গ্রুপিং এ ক্ষতবিক্ষত শৈলকূপা উপজেলা বিএনপি, নেই ভোটের মাঠে

 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে সরগরম ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভা। আগামী ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন হবে এ উপজেলায়। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে শুরু হয়েছে নানামুখী প্রচার-প্রচারণা। তবে মাঠে নেই বিএনপি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিটি গঠন ও নেতৃত্ব নিয়ে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক কোন্দল, গ্রুপিং এমনকি কেউ কারো সঙ্গে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত করছেন না। এসবের কারণে একা হয়ে পড়েছেন বিএনপি প্রার্থী খলিলুর রহমান। তিনি দলটির একক প্রার্থী হলেও তার পক্ষে কোনো নেতাকর্মীই প্রচারে নামছেন না।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, শৈলকুপায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ৬টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এসব গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন বিএনপির সাবেক এমপি আব্দুল ওহাব, কেন্দ্রীয় কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ড ও ওসমান আলী। এছাড়া থানা, পৌরসহ অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি গঠন নিয়েও নেতাকর্মীরা কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন। এমন দ্বন্দ্ব-কোন্দলে পৌর নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা উধাও।
তবে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে নারাজ শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল ওহাব। তিনি জানান, এসব নিয়ে তিনি আর কথা বলতে চান না। দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তার কোন মন্তব্য নেই।

শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান খাঁন দিপু এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ জানান, দলে অনুপ্রবেশকারী বা অন্য দল থেকে আসাদের প্রাধান্য দিয়ে একের পর এক কমিটি হয়ে যাচ্ছে, এতে করে দলের পোড় খাওয়া নেতাদের ঠায় হচ্ছে না। বিশেষ করে পৌর বিএনপি, ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের কমিটিতে ত্যাগী নির্যাতিত ও প্রকৃত কর্মীদের বাদ দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে কমিটি করায় ভোটের মাঠে কোন কর্মী খুজে পাওয়া যাচ্ছে না ।

ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শৈলকুপা বিএনপির নেতা ওসমান আলী জানান, কেন্দ্রীয় বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করে একের পর এক শৈলকুপা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের যে কমিটি অনুমোদন করিয়ে দিচ্ছেন তাতে দলের সবাই হতাশ। তিনি আরো বলেন,প্রকৃত নির্যাতিত মাঠের কর্মীদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করায় হতাশ হয়ে কেউ মাঠে নামতে চাইছে না।

দলের এমন অবস্থায়, অবশ্য বিএনপি প্রার্থী খলিলুর রহমান দাবি করছেন কোন্দল এখনো বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় দলের কার্যক্রম চালাতে হয়। সেসব প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে পারলে দল সুসংগঠিত হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ফরহাদনগর আ’লীগে তৃণমূলে আস্থার প্রতীক যুবলীগ নেতা কাউসার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থা ও …

error: Content is protected !!