ইসলামপুর

ইসলামপুর এ কাপড়ের ব্যবসায় স্থবিরতা : ব্যবসায়ীরা হতাশ

পুরান ঢাকার ইসলামপুর দেশের সর্ববৃহৎ কাপড়ের বাজার। সকল কাপর ব্যবসায়ীদের মূল ঠিকানা পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইসলামপুর। কিন্তু দিন দিন এখানে ব্যবসা- বানিজ্যে নেমে আসছে স্থবিরতা। ফলে হতাশায় ভুগছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঘড়ির কাটায় দুপুড় ১২ টা বাজলেও ক্রেতাদের ভীড় নেই বললেই চলে। বেচা বিক্রি না থাকার কারনে অনেক দোকান খোলাও হয় নি। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অনীহা। ব্যবসায় স্থবরিতা নেমে আসায় অনেক ব্যবসায়ী নিজের চালান হারিয়ে দেনা গ্রস্থ হয়ে পরছেন।

প্রায় শত বছর আগে স্থাপিত বেস্ততাপূর্ন এই এলাকার শুরুটা শুধু নওয়াব বাড়ি ফুট দোকান থেকে হলেও আজ তা আহসান মঞ্জিল থেকে শুরু করে জিন্দাবাহার হয়ে মিডফোর্ড এর আগ পর্যন্ত প্রসার ঘটেছে। প্রায় ১০০ টির বেশি মার্কেটে এ ১৫০০০ এর বেশি দোকান রয়েছে এখানে। দেশের সকল প্রান্ত থেকে ক্রেতারা এখান থেকে কাপড় কিনে নিয়ে যায়।

কয়েকটি দোকানের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের দোকানে আর গোডাউনে প্রচুর মাল স্টক করা থাকলেও ক্রেতা নেই বললেই চলে। যে হারে তাদের ব্যবসা চলছে তাতে তাদের দোকান ভাড়া, স্টাফ খরচ, কারেন্ট বিল দিতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকেই ব্যাংক লোন এনে ব্যবসা করছে বেচা বিক্রি কম হওয়াতে ব্যংক ইনটেরেস্ট দিতে গিয়ে লস গুনতে হচ্ছে।

ইসলামপুরের ব্যবসায়ী হাজী মো: শাহ আলমের সাথে কথা বলে জানা যায়, গেল কয়েক বছর ধরে ইসলামপুরের ব্যবসা বানিজ্যের পরিস্থিতি খারাপ। আগের মতো ব্যবসা নেই বললেই চলে। ব্যবসা বানিজ্যর প্রসার ঘটার কারনে অনেক মফস্বল ব্যবসায়ীরা এখন আর ইসলামপুর আসে না তারা সরাসরি চায়না/ইন্ডিয়া থেকে মাল ইমপোর্ট করে আনে যার কারনে পাইকার অনেক কমে গেছে। তাছাড়া আগে ১২ মাস সিজন থাকলেও এখন ব্যবসা হয় মাত্র ৪/৫ মাস।

ব্যবসায়ীদের পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারের কিছু করার আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে হাজী শাহ আলম বলেন, সরকারের উচিত মাল ইমপোর্ট এর ক্ষেত্রে টেক্স কমানো। টেক্স বেড়ে যাবার কারনে ব্যবসায়ীরা আগের মতো লাভ করতে পারে না কিন্তু তাদের খরচ বেড়ে গেছে অনেক অংশেই।

আশা মেচিং কর্নার এর মালিক হাজী মোঃ আদিল বলেন আমি প্রায় ৪২ বছর যাবৎ ইসলামপুর এ ব্যবসা করছি। ব্যবসা ক্ষেএে খারাপ-ভালো অনেক পরিস্থিতি মুখামুখি হয়েছি।কিন্তুু বর্তমান সময়ের মত কখনও ইসলামপুরের এমন হাল দেখিনি।আগে দোকান বন্ধ হতো প্রায় রাতে বেলা কিন্তুু এখন আসরের নামাজের পরই দোকান বন্দ করে সবাই চলে যায় কারন বেচা কেনা নায় – কাস্টমার নেই। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারনে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এমন হাল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যে পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্তা ভালো না হবে ঠিক তত দিন আমাদের ব্যবসায়িক অবস্থান পরিবর্তন হবে না।

কেন এমন পরিস্থিতি ? মাল ক্রয় করতে আসা কয়েকজন পাইকারকে এমন প্রশ্ন করলে তারা বলেন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারনেই সকল ব্যবসা বানিজ্যের অবস্থা সুবিধাজনক না। যার প্রভাব পরেছে ইসলামপুর এর ব্যবসায় ও।

শরীফ নামে চিটাগাং এর একজন পাইকারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আগে প্রতি সপ্তাহে এক বার আসতাম প্রায় ৩-৪ লক্ষ টাকার মাল কিনতাম কিন্তুু এহন আহি মাসে ২ বার মাল ও কিনি সর্বচ্চ ১-২লক্ষ টাকার কারন এহন আগের মত ব্যবসা নাই সবকিছুর দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারনে এখন মানুষের জীবনে আগের মত সৌখিনতা নাই।

আরো পড়ুন : মাত্র ৮ হাজার টাকায় ভুটান ভ্রমন

 

মোঃ ওয়ালিদ হোসেন ফাহিম

নিউজ ঢাকা ২৪

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

দীর্ঘ ১৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন

  মোঃ মাসুদ ঢাকা জেলার দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের দীর্ঘ ১৮ বছর পর বার্ষিক সম্মেলন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!