চার মাসেও সমাধান হয় নি ঘাট নিয়ে সমস্যার ; বিপাকে ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষ

বুড়িগঙ্গায় নৌ দুর্ঘটনা রোধে গত ৩ সেপ্টেম্বর সিমসন ঘাট ও ওয়াইজঘাটে নৌকা চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বাদামতলী ডাবচর ঘাট বরাবর একটি ঘাট স্থাপন করে বিআইডব্লিউটিএ। ঘাট দুটি বন্ধ হওয়ার পরে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর ব্যবসায়ী, সাধারন জনগন ও নৌকার মাঝিদের আন্দোলন ও দাবীর প্রেক্ষিতে ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা নদী বন্দর সম্মেলন কক্ষে এক সভায় ঢাকা নদী বন্দর কতৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় যে, পটুয়াখালী লঞ্চঘাট হতে পল্টুন আগামী তিন মাসের মধ্যে খেয়া নৌকা চলাচলের উপযোগী করা হবে এবং নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু চারমাস পার হয়ে গেলেও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিপাকে পড়েছে একটি ঘাট দিয়ে চলাচল কারী যাত্রী সাধাারন ও ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন বুড়িগঙ্গায় ডাবচর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, তিন ঘাটের যাত্রীরা এক ঘাট দিয়ে পার হওয়ায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ঘাটে নৌকা ভিড়ানোর ও যাত্রী উঠা নামার ক্ষেত্রে কে কার আগে নামবে এমন প্রতিযোগীতা দেখা যায়। নারী ও ছোট শিশুরো তারাহুরো করে নামতে গিয়ে হয়রানি হচ্ছে। বেশি সমস্যার শিকার হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তাদের পন্য আনা নেয়ায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। অহেতুক ভোগান্তির কারনে অনেক ব্যবসায়ী এখন কেরানীগঞ্জে আসতে চাচ্ছে না। ঘাট থেকে উপরে রাস্তায় উঠলেই এখান দিয়ে বিভিন্ন গাড়ি থাকার কারনে প্রচন্ড জ্যাম ও ভীড় পরিলক্ষিত হয়। করোনাকালীন সময়ে যাত্রীদের বাধ্য হয়েও ধাক্কাধাক্কি করে রাস্তা পার হতে হয়।

কথা হয় শারমিন আক্তার নামে এক তরুণীর সাথে, তিনি বলেন, আগে ঘাট তিনটা থাকায় নদী পাড়াপাড়ে এতো ঝামেলা হতো না। এখন গাদাগাদি করে, অনেকটা ধাক্কাধাক্কি করে ঘাট দিয়ে উঠতে হয়। বিষয়টা মা বোনদের কাছে বিরক্তিকর। তাড়াহুরো করে নামতে গিয়ে মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা হবার ভয় ও থাকে।

ধানমন্ডি ২৭ থেকে কালিগঞ্জে পাইকারি রেডিমেট পোষাক কিনতে আসা মো: সেলিম জানান, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তিনি কালিগঞ্জ থেকে তৈরী পোষাক কিনে থাকেন। এতোদিন তিনি মালের বস্তা নিয়ে সিমসন ঘাট দিয়ে পার হতেন। এখন ডাবচর দিয়ে পার হওয়াতে ধাক্কাধাক্কি ও তারাহুরার কারনে বস্তা নিয়ে উঠা নামায় তার ভীষণ বেগ পেতে হয়। তাছারা এখানে লেবারও পাওয়া যায় না।

রতমত মিয়া নামে এক মাঝি জানান, অন্য কোন কাম জানি না, নাইলে নৌকা বাওন ছাইরা দিতাম। এহন অনেক কেচাল, ঘাট তো ছোট সারাদিন ই নৌকা নিয়া হুরাহুরি করতে হয় কে কার আগে ঢুকবো। আর পূজা ঘাট সাথে হওয়ায়, হিন্দুদের ও অসুবিধা হয় আমাগো ও অসুবিধা হয়। সরকার আমগো কথা ভাইবা ঘাটটা বড়ো করলে বা আরেকটা ঘাট চালু করলে আমগো সুবিধা হইতো।

ওয়াজঘাট ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক হাজী মো: কুদ্দুস জানান,এই ডাবচর ঘাট দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রলারে করে কলা,ডাব,তরমুজ,তালসহ সব ধরনের দেশীয় ফল আসে। কিন্তু ঘাট নিয়ে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার কারনে এখন ফলের ট্রলারগুলো ভিড়তে অনেক দেড়ি হয়,অসুবিধাও হয়, ঠিকমতো ভিড়তে পারে না।। যার কারনে কৃষকেরা এখন আমাদের এখানে ফল পাঠায় না। দিন দিন আমাদের ব্যবসা বানিজ্যও কমে যাচ্ছে, ব্যাপরীদের অনেক টাকা দাদন দিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছি আমরা। যথাযথ কতৃপক্ষের কাছে আমরা এর প্রতিকার চাই।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ও দোকান মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, করোনা কালীন সময়ে এমনিতেই বেচা কেনা কম তার উপরে ঘাট দিয়ে মাল নিয়ে যাতায়াতের অসুবিধা হওয়ার কারনে পাইকাররা আমাদের এখানে আসতে চায় না। কাষ্টমাররা যদি তাদের অসুবিধার কারনে না আসতে চায় আর এভাবে যদি চলতে থাকে তা হলে সম্ভাবনাময় কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী হুমকির মুখে পড়বে। তাই যথাযথ কতৃপক্ষের কাছে আমাদের আবেদন ঘাট নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার দ্রæত সমাধান করে দেয়া হোক। বিআইডবিøউটি বলেছিলো তিনমাসের মধ্য্যে পটুয়াখালী লঞ্চঘাট হতে পল্টুন নৌকা চলাচলের উপযোগী করে ১ টি জেটি ব্যবস্থা করে দিবে। আমাদের দাবী তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।

এ বিষয়ে বিআইডাব্লিউটিএ নৌ সংরক্ষন ও পরিচালনা বিভাগের যুগ্ন পরিচালক আব্দুস ছালাম বলেন, পটুয়াখালী লঞ্চঘাট হতে পল্টুন সরিয়ে খেয়া নৌকা চলাচলের উপযোগী করার জন্য কাজ চলছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই তা শেষ হবে ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বুড়িগঙ্গায় গোসল করতে নেমে শিশু নিখোঁজ ; একদিন পর লাশ উদ্ধর

বুড়িগঙ্গা নদীতে সুমন মিয়া নামের (০৯) বছরের এক শিশু গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়। পরদিন …

error: Content is protected !!