ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার

 

ভবিষ্যতে আরও সহিসংতায় উসকানির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে টুইটার থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

কোম্পানিটি বলছে, ‘ভবিষ্যতে সহিংসতা উসকে দেওয়ার ঝুঁকি থাকার কারণে এটা করা হয়েছে। ’

টুইটার বলছে, ‘@realDonaldTrump অ্যাকাউন্ট থেকে টুইটগুলো গভীর পর্যবেক্ষণ এবং সেটাকে ঘিরে যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে তার ভিত্তিতে তারা এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। ’

বিবিসি বাংলা জানায়, এর আগে ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টটি টুইটার কর্তৃপক্ষ ১২ ঘণ্টার জন্য অচল করে রেখেছিল।

টুইটার তখন সতর্ক করে বলেছিল, ট্রাম্পকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হবে যদি তিনি এই প্ল্যাটফর্মের নিয়মনীতি ভঙ্গ করেন।

এদিকে ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রতিক্রিয়ায় তার ২০২০ সালের ক্যাম্পেইন উপদেষ্টা জ্যাসন মিলার টুইট করেছেন, ‘জঘন্য, আপনি যদি ভাবেন তারা পরবর্তীতে আপনার দিকে আসবে না, তাহলে আপনি ভুল করছেন। ’

অন্যদিকে শুক্রবার সার্চ ইঞ্জিন গুগল সম্পূর্ণ মুক্ত মতামতের প্ল্যাটফর্ম ‘পার্লার’ স্থগিত করে। এটি ট্রাম্প সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছিল।

গুগল বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সহিংসতা উসকে দিচ্ছে যেসব পোস্ট, তেমন কিছু পার্লার অ্যাপ-এ অনবরত পোস্ট করা হচ্ছে, সে সম্পর্কে আমরা সতর্ক আছি। ’

ট্রাম্পের টুইটার ব্লক করে দেওয়া হয় শুক্রবার। তিনি বুধবার বেশ কিছু টুইট করেন, যেখানে ক্যাপিটল হিলে হামলাকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ বলা হয়েছিল।

অনলাইন ভিত্তিক বেশ কিছু প্ল্যাটফর্মে নিষিদ্ধ ট্রাম্প

বৃহস্পতিবার ফেসবুক বলেছে, তারা মি. ট্রাম্পকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করেছে।

জনপ্রিয় গেমিং প্ল্যাটফর্ম টুইস্ট ট্রাম্পকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য নিষিদ্ধ করেছে।

এই চ্যানেল ব্যবহার করে তিনি তার সমাবেশ সম্প্রচার করতেন।
স্ন্যাপচ্যাট থেকেও নিষিদ্ধ তিনি। ট্রাম্পের মেমোরিবিলিয়া বিক্রি করে এমন দুইটি অনলাইন স্টোরকে এ সপ্তাহে নিষিদ্ধ করেছে ই-কমার্স কোম্পানি শপিফাই।

সমালোচকরা বলেন, টুইটার ব্যবহার করে ট্রাম্প মূলধারার গণমাধ্যমকে পাশ কাটিয়ে মুহূর্তের মধ্যে তার ৮৯ মিলিয়ন অনুসারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা বুধবার যখন নভেম্বরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশনে বসেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শত শত সমর্থক তখন আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটলে ঢুকে পড়ে। তারা কয়েক ঘণ্টা ভবন কার্যত দখল করে।

শত শত বিক্ষোভকারী ভবনটিতে ঢুকে পড়ে আর পুলিশকে কংগ্রেস সদস্যদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে দেখা যায়। কয়েক ঘণ্টা ভবন কার্যত দখল করে রাখার পর বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে ক্যাপিটল প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাইরে চলে যেতে থাকে।

ওই দিনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পদত্যাগ করেছেন ক্যাপিটল পুলিশ প্রধান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

১ দিনে ২৬ হাজার, ভারতের করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ছাড়ালো

ভারতে ইতিমধ্যেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ কোটির সীমানা। এর মধ্যে গত শনিবার ২৪ ঘন্টার …

error: Content is protected !!