কেরানীগঞ্জে সড়কে স্ট্যান্ড বসিয়ে পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে কদমতলী গোলচক্কর এলাকায় সড়কে পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ফরিদ আলী নামে সাবেক এক বিএনপি নেতার নামে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফরিদ আলী ওরফে ট্রাক ফরিদ জিনজিরা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে কদমতলী গোল চক্কর থেকে বাদল হাজীর মাঠ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে সরকারি জায়গায় অবৈধ ভাবে ট্রাক স্ট্যান্ড বসিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে ফরিদ। প্রতিদিন পার্কিং বাবদ গাড়ি প্রতি ১০০/২০০ টাকা করে মাসে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা তুলে ফরিদ আলী। পার্কিং ছাড়াও ঢাকা দোহার রোডে চলাচলকারী প্রতিটি মালবাহী ট্রাকের কাছ থেকে চাঁদা তুলে ফরিদ। চাঁদা তোলার কাজে ফরিদকে সহযোগীতা করে মো: সজিব, মো: টুটুল,মো: পারভেজ, নুরুল আমিন।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ফরিদ এক সময় বিএনপির রাজনীতি করলেও তার ছোট ভাই রমজান আলী আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ফরিদ তার ছোট ভাইয়ের তদবিরে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ যুবলীগে অনুপ্রবেশ করে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা যুবলীগের ক্রীড়া সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেয় ফরিদ। এরপর থেকেই শুরু হয় তার চাঁদাবাজি।

সরেজমীন কেরানীগঞ্জের কদমতলী বাদল হাজী মাঠ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় দুই পাশে রাস্তার ওপরে দাড়িয়ে আছে সাড়ি সাড়ি ট্রাক। বাবুল নামে এক ট্রাক ড্রাইভার জানান, দিনের বেলা সে গাড়ি এখানে রাখে আর রাতের বেলা নেকরলবাগ ফরিদের একটি গ্যারেজ আছে সেখানে গাড়ি রাখে। এ জন্য মাসিক ফরিদকে ২৫০০ টাকা দিতে হয়। অপর এক ড্রাইভারের সাথে কথা হলে তিনিও একই কথা জানান। সেলিম নামে অপর এক ট্রাক ড্রাইভার বলেন, গাড়ি ভেদে এখানে মাসে ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত মাসিক ফরিদকে দিতে হয়।

আজিজুল নামে অপর এক ড্রাইভার জানান, মূলত বাদল হাজীর মাঠের সামনে এটি ট্রাকের স্ট্যান্ড, আগে এখানে গাড়ি রাখার জন্যই ফরিদকে টাকা দিতে হতো। কিন্তু কয়েকমাস আগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হবার পরে এখন সিস্টেম পাল্টিয়েছে। এখন এখানের টাকা আর রাতে গ্যারেজে গাড়ি রাখার টাকা একসাথে কালেকসন করে যাতে কোন ঝামেলা না হয়। আর এখানে স্ট্যান্ডে শুধু ফরিদের গ্যারেজের গাড়িগুলোই দাড়াতে পারে। বাইরে থেকে কোন গাড়ি ট্রীপ নিতে আসলে আলাদা টাকা দিতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শুধু ট্রাক নয় প্রতিদিন প্রতটি অটো থেকে ৫০ টাকা করে চাদা আদায় করা হয়। এছাড়া কদমতলীতে উবার ও পাঠাওসহ বিভিন্ন মটরসাইকেল দাড়ালেই ১০ টাকা করে চাদা দিতে হয়। আর এই চাদা কালেকসন করে রমজান মেম্বারের লোক মো: জনি।

গত ৫ জুন চাদাবাজির এক মামলায় ফরিদকে গ্রেপ্তার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। চাঁদাবাজির মামলায় জামিনে বের হওয়ার পরে কিছু দিন চাদাবাজি বন্ধ ছিলো। পরবর্তীতে আবারো শুরু হয় ফরিদের চাঁদাবাজি ।

চাদার ব্যাপারে টুটুলের সাথে কথা বললে সে জানায়, এখন স্ট্যান্ডের টাকা কালেকসন করে সজিব। মাসিক হিসাবে গাড়ি রাখলে মাসে তিন হাজার টাকা দিতে হয়। যদি সভাপতি (ফরিদ) চায় তা হলে কিছু কম দেয়া যেতে পারে।

সজিবের সাথে কথা হলে তিনি জানান আমি স্ট্যান্ডের কোন টাকা কালেকসন করি না। আমার নারিকেলবাগ গ্যারেজ আছে, গ্যারেজের টাকা উঠাই। আমি কোন স্ট্যান্ডের টাকা উঠাই না।

অভিযুক্ত মো: ফরিদ আলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এখন কেউ স্ট্যান্ড চালায় না। করোনার পরে সবাই ছেড়ে দিসে। আগে  স্লিপের মাধ্যমে টাকা উঠাতাম, করোনার পরে তা বন্ধ করে দিয়েছি। বর্তমানে কেউ স্ট্যান্ডের টাকা উঠায় না। এখন আমি জায়গা জমিনের ব্যবসা করি।

 

৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার রমজান আলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এটা তদন্ত করে দেখেন, এখানে এমনেই ড্রাইভাররা গাড়ি রাখে। রাস্তায় কোন চাদাবাজি করা হয় না। এই অঞ্চলের যত স্ট্যান্ড আসে দলীয় ভাবে সবাই ভাড়া দিতো, এতা চাদাবাজি না। এখন তা বন্ধ। তবে রাস্তায় কেউ চাদাবাজি করে না। এর আগে চাদাবাজির দায়ে তার ভাই জেল খেটেছে এমন প্রশ্নের জবাবে রমজান মেম্বার বলেন, ঐ সময় ওমন সিচিউশন ছিলো, তাই আইন আইনের ব্যবস্থা নিয়েছিলো, এখন যদি আবার প্রমানিত হয় আইন আইনের ব্যবস্থা এগুলা মিথ্যা,কথা রাজনৈতিক প্রতিহিংশা ছাড়া কিছু না। রাজনৈতিক প্রতিহিংশায় যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করি অনেকের বিরুদ্ধে অনেক কিছু লেখা যায়। এখন যদি রিপোর্ট হয়, এই রোডে এমন ট্রাক স্ট্যান্ডের মতো অনেকের অনেক সিএনজি স্ট্যান্ড আসে, মাহিন্দ্রা স্ট্যান্ড আসে এগুলা আমরা বলতে যাবো না।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) পিযুষ কুমার মালো জানান, এখানে চাদাবাজির বিষয়ে কেউ যদি তথ্য প্রমান দেয়, তা হলে আমরা যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবো। #

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বুড়িগঙ্গায় গোসল করতে নেমে শিশু নিখোঁজ ; একদিন পর লাশ উদ্ধর

বুড়িগঙ্গা নদীতে সুমন মিয়া নামের (০৯) বছরের এক শিশু গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়। পরদিন …

error: Content is protected !!