টাঙ্গাইলে যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধুকে কুপিয়ে জখম

নাসির উদ্দিন,টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহ বধুকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

বর্তমানে ভুক্তভোগী অমানবিক নির্যাতনের শিকার গৃহবধু টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে আদালত মামলা ও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার দুই সন্তানের জননী গৃহবধু জানান,প্রায় ১৪ বছর আগে নাগরপুর উপজেলার মোগনা ইউনিয়নের করটিয়া কাজীবাড়ি গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের মেয়ে মোছা. জহুরা আক্তারের সাথে একই গ্রামের মৃত নওজেশ দেওয়ানের ছেলে মো. আবাস দেওয়ানের সাথে বিয়ে হয়।বিয়ের পর আবাস দেওয়ান অধিকাংশ সময় সৌদিতে কাটিয়েছেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে যৌতুকের টাকা দাবি করে আসছিলো মো. আবাস দেওয়ান।এবং সেই সাথে জহুরার পরিবারের উপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিলো।

উল্লেখ্য গত ৯ মাস আগে আব্বাস দেওয়ান দেশে ফিরেছেন। সৌদি আসার পর যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ জহুরা আক্তারের পরিবারকে। যৌতুক না পাওয়ায় জহুরা আক্তারকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

পরবর্তীতে যৌতুক নিরোধ আইনে গত ২৫ নভেম্বর জহুরা আক্তার বাদি হয়ে মো. আব্বাস দেওয়ানকে প্রধান আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলা তুলে নিতে জহুরা ও তার পরিবারকে হুমকি ধামকি দেয় আব্বাস দেওয়ান। এক পর্যায়ে গত ১১ ডিসেম্বর রাত ৯ টায় আব্বাস দেওয়ান, তার ভাই বাছেদ দেওয়ান ও বোন আনোয়ারা বেগম দা, লাঠি নিয়ে জহুরার বাড়িতে গিয়ে হামলা করে।

এসময় অভিযুক্ত আনোয়ারা বেগম এবং বাসেদ দেওয়ান জহুরা আক্তারকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং আব্বাস দেওয়ান দা দিয়ে কুপিয়ে জহুরা আক্তারকে গুরুতর আহত করে।

আনোয়ারা বেগম এক পর্যায়ে জহুরার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিড়ে নিয়ে যায়। জহুরার আত্মচিৎকারে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা চলে যাওয়ার সময় জহুরাকে খুন করে লাশ ঘুম করার হুমকি দিয়ে যায়।

পরে জহুরাকে চিকিৎসার জন্য নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১৩ ডিসেম্বর জহুরার ভাই মো. আ. আওয়াল বাদি হয়ে বাদি আব্বাস দেওয়ান, বাছেদ দেওয়ান ও বোন আনোয়ারা বেগমকে আসামী করে নাগরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

মোছা. জহুরা আক্তার বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য আব্বাস আমাকে চাপ প্রয়োগ করতো। যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন নির্যাতন সহ্য করে সংসার করেছি। তিনি বিদেশ থেকে আসার পর আরো বেশি অত্যাচার করতে থাকে। আমি আব্বাস ও তার পরিবারের সদস্যদের কঠিন শাস্তি দাবি করছি।’

সরজমিনে বক্তব্য নেয়ার জন্য গেলে এক পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার জহুরা বলেন আমার বৃদ্ধ মা ছাড়া আমাকে দেখার মতো কেও নেই।আমার মা ছাড়া আমার পরিবারের লোকজন আর কেউ আমাকে দেখতে আসেনি শুধুমাত্র আসামীদের হুমকির ভয়ে।তাই এ বিষয়ে আমার পরিবারের লোকজনের এবং আমার সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন।

এ বিষয়ে আব্বাস দেওয়ানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নাগরপুর থানায় এস আই আলমগীর হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের পর আসামী গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বিদ্যুতের অবৈধ পার্শ্ব সংযোগ দিয়ে রাতারাতি কোটিপতি

কোটিপতি হবার ইচ্ছে সকল মানুষেরই থাকে। কিন্তু সবাই হতে পারে না, কেউ চেষ্টা করে সফল …

error: Content is protected !!