বিদায় নিল ২০২০, স্বাগত ২০২১

 

বিদায় নিয়েছে খ্রিস্টীয় ২০২০ সাল। ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টার পার হতেই শুরু হয়েছে নতুন বছর ২০২১। নতুন এ বছরে করোনা থেকে মুক্ত হতে চায় বিশ্ব। করোনার কার্যকর ভ্যাকসিন সহজলভ্য হোক এটাই বিশ্ববাসীর আশা।

নতুন বছর করোনার ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ঘরে ঘরে সব বয়সী মানুষের একই প্রত্যাশা, ২০২১ সাল হোক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার।

একদিকে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আতঙ্ক নিয়ে নতুন বছরে প্রবেশ করেছে বিশ্ব। অপর দিকে করোনার টিকা প্রয়োগ শুরু হওয়ার সুখবরও নতুন বছরের সঙ্গী। জানুয়ারিতেই বাংলাদেশে টিকা আসতে শুরু করবে বলে জানিয়েছে সরকার।

চীনের উহান থেকে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) বিষাক্ত বার্তা দিয়ে বছরটি শুরু হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালিসহ বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর রূপ নেয়। মার্চ থেকেই শুরু হয় লকডাউন। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দেশ থেকে দেশের যোগাযোগ।

বাংলাদেশে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

একইভাবে দেশ এক অলিখিত লকডাউনে পড়ে। মূলত করোনার কারণেই ২০২০ সাল এক স্থবির, নাজুক, ভীতি আর দুরাশার পৃথিবী হয়ে ওঠে।
বিশ্ব মিডিয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে ২০২১ সালকে ঘুরে দাঁড়ানো ও নতুন করে বাঁচতে শেখার সময় বলে উল্লেখ করেছে। স্বাস্থ্য ঝুঁকির বড় লড়াইয়ের পাশাপাশি এই সাল বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দাকে মোকাবিলার জন্য মহাপরিকল্পনার বছর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশও নতুন সালকে নতুন করে বরণ করার জন্য প্রস্তুত। গত বছর শুরু হওয়া করোনা মহামারীতে সংকটে পড়ে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীদের মতো দেশের শিক্ষার্থীরাও ফিরতে চায় তাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে। মাঠে, মুক্ত পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে চায় শিশু-কিশোররা। ব্যবসার চাকা সচল করতে ব্যবসায়ীদের আকুল আবেদন।

বাংলাদেশ সরকারও টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে গত বছরের শুরু থেকেই কাজ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, বছরের শুরুর মাসেই বা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে করোনা ভ্যাকসিন পেতে শুরু করবে মানুষ। যে যার যার পেশায় ফিরবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের দুর্ভিক্ষ হওয়ার আশঙ্কাকে আমলে নিয়ে এটি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রায় সব সেক্টরেই প্রণোদনা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সচল রাখাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে সরকার।

বিশ্ব মিডিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী বছরের সব অঘটনের মধ্যে করোনাভাইরাসের মহামারী অন্যতম। এ ছাড়া ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যা, ইরানে ইউক্রেনের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ভূপাতিত করার ঘটনা, অস্ট্রেলিয়ার দাবানল, বৈরুত বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনসহ নানা ঘটনার কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বিদায়ী বছরটি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

রাঙামাটিতে অব্যাহত গোলাগুলি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

মোঃমহিউদ্দিন, বাঘাইছড়ি,প্রতিনিধিঃ রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাধারণ মানুষের জান মালের নিরাপত্তার স্বার্থে ও পাহাড়ী আঞ্চলিক সশস্ত্র …

error: Content is protected !!