টাঙ্গাইলে কৃষি প্রনোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

নাসির উদ্দিন,টাঙ্গাই প্রতিনিধিঃ

২০২০চলতি অর্থ বছরে প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সহায়তার জন্য সরকার ব্যাপক প্রনোদনার ব্যবস্থা করেছে। এরই অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে প্রায় ১২৩০০ কৃষকের মাঝে সার ও বিভিন্ন ফসলের বীজ বিতরণ করেছে। কিন্তু কৃষকদের তালিকা তৈরী ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিতরণ প্রক্রিয়াও সঠিক হয় নি বলে কৃষকরা জানিয়ে ছেন।

সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক এবং যাদের চাষের জমি আছে তারা প্রনোদনা পান নি। যাদের চাষের জমি নেই তারাও প্রনোদনা পেয়েছেন। এছাড়া যে এলাকায় যে ফসলের জন্য উপযুক্ত সেখানে সে ফসলের বীজ না দিয়ে অন্য ফসলের বীজ দেওয়া হয়েছে। ফলে কোন কাজেই আসছেনা প্রনোদনার বীজ। দেলদুয়ার সদরে বাদাম চাষের জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্ত এখানেও বাদাম বীজ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া যে সব কৃষকদের বাদাম বীজ দেওয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশের চাষের জমি নেই। ফলে তারা বাদাম ভেঁজে বা বিক্রয় করে খাচ্ছেন। খেসারি চাষের জমি না থাকলেও তাদের খেসারি বীজ দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা ডাল করে খাচ্ছেন। এছাড়া যারা গম পেয়েছেন তারা আটা করে খাচ্ছেন। দেউলী ইউনিয়নে এক ইউপি সদস্য বাদাম বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক তারা প্রনোদনা না পেয়ে বাজার থেকে কিনে নিজেরা গম, খেসারি, ভূট্রা চাষ করেছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, দেলদুয়ারে প্রায় ৪১ হাজার কৃষক রয়েছে। ৮টি ইউনিয়নে ৭৭০০ জন কৃষকের মাঝে সরকারি প্রনোদনার বিভিন্ন ধরনের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৪৭০০ কৃষকের মাঝে হাইব্রিড ধান বীজ বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি জন কৃষককে সরিষার বীজ ১ কেজি, গমের বীজ ২০ কেজি, চীনা বাদাম ১০ কেজি, সূর্য্য মুখির বীজ ১ কেজি, মসুর ডাল বীজ ৫ কেজি, ভুট্রার বীজ ২ কেজি, খেসারি বীজ ৮ কেজি, টমেটো বীজ ৫০ গ্রাম, মরিচ বীজ ৩০০ গ্রাম, পেয়াজ বীজ ২৫০ গ্রাম ও বিভিন্ন ধরনের সার দেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের তালিকা তৈরীর অনিয়মের ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার শোয়েব মাহমুদ বলেন, প্রত্যেকটি ইউনিয়নে আলাদা আলাদা কমিটি আছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কমিটির প্রধান। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সদস্য সচিব।

 

উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা যে তালিকা তৈরি করেছেন তাতে সমস্যা নেই। ইউপি সদস্যরা কোন তালিকা দিয়ে থাকলে তাতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। এদিকে অভিযোগ রয়েছে ইউপি সদস্যদের মাধ্যমেই বেশির ভাগ কৃষকদের তালিকা সংগৃহিত হয়েছে। ইউপি সদস্যরা তাদের পরিচিত ও আপন জনদের নাম অন্তর্ভূক্ত করেছেন এবং ইচ্ছেমতো ফসলের বীজের তালিকা দিয়েছেন। উপ-সহকারী কৃষি অফিসারদের সে সব তালিকা ও চাষ যোগ্য ফসলের সম্ভাব্যতা যাচাই করার কথা থাকলেও তারা তা করেন নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার বলেন, মেম্বারদের দেওয়া তালিকা গ্রহণ না করলে তারা স্বাক্ষর করেন না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জে লকডাউনের প্রথম দিনে ১৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

করোনার সংক্রমন আবারো বেড়ে যাওয়ায় সারা দেশে ফের ৭ দিনের লক ডাউন ঘোষনা করেছে সরকার। …

error: Content is protected !!