নকলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাচ্ছে ৫৮ ভূমিহীন পরিবার 

 

 

 

 

রাইসুল ইসলাম রিফাত (শেরপুর প্রতিনিধি): শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার “ক” শ্রেণীর ভূমিহীন ও গৃহহীন ৫৮ পরিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে টিনসেট আধা পাকা ঘর পাচ্ছেন। বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী (মুজিব শতবর্ষ) উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে এসকল আধাপাকা ঘর গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে।

প্রথম ধাপের বরাদ্দে নির্মিত এ ৫৮টি ঘর ও ঘরের জমির কাগজপত্রাদি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তরের জন্য সকল প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। ২২ জানুয়ারি শুক্রবারের মধ্যে গৃহনির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা ব্যক্ত করেন। প্রতিটি পরিবারের জন্য নির্ধারিত টিনসেটের আধা পাকা এক তলাবিশিষ্ট এ বাড়িতে থাকবে দুই বেডের ড্রয়িংরুম, বারান্দা, টয়লেট, রান্নাঘরসহ একটি পরিবারের বসবাসের উপযোগী প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুযোগ সুবিধাদি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়বায়ন অফিসার (পিআইও) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি ঘর নির্মাণবাবদ প্রকল্পিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে, তাছাড়া প্রতিটি ঘরের মালামাল পরিবহনরে জন্য অতিরিক্ত আরও ৪ হাজার টাকা করে ব্যয় ধরা হয়েছে। এতে উপজেলার “ক” শ্রেণীর ভূমিহীন ও গৃহহীন ৫৮টি পরিবারের জন্য ঘর তৈরিতে সরকারের মোট ব্যয় হচ্ছে ১ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এরই মধ্যে এসকল গৃহ নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন। এ গৃহনির্মাণকাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে সরাসরি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. বোরহান উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আহাম্মেদসহ ভূমি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়বায়ন অফিসার (পিআইও) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সকল সদস্যবৃন্দ। তাছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশংসনীয় এ কাজকে সফল করতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দরা নিয়মিত কাজের খোঁঁঁজ-খবর রাখছেন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান জানান, ‘মুজিববর্ষে বাংলাদেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না’ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র এমন নির্দেশনা পাওয়ার পরে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য গৃহনির্মানের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরপরেও যদি ভূমিহীন ও গৃহহীন কোন পরিবার খোঁজে পাওয়া যায়, তাদেরকেও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে এবং চলতি মুজিব জন্মশতবর্ষেই তা বাস্তবায়ন কার হবে বলে তিনি আশাব্যক্ত করেন। তিনি বলেন- সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি. রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, এলাকার সুশীলজনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের তালিকা জমা নিয়ে, সেই তালিকা মোতাবেক সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্ত পূর্বক প্রাপ্য পরিবারকে প্রধান মন্ত্রীর উপহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়। পরে সুবিধাভোগীর তালিকা চূড়ান্ত পরে যথাযথ দপ্তরের প্রেরন করার পরে অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে গৃহনির্মান কাজ শুরু করা হয়। এরই মধ্যে নির্মান কাজ শেষ হয়েছে, চলছে রং করার কাজ। ২২ জানুয়ারি শুক্রবর এসকল ঘরের রংয়ের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। আগামী ২৩ জানুয়ারি শনিবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের “ক” শ্রেণীর ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য নির্মিত সকল ঘর ভিডিও কনফারেন্সর মাধ্যমে একযোগে উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরে ২৩ জানুয়ারি শনিবারে নকলার সুবিধাভোগীদের হাতে ঘরের চাবি, ঘরের জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি (দলিল, নামজারি, খারিজ) ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও জাহিদুর রহমান।

বিভিন্ন তথ্য মতে জানা গেছে, সারা দেশে গৃহহীন ও ভূমিহীন ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩ পরিবারকে আধা পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে মালামাল পরিবহণসহ প্রাকল্পপিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করে। এ হিসেব অনুযায়ী “ক” শ্রেণীর ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের গৃহ নির্মানে সারাদেশে মোট ব্যয় হচ্ছে ১৫ হাজার ৪৩৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

যশোরে করোনা সংক্রমণরোধে জেলা পুলিশের সচেতনতামূলক কর্মসুচী

আক্তার মাহমুদ, (যশোর) :করোনা সংক্রমণরোধে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা, সরকারি বিধি-নিষেধ কঠোরভাবে প্রতিপালনের লক্ষ্যে …

error: Content is protected !!