নরসিংদীর মনোহরদীতে নির্বাচন ঘিরে দুই পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ১২

হৃদয় এস সরকার,নরসিংদী: নরসিংদীর মনোহরদীতে পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী আমিনুর রশিদ সুজন ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যকরী সদস্য মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদীর সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে ১২ জন। এ ঘটনায় সাংবাদিক, কাউন্সিলর প্রার্থী, ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে মেয়র প্রার্থী আমিনুর রশিদ সুজনের সমর্থকরা অভিযোগ উঠেছে। মেয়র প্রার্থী সুজন জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের হামলায় তার দুই ভাইসহ অনেক নেতা-কর্মীরা আহত হয়েছে।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ১১ টার দিকে উপজেলা মনোহরদী হিন্দুপাড়ারসহ পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটে এবং ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। সম্পূর্ণ পৌর এলাকা জুড়ে বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আহতদের মধ্যে চন্দনবাড়ি এলাকার মেয়র সুজনের বড় ভাই মামুনুর রশিদ (৩৫), ছোট ভাই হাসানুর রশিদ তন্ময় (২৫), ইমতিয়াজ মান্নান (৩০), আল সাঈদী সাম্মী (৩২) শফিকুল আলম (৪৫), সোহেল আকন্দ (২৬) মাঝিপাড়া এলাকার মাসুম হাসান শুভ (৩০), লেবুতলা এলাকার নজরুল ইসলামকে (৪০) বাকিদের পরিচয় জানা জায়নি। এর মধ্যে শফিকুল আলম ও মামুনুর রশিদকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, বুধবার রাত ৮টায় মনোহরদী হিন্দুপাড়া সার্বজনীন দুর্গাবাড়িতে মেয়র আমিনুর রশিদ সুজনের সর্বশেষ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট ফজলুল হক, সাধারন সম্পাদক বাবু প্রিয়াশীষ রায়, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শিল্পমন্ত্রীর ছোট ভাই নজরুল মজিদ মাহমুদ স্বপন ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যকরী সদস্য মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদীসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কাউন্সিল প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে যোগ দেয়।
রাত ১১টার দিকে সভা শেষে ফেরার পথে কাউন্সিলর প্রার্থী হারুন মাঝি ও খোকন রায়ের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে হারুন মাঝির পক্ষে অবস্থান নেয় মেয়র সুজনের সমর্থকরা। আর খোকন রায়ের পক্ষে অবস্থান নেয় সাদীর সমর্থকরা। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে মেয়রের দুই ভাইসহ কমপক্ষে ১২জন আহত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের ৫টি মোটর সাইকেল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট ফজলুল হকের গাড়ি ভাংচুর করা হয়।
এ দুই পক্ষের নেতাকর্মী লাঠিশোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মনোহরদী বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নিলে গোটা পৌর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, র্যা ব ঘটনাস্থলে এলে মেয়রকে বাসস্ট্যান্ড থেকে সরিয়ে দিলে ভোর ৪টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় থম থমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

এদিকে সাংবাদিক সুমন বর্মণের বাড়িতে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নরসিংদী জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, মনোহরদী সাংবাদিক ফোরাম, মনোহরদী রিপোর্টাস ক্লাবসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা। তাঁরা হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।

মনোহরদী পৌরসভার আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আমিনুর রশিদ সুজন বলেন, হিন্দুপাড়ায় আমি আমার নির্বাচনী উঠান বৈঠক শেষ করে চলে যাওয়ার সময় আমার উপর অতর্কিত ভাবে প্রতিপক্ষরা হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে আঘাত করার সময় আমার দুই ভাই আমাকে বাঁচাতে গেলে তারা গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আমার অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। একই সাথে আমার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় ভাংচুরের বিষয়ে তিনি অস্বীকার করেন।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন,দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে। থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। বর্তমানে পরিস্থিতিতে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোথাও আইনশৃঙ্খলার যাতে অবনতি না হয় সেজন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

লালপুরে পিঠা উৎসব

নাটোর জেলা প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুরে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আবহমান গ্রাম বাংলার লোকজ সংস্কৃতি চর্চার ধারাবাহিকতায় …

error: Content is protected !!