শিশু ধর্ষণ

শিশু ধর্ষণ মূল্য আড়াই লক্ষ টাকা !!!

মো:হযরত আলী (লালমনিরহাট, প্রতিনিধি)

লালমনির হাট এ একজন ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় ও উপস্থিতিতে টাকার বিনিময়ে শিশু ধর্ষণ এর ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে ধর্ষককে বাঁচানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) মধ্য রাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস ইউপি চেয়ারম্যান অশ্বনী কুমার বসুনিয়া এই মিমাংসা করেন বলে জানা গেছে।

শিশুটির ইজ্জতের মূল্য’ আড়াই লক্ষ টাকায় মিমাংসা হলেও ধর্ষিতার পরিবার দেড় লক্ষ আর চেয়ারম্যান নিয়েছে ১ লক্ষ টাকা।
এদিকে ধর্ষককে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে না দিয়ে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে টাকার বিনিময়ে মিমাংসা করায় জনমতে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ধর্ষণের ঘটনার পরে ঐ এলাকায় পুলিশ গেলেও পরে থানায় কেন মামলা হয়নি এর উত্তর কারও জানা নেই। তবে পুলিশ বলছে ধর্ষণের শিকার শিশুটির চিকিৎসা শেষে থানায় এসে মামলা করার কথা বললে এখন পর্যন্ত তারা থানায় আসেনি।

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর সোমবার বিকেলে ঐ ইউনিয়নের ধওলাই এলাকার প্রফেসার পাড়া গ্রামে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। এর পর কয়েকদিন ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার ঐ ছাত্রীকে বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়।
অভিযুক্ত ধর্ষক উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের একই গ্রামের ধওলাই গ্রামের বাসিন্দা ধিজেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে নিত্যান্দ রায় (১৬)। ধর্ষণের শিকার ঐ ছাত্রী ধর্ষকের প্রতিবেশী এবং ওই এলাকার পাগলার বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্রী বলে জানান গেছে।

গত ১৮ ডিসেম্বর উপজেলার ধওলাই গ্রামে ধর্ষক নিত্যান্দ রায় তার প্রতিবেশী ২য় শ্রেণির ছাত্রীকে বাড়ির ঘুঘু পাখি দেখার লোভ দেখিয়ে তার বাড়ীর টয়লেটে নিয়ে জোরপুর্ব ধর্ষণ করে। এ সময় ঐ ছাত্রীর চিৎকারে ধর্ষকের মা ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে মেয়েটির মায়ের হাতে তুলে দিয়ে চুপ থাকতে বলেন। মেয়েটিকে বাড়িতে নেবার পরে তার নিম্নাঙ্গ দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখে তার বাবা মা হাতীবান্ধা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শিশুটির অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় সেখানকার কর্মরত ডাঃ তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকেও শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর পর কয়েকদিন চিকিৎসা শেষে গত ২৮ ডিসেম্বর ওই ছাত্রীকে নিয়ে বাড়ীতে ফিরে আসে তার পরিবারের লোকজন।

এদিকে ঘটনাটি জানতে ধর্ষকের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে ওই এলাকায় তাদের বাড়িতে গেলে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে এ সময় কথা হয় ধর্ষকের চাচী সোর্বা রানীর সাথে। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই বাড়ির লোকজন বাড়ী ছেড়ে সবাই চলে গেছে। তবে বিষয়টি মিমাংসা হওয়ার পথে। মিমাংসা হলে তারা বাড়ীতে ফিরবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ এলাকার তাদের একজন প্রতিবেশী জানান, ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে। তার মধ্যে মেয়ের বাবা ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও চেয়ারম্যান ১লক্ষ টাকা নিয়েছেন।

ধর্ষণের শিকার মেয়েটির মা জানান, ১৮ ডিসেম্বর সোমবার বিকেলে নিত্যের চাচাত বোন মায়ার সাথে খেলছিল আমার মেয়ে। এ সময় নিত্য আমার মেয়েকে তার বাড়ির ঘুঘু পাখি দেখানোর লোভ দেখিয়ে জোর করে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে তার বাড়ির টয়লেটে ঢুকিয়ে ধর্ষণ করে।

এ বিষয়ে মেয়েটির বাবা জানান, মেয়েটিকে ভবিষ্যতের বিয়ে দিতে হবে, তাই ভেবে আমি কোন ঝামেলায় জড়াতে চাইনি। তবে এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান সকল দ্বায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি যা বলবেন, যেটা করবেন সেটাই মেনে নিব।

এ বিষয়ে নওদাবাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অশ্বনী কুমার বসুনিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি এর কিছুই জানি না। তা ছাড়া আমি কোনো মিমাংসা করিনি।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসেন সরদার জানান, ঘটনাটি জানতে পেয়ে মেয়েটি যে দিন হাতীবান্ধা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল সে দিনই ঐ এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তখন তারা বলেছে চিকিৎসা শেষে থানায় এসে মামলা করবে। তবে এখন পর্যন্ত তারা থানায় আসেনি। আর মিমাংসার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বিষয়টি জানলাম আজ আবারো পুলিশ পাঠানো হবে।

আরো পড়ুন : লালমনির হাট এ জাকজমক পূর্ন ভাবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ভূমি কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে ইন্দুরকানীতে মানববন্ধন

  ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুরের মাটিভাঙা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেনকে সরকারি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!