সংকট নিয়েই জবির শেষ বর্ষের পরীক্ষা শুরু

জবি প্রতিনিধিঃ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ও মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়েছে আজ থেকে। প্রথমে সংশ্লিষ্ট কোর্সগুলোর মিডটার্ম এবং পরবর্তীতে সেমিস্টার পরীক্ষা ও ভাইভা অনুষ্ঠিত হবে।

তবে পরিবহন ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত না করে চূড়ান্ত পরীক্ষার সিদ্ধান্তে ভোগান্তিতে পড়েছে দেশের একমাত্র অনাবাসিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।

 

গত ১৭ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনার্স ৪র্থ বর্ষের শেষ সেমিস্টার এবং মাস্টার্স শেষ সেমিস্টারের পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের নিজ দায়িত্বে আসা যাওয়া করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।মহামারি করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরীক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন সুবিধা দেওয়া হবে না।

শিক্ষার্থীদের জন্য না থাকলেও শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নিয়মিত যাতায়াতের জন্য রয়েছে পরিবহন ব্যবস্থা ।অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রদত্ত পরীক্ষা ফি আদায়ের বিজ্ঞপ্তি শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির মাত্রা যোগ করেছে। ভর্তি ও পরীক্ষা ফি মওকুফের জন্য উপাচার্যের নিকট শিক্ষার্থীরা লিখিত আবেদন করলেও তাতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের সেমিস্টার ভর্তি পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের জন্য টাকা প্রয়োজন। আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর পারিবারিক অবস্থা ভালো না। তারা টিউশনি করে তাদের খরচ চালাতো।

এই ডিসেম্বরে কারো টিউশনি নাই। ফলে তারা অনেক বড় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এমতাবস্থায় যদি প্রশাসন আমাদের ফর্ম ফিলাপের টাকা মওকুফ বা বিকল্প ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে সবার জন্য অনেক ভালো হতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের অবস্থা খুবই নাজুক। করোনার শুরু দিকে প্রশাসনের আর্থিক প্রণোদনা, অনলাইনে ক্লাস করার সুবিধার্থে মোবাইল ক্রয়ের লোনের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

পরবর্তীতে আর অগ্রগতি দেখা যায়নি। এতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে কাস করতে পারেনি। এরকম পরিস্থিতিতে ঢাকায় এসে বাসা নিতে ঝামেলা পোহাতে হবে।

এদিকে চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।তারা বলেন  দ্রুত ফলাফল পেলে চাকরির জন্য আবেদন করা সহজ হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ বাদশা শেখ বলেন,দীর্ঘদিন করোনা পরিস্থিতিতে বাসায় থেকে সবকিছু একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। এখন অনার্স এবং মাস্টার্স এর চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই।কারণ একটি সেমিস্টার পরীক্ষার জন্য অনেকেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ চাকরির পরীক্ষায় আবেদন করতে পারছেন না।

সেই দিক বিবেচনায় অন্তত যাদের একটা সেমিস্টার বাকি তাদের পরীক্ষা নেয়াটা আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করি।প্রত্যাশা থাকবে যেন অতি দ্রুত এই পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়।ফলাফল পেলে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় আবেদন করার ব্যাপারটি আমাদের জন্য আরো সহজ হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন আরিফ বলেন,দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আমরা উপাচার্যকে অনুরোধ করে আসছিলাম।অবশেষে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।এতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।

পরীক্ষা শেষে যেন দ্রুত রেজাল্ট বের হয়ে যায়।এটাই এখন কাম্য।এতে করে আমরা বিভিন্ন চাকরিতে আবেদনের সুযোগ পাব।

সার্বিক বিষয় নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, ডিনস কমিটির সভায় যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটাই বাস্তবায়ন হচ্ছে।কি কারণে শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা ও টিউশন ফি মওকুফ হচ্ছে না সেটা আমি বলতে পারব না। শুধু ডিনস কমিটি সভার সিদ্ধান্তটা বলতে পারব আমি।

উল্লেখ্য,গত ৭ই ডিসেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ডিনস্ কমিটির এক সভায় সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ  থেকে অনার্স ও মাস্টার্সের চূড়ান্ত  পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

মুদি দোকান করে সংসার চলছে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষিকার

নাসির উদ্দিন,টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালিত …

error: Content is protected !!