করোনাকালীন সময়ে বেতন ফি মওকুফসহ ৮ দফা দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের মানববন্ধন

করোনা মহামারীতে বেতন ফি মওকুফ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাক্সিন প্রদান, বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্যাম্পাস খোলার রোডম্যাপ ঘোষণা করাসহ ৮ দফা দাবিতে ঢাকায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ডেমরা থানা সংসদ ও নিউমার্কেট থানা সংসদ মানববন্ধন করেছে।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি কেএম মুত্তাকীর সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান জাহিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু, কোষাধ্যক্ষ শামীম হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক আসমানি আশা। সুমাইয়া সেতু বলেন, “করোনাকালীন সময়ে মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। প্রতিদিন আমরা মানু্ষের মৃত্যুর সংবাদ পাই। শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এর মাঝেই আমরা দেখতে পাই আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অনলাইন ক্লাসের আয়োজন। আমাদের দেশের সকল শিক্ষার্থীরা নেটওয়ার্ক কাভারেজে নাই। সকল শিক্ষার্থীর অনলাইন ক্লাস উপযোগী ডিভাইস নাই। এর মাঝেই আমরা জানতে পারলাম শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। আমরা দেখতে পেলাম বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের নিকট হতে বন্ড স্বাক্ষর নিয়ে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে হল না খুলে পরীক্ষা নেওয়ার আয়োজন চলছে। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। তারা আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আমরা বলতে চাই অবিলম্বে করোনাকালীন সময়ে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেতন ফি মওকুফ করতে হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার ভ্যাক্সিন প্রদান করতে হবে। আমাদের যে ৮ দফা দাবি, সেটি শিক্ষার্থীদেরই দাবি। আমাদের দাবি আদায় না হলে ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।”

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ডেমরা থানা সংসদের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান আরিয়ানের সভাপতিত্বে, যুগ্ন আহ্বায়ক নাইমুর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল, ঢাকা মহানগর সংসদের স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক প্রিজম ফকির। দীপক শীল বলেন, “বিগত সময়ে আমরা দেখেছি, সরকার মৌলবাদীদের তোষণ করে পাঠ্যপুস্তক থেকে প্রগতিশীল লেখকদের লেখা বাদ দেওয়া হয়েছে। করোনার শুরু থেকেই আমরা সরকারের দোদুল্যমানতা দেখেছি। প্রায় ১০ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্বে। অনলাইন ক্লাস করার জন্য উপযোগী ডিভাইস না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। শিক্ষা গ্রহণের ব্যয় বেড়ে গিয়েছে। আমরা সব সময় বলেছি শিক্ষার আর্থিক দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে। সরকার চাইলে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের জন্য করোনাকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা কর‍তে পারতেন। তা না করে তারা শিল্পপতিদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করলেন। করোনা মহামারীতে বেতন ফি মওকুফ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাক্সিন প্রদান, বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্যাম্পাস খোলার রোডম্যাপ ঘোষণাসহ ৮ দফা এখন ছাত্রসমাজের দাবি। আমরা বলতে চাই অবিলম্বে আমাদের দাবিগুলো মেনে নিতে হবে। অন্যথায় ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে আমরা আমাদের দাবি আদায় করবো।”

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, নিউমার্কেট থানা সংসদের আহ্বায়ক শোভন হাসান ইমনের সভাপতিত্বে, যুগ্ন আহ্বায়ক ওয়ালিউল ইসলাম অয়নের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর সংসদের সহ-সভাপতি বিএম জোবায়ের প্রধান। বিএম জোবায়ের প্রধান বলেন, ” সরকার করোনার সময় শিল্পপতিদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু দুঃখের সাথে দেখলাম আমাদের শিক্ষকদের বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য সরকার কোন প্রণোদনা ঘোষণা করে নাই, শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস করার জন্য উপযোগী ডিভাইস কেনার জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করে নাই। উপরন্তু আমরা দেখলাম বেতন ফি পরিশোধের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের চাপ প্রয়োগ করছে। শিক্ষার্থীদের মতামত না নিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার আয়োজন করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। হল না খুলে শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত না করে এধরনের সিদ্ধান্ত হটকারি। আমরা মনে করি আমরা যেই ৮ দফা দাবি তুলেছি তা আপামর শিক্ষার্থীদের দাবি। শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আমরা আমাদের দাবি আদায় করবো।”

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে করোনা মহামারীতে বেতন ফি মওকুফ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাক্সিন প্রদান, বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্যাম্পাস খোলার রোডম্যাপ ঘোষণাসহ ৮ দফা দাবি মেনে নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলবে ছাত্র ইউনিয়ন।

৮ দফা দাবিসমূহ:
১.করোনাকালীন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন ফি মওকুফ কর, এসাইনমেন্টের নামে বিভিন্ন স্কুলে আদায়কৃত ফি ফেরত দাও।
২. নামে বেনামে ফি আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ কর
৩. বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার রোডম্যাপ ঘোষণা কর
৪. সেশনজট রোধে দ্রুত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ কর। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ কর
৫. পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকীকরণ বন্ধ কর
৬. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলগুলো খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করে পরীক্ষা নাও, অছাত্র-সন্ত্রাসীদের হল থেকে বিতারণ কর
৭. সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধ কর
৮. অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে করোনা ভ্যাক্সিন দিতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

গুলশান থানা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে চলছে “বঙ্গবন্ধু টেলিমেডিসিন সেবা”

জবি প্রতিনিধি: করোনা মহামারীর শুরু থেকেই গুলশান থানা ছাত্রলীগ ছিল সাধারণ মানুষের পাশে। গুলশান থানা …

error: Content is protected !!