হারিয়ে যাওয়ার ৫৫ বছর পর বাড়িতে ফিরলেন গোলাম মোস্তফা

মোকারিম হোসেন পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ- হারিয়ে যাওয়ার ৫৫ বছর পর গোলাম মোস্তুফা, তার স্ত্রী, দুই ছেলে এক মেয়ে সন্তানসহ শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের দগদগা গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছেন।

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের দগদগা গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে গোলাম মোস্তুফা। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পার্শ্ববর্তী গফরগাঁও রেল স্টেশনে ট্রেনে উঠার পর হারিয়ে যান।

তারপর পাবনা জেলার ঈশ্বরদী রেল স্টেশনের পার্শ্ববর্তী একটি চায়ের দোকানের সামনে অসুস্থ্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সিরাজ উদ্দিন নামের এক রিকসা গ্যারেজ মালিক তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেন। তাকে চিকিৎসা করিয়ে লালন পালন করেন।

এক সময় গোলাম মোস্তুফা আশ্রয়দাতার রিকসা গ্যারেজের কাজে সাহায্য করতে শুরু করেন। প্রাপ্ত বয়স্ক হলে ওই এলাকার সোহাগী বেগমকে বিয়ের করেন তিনি।

বিবাহের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। বড় ছেলে সজিব হোসেন একটি কোম্পানীতে চাকুরী করেন। ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম সুরুজ ব্যবসা করেন। মেয়ে সুমনা ঘরের কাজে মাকে সাহায্য করেন।

এমনি অবস্থায় তার পরিবার নিয়ে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রহমান কলোনীতে বসবাস করে আসছিলেন। গত চার বছর আগে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে প্যারালাইজড হয়ে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হয়।

হঠাৎ তিন মাস আগে স্ত্রী সোহাগীকে ডেকে তার হারিয়ে যাওয়ার কথাগুলো বলেন। সেই সময় তার বাড়ির ঠিকানা মেয়েকে কাগজে লিখতে বলেন।

পরে ছেলে সজিব হোসেন গুগল ম্যাপে সার্চ দিয়ে তার পিতার জন্মস্থান দগদগা গ্রামের সন্ধান পান। গুগল থেকে দগদগা গ্রামের এক ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বার সংগ্রহ করে তার সাথে কথা বলে পিতার ছবি ফেসবুকে পাঠান।

ওই ব্যবসায়ী বিষয়টি ওই এলাকার লোকজনের কাছে জিজ্ঞাসা করলে ও হারিয়ে যাওয়া গোলাম মোস্তুফার ছবি দেখালে তার ছোট ভাই আবদুল আওয়াল তাকে সনাক্ত করেন।

পরে গত ২ অক্টোবর সহোদর ছোট ভাই আবদুল আওয়াল হারিয়ে যাওয়ার বড় ভাইয়ের বাসায় গিয়ে তাকে চিনতে পেরে নিজ বাড়িতে ফিরে আসার জন্য বলেন।

শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে গোলাম মোস্তফা স্ত্রী-সন্তানসহ ৫৫ বছর পর নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।

বার্ধক্য ও অসুস্থ্যতায় নিস্তেজ গোলাম মস্তেুাফা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পিতার সাথে রেল স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠে হারিয়ে যাওয়ার কথা বলতে বলতে আবেগে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

সহোদর ছোট ভাই আবদুল আওয়াল বলেন, বড় ভাই হারিয়ে যাওয়ার পর অনেক খোঁজাখুজি করে তাকে পাইনি। দীর্ঘ ৫৫ বছর পর ভাইকে ফিরে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।

এ ব্যাপারে জাংগালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার শামীম আহমেদ বলেন, হারিয়ে যাওয়া গোলাম মোস্তুফা ৫৫ বছর পর নিজ বাড়িতে ফিরে আসার খবরটি আমি শুনেছি। দীর্ঘদিন পর এলাকার ছেলে এলাকায় ফিরে আসায় দগদগা গ্রামের মানুষ খুবই আনন্দিত হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

আনোয়ারায় সদর ইউনিয়নে ভিজিডি কার্ডের চাউল  বিতরণ

  এম.এম.জাহিদ হাসান হৃদয়ঃচট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ৭নং সদর ইউনিয়নে ২০২১-২২ অর্থবছরের বরাদ্দ কৃত ৭৬ জন …

error: Content is protected !!