকের কালো দাগ দূর হয় ও উজ্জ্বলতা বাড়ে। আমলকিতে ভিটামিন সি ত্বক ও চুলকে ভালো রাখে। চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে। চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে।

নিয়মিত আমলকি খেলে হজম ক্ষমতা ও খাওয়ার রুচি বাড়ে। খাবারের সঙ্গে আমলকির আচার হজমে সাহায্য করে। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে শরীরকে সুস্থ রাখে। আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এটি রক্তস্বল্পতা দূর করতেও সাহায্য করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আমলকি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে ক্যানসারের কোষ বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। এক গ্লাস দুধ বা পানির সঙ্গে আমলকি গুঁড়া ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দুবার খেতে পারলে অ্যাসিডিটির সমস্যা কমে। আমলকির রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ, চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়।
আমলকির টক ও তেঁতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকির গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন। এতে মানসিক চাপ কমায়। ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী। শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশি মজবুত করে। কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকি অনেক উপকারী। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে আমলকি। এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে।
লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে দাঁত ও নখ ভালো রাখে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বুড়িয়ে যাওয়া ও সেল ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখতে যথেষ্ট সাহায্য করে। এই ফলটি অনেক গুণের একটি ফল হলেও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কিডনি রোগীদের আমলকি খাওয়া উচিত।

আমলকির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে পুষ্টিবিদ ডা. ফারহানা কবির আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমলকিতে পেয়ারার চেয়ে ১০ গুণ ও কাগজি লেবুর চেয়ে ৩ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। এছাড়া আমলকিতে কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। একজন বয়স্ক লোকের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ দরকার, যা দিনে দুটো আমলকি খেলেই পাওয়া যায়।

shijang – Farm stay collagen moist cream
সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী, এটি কোলাজেন সমৃদ্ধ একটি ময়েশ্চারাইজার। কোলাজেনের প্রধান কাজটি হচ্ছে এটি আমাদের দেহের ভেতর একটি ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরি করে যা মৃত কোষকে পুনঃস্থাপন করে নতুন কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং আমাদের স্কিনের Youthfulness ধরে রাখে। স্কিনটাকে আরো সুস্থ্য করে তোলে।

কাজ
* ড্যামেজড স্কিন রিপেয়ার তো করেই সেই সাথে স্কিনকে প অনেক বেশি ব্রাইট করে তোলে। এটা অ্যান্টি অ্যাজিং এর কাজ করে এবং ত্বকের Youthfulness বজায় রাখে।
* স্কিনের Moisture ধরে রেখে স্কিন সেলগুলোকে অনেক Healthy & Firm রাখে।

লেখকঃমুহাম্মদ রায়হান আদনান

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ইতিহাসের সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি উইলিয়াম জেমস

উইলিয়াম জেমস সিডিস ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন …

error: Content is protected !!