নেত্রকোনার দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ মহাসড়কে চার বছরে ৫০ জনের মৃত্যু

পলাশ সাহা, নেত্রকোনা ( দূর্গাপুর)প্রতিনিধিঃ    নেত্রকোনার জেলার দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ মহাসড়কে ভারি ট্রাক,ডাম ট্রাক,সিত্রনজির চাপায় এখনো থামছে না মৃত্যুর মিছিল । গত চার বছরে প্রায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে ।

 

৩০ নভেম্বর ২০১৭ স্থানীয়  বনরুপা নাট্যগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও বিরিশিরি উৎরাইল বাজার কমিটির সভাপতি শিমুলতলী গ্রামের নুরুল ইসলাম ছোট্র মিয়ার স্ত্রী, ছেলে, ছেলের স্ত্রী এবং সিএনজির ড্রাইভার সহ মোট ৫ জন ঘঁনাস্থলে মৃত্যুবরন করেন । গত ২২ অক্টোবর ২০১৯ ময়মনসিংহের গোরীপুর উপজেলার প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী দুর্গাপুর সীমান্তে বনভোজন করতে এসে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় কৃষ্ণেচর বাজারে মহাসড়কে ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে পিষ্ট হয়ে ৪ জন তরুন মেধাবী শিক্ষার্থী প্রান হারায়  এবং ২০ জনের মত মারাত্মক আহত হয় । ২৮ নভেম্বর ২০২০ বিরিশিরি বাস  ষ্ট্যান্ডের নিকট এক  দুর্ঘটনায় ২ টি পা হারান এক শ্রমিক। ৩০ নভেম্বর ২০২০ স্থানীয় নয়াপাড়া গ্রামের নিলুনা   খাতুন স্বামী চাঁন মিয়াকে সাথে নিয়ে স্থানীয় কৃষ্ণেচর বাজারে কেনাকাটা করে অটো রিক্সা চরে নিজ বাড়ির কাছে ট্রাম ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘঁনাস্থলে প্রান হারান নিলুনা খাতুন (৫০) । তাছাড়া এ মহাসড়কে প্রতি মাসে শিশু ,বৃদ্ধা, শিক্ষার্থী, ও মাদ্রাসার ছাত্রসহ ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যুবরন করেন প্রায় ২৫ জন ।

 

দুর্গাপুর নিরাপদ সড়কের দাবীতে ৩০ নভেম্বর ২০২০ পথসভা  ও মানববন্ধন করেন, নিরাপদ সড়ক চাই দুর্গাপুর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ সহ নানা সংঘটন।২০ ডিসেম্বর ২০২০ রাতে দুর্গাপুর থেকে একটি বালু বাহী ট্্রাক ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে শ্যামগঞ্জের বেলতলী মহাসড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রী বোঝাই সিত্রনজির মুখোমখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিন জন প্রান হারান । নিহতরা হলেন দুর্গাপুর উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামের আবুল মনসুরের ছেলে মনির হোসেন (১৭), মেনকীফান্দা গ্রামের জনাব আলীর ছেলে মুল হক (৪৮) ও কলমাকান্দা উপজেলার গোরিপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৮)। ২৭ ডিসেম্বর  ২০২০ সকাল ১০ টায় স্থানীয় আত্রাখালি ব্রীজ বালুরঘাট সংলগ্ন আঘার পাড়া ডাইভারশন রোডে দুর্গাপুর উপজেলা জাতীয়  শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি সর্দার তোতা মিয়া (৪৫) বালুর ট্রাকে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই  প্রান  হারান। ঘটনার পর পরই সন্ধা পর্যন্ত দুর্গাপুরে সমস্থ ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকে। এমনিভাবে গত চার বছরে এই সড়কে প্রান হারান ৫০ জনের উপরে। দুর্গাপুর- শ্যামগঞ্জ মহাসড়কে দৈনন্দিন অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত চালক দ্বারা যানবাহন চলাচল করায় মৃত্যুর হার বাড়ছে এমনটিই মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

পথযাত্রীদের সর্বদাই আতস্ক ও ভীতির মধ্যে চলাচল করতে হয়। প্রায় প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় দুর্গাপুর বাসীর জীবনকে দুর্দশাগ্রস্থ করে তুলেছে । প্রশাসন নির্বিকার “কেউ দেখেনা চক্ষু মেলিয়া” এ ব্যাপারে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহি অফিসার ফারজানা খানম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি সংবাদ কে বলেন প্রশাসন সর্বদাই তৎপর রয়েছে। প্রতিমাসেই ২/৩ বার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অদক্ষ্য ও অল্প বয়স্ক চালক বেপরোয়া গাড়ী চালানোর দায়ে অনাকাঙ্খিত ভাবে দুর্ঘটনার হার বাড়ছে। এটা দুক্ষজনক,তবে শ্রমিক নেত্রীবৃন্দের সাথে আলোচনা করলে তারা সংবাদ কে এই জানায় য়ে চালকদের প্রশিক্ষনের ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপুর বাসীর প্রশ্ন ? আর কতকাল চলবে এমনিভাবে মৃত্যুর মিছিল।তাই দুর্গাপুরবাসী জনপ্রিয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ঝুমন দাসের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ

বিনোদন প্রতিবেদক :আল সামাদ রুবেল সুনামগঞ্জের শাল্লায় সাম্প্রদায়িক নিপিড়নের শিকার ও নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে …

error: Content is protected !!