নরসিংদী সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাতার স্মৃতি অবহেলিত

হৃদয় এস সরকার,নরসিংদী:

নরসিংদী জেলায় ছয়টি উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় নরসিংদী সরকারি কলেজে। এ কলেজটির কারণে উচ্চশিক্ষার দিকদিয়ে নরসিংদী অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। কলেজটিতে একাদশ, দ্বাদশ, ডিগ্রী ও ১৬টি বিষয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। ছাত্র – ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজারের উপর। ১৯৪৯ সালে ৮ জুলাই নরসিংদী সদর ব্রাহ্মন্দীর তৎকালীন জমিদার জিতেন্দ্র কিশোর মৌল্লিক ব্রাহ্মন্দী এলাকায় কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্যে একটি খালের পাশে ১০বিঘা জমি দান করেন। সেই জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় কলেজ। এর মধ্যদিয়েই সর্বপ্রথম নরসিংদী জেলার একটি কলেজ চালু হয়। খুলে যায় উচ্চশিক্ষার দ্বার। নরসিংদী যোগ দেয় উচ্চশিক্ষার পথচলায়।

সময়ের পরিক্রমায় ১৯৮০ সালে কলেজটি সরকারীকরণ হয়ে নরসিংদী সরকারি কলেজে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু কলেজটি যিনি প্রতিষ্ঠা করলেন তার স্মৃতিস্তম্ভটি অবহেলিত। কলেজের অনার্স ভবনের পেছনে ময়লা আবর্জনার মধ্যে অনেক বছর যাবৎ অযতনে পর থেকে সেটি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। এবং কলেজটির প্রতিষ্ঠার পেছনের ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠাতার নামও ঠিক ভাবে জানা নেই অধিকাংশ শিক্ষার্থীর। কলেজ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নেয়নি তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

 

নরসিংদী সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক তপন কুমার আচার্য ও ছাত্রনেতা তনময় দাস তনু বলেন, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা জিতেন্দ্র কিশোর মৌল্লিকের অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৪৯ সালে বর্তমান বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের শাসন বিদ্যমান ছিল। ঐ সময় নরসিংদীর মতো একটি স্থানে কলেজ প্রতিষ্ঠা বিশাল উদ্যোগ। তখন কার আমলে সর্বপ্রথম নরসিংদীতে উচ্চশিক্ষার যাত্রা হিসেবে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এতে উপকৃত হয় নরসিংদীর অসংখ্য শিক্ষার্থী। তাই নতুন প্রজম্মের শিক্ষার্থীদের কলেজের সৃষ্টির ইতিহাস জানাতে কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, এটা হতে পারে কলেজ প্রাঙ্গনের প্রতিষ্ঠাতার ভাস্কর্য বা স্মৃতিফলক নির্মাণের মধ্যদিয়ে। যাতে সকলে নজরে আসে তার অবদান। এবং অনার্স ভবনের পিছনে থাকা স্মৃতিস্তম্ভটি দ্রুত সংস্কার জরুরী।

সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শিব্বির আহমেদ শিবলী জানান, কলেজে থাকাকালীন স্মৃতিস্তম্ভটি আমিসহ কলেজ ছাত্রলীগের সদস্যদের নিয়ে এটি পরিষ্কার ও এর আশপাশের আগাছা মুক্ত করি। মনে প্রাণে চাই কলেজের জন্যে যিনি দশ বিঘা জমি দান করেছেন সেই জমি দাতার স্মৃতি যেন এভাবে ধ্বংস না হয়ে যায়। তাই কলেজ কর্তৃপক্ষের করণীয় কলেজের অর্থায়নে পুনরায় এটি সংস্কার করা।

সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: হাবিবুর রহমান আকন্দ বলেন, কলেজে নতুন যোগদানের পর পর আমি নিজে স্তম্ভটি পরিষ্কারে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এই বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে তারা জানায় স্তম্ভটি সংস্কারে কলেজের আলাদা কোন অর্থ বরাদ্দের ফ্যান্ড নেই। তাই যদি কোন ব্যক্তি বা গ্রুপ এটা সংস্কারে উদ্যোগ নেয় তাহলেই সম্ভব।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

যশোরের ঝিকরগাছায় ৬ বছরের বাক-প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ 

  আক্তার মাহমুদ, ঝিকরগাছা : যশোরের ঝিকরগাছায় ১৬ বছরের যুবক দ্বারা ৬ বছরের বাক-প্রতিবন্ধী শিশু …

error: Content is protected !!