গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করা’ জরুরি সভায় জয়-লেখকের ‘আসতে দেরি’

 

 

গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে জরুরি সভা আহ্বান করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে।

রোববার বিকেলে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে এই সভা আহ্বান করা হয়। তবে এই সভা আহ্বানে যথাযথভাবে গঠনতন্ত্র অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন সংগঠনটির একাধিক নেতা। এ ছাড়া সভায় এই শীর্ষ দুই নেতা প্রায় এক ঘণ্টা দেরি করে উপস্থিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতারা জানান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় উপ-দপ্তর সম্পাদক নাজির আহমেদ শনিবার রাত ২টা ১৬ মিনিটে জরুরি সভার আহ্বান করা হয়েছে মর্মে কেন্দ্রীয় নেতাদের ফেসবুক মেসেঞ্জারে বিজ্ঞপ্তি পাঠান। এরপর রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের ফোনে সভায় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় নেতাদের পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রবিবার বিকেল ৪টায় দলীয় কার্যালয় রাজধানীর ২৩, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে’।

এতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। ’

তবে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে অধিকাংশ নেতা এই আহ্বানে সাড়া দেননি।

 

নেতারা অভিযোগে বলেন, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১৫ এর (গ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘জরুরি অবস্থায় ২৪ ঘণ্টা এবং সাধারণ অবস্থায় সাত দিনের নোটিশে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভা হবে। জরুরি অবস্থায় এক চতুর্থাংশ এবং সাধারণ অবস্থায় এক-তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে কোরাম হবে। কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সভা জরুরি অবস্থায় ২৪ ঘণ্টা এবং সাধারণ অবস্থায় সাত দিনের নোটিশে অনুষ্ঠিত হবে। জরুরি অবস্থায় এক চতুর্থাংশ এবং সাধারণ অবস্থায় এক-তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে কোরাম হবে।


রবিবার আহুত জরুরি সভা ঠিক কোন বিষয়ে হবে সেটিও উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা জানান, তাদের এ সভার কথা অনেক দেরিতে জানানো হয়েছে। তা ছাড়া জরুরি সভা কী নিয়ে হবে সেটাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে এই বিজ্ঞপ্তির গুরুত্ব না দেওয়ায় তারা সভায় উপস্থিত হতে পারেননি।

এ বিষয়ে আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে সভাটি স্বল্প পরিসরে হয়েছে। যেহেতু এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় তাই একে সহজভাবে দেখাটাই সমীচীন হবে। যারা উপস্থিত হতে পারেননি তাদের সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানানো হবে।

তিনি বলেন, সামনে আরও সভা হবে। তখন আগেভাগেই সেটা সম্পর্কে সবাইকে জানানো হবে।

তবে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সভায় দেরিতে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

নেতারা বলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভা বিকেল ৪টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আল নাহিয়ান খান জয় এক ঘণ্টা এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য উপস্থিত হন ৫০ মিনিট দেরি করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার অভিযোগ, তারা যথাসময়ে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সভাপতি এক ঘণ্টা এবং সাধারণ সম্পাদক ৫০ মিনিট দেরি উপস্থিত হয়েছেন। এতে অনেকেই বিরক্ত হয়েছেন।

তারা আরো অভিযোগ করেন, শুধু এ বৈঠক নয় অধিকাংশ বৈঠকেই তারা যথাসময়ে উপস্থিত হন না।

এ অভিযোগের বিষয়ে জয় বলেন, এই অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা যথাসময়ে উপস্থিত হয়েছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঘোড়াশালে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শরিফুলের নির্বাচনী জনসভা

হৃদয় এস সরকার,নরসিংদী: করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় সতর্ক থাকার সময়ে নরসিংদীর ঘোড়াশালে বর্তমান পৌর …

error: Content is protected !!