প্রতিবেশী সুমা খানের শিশু রাইসাকে হত্যার দায় স্বীকার

টাঙ্গাইল(ধনবাড়ী)প্রতিনিধিঃ- জহিরুল ইসলাম মিলন

টাঙ্গাইলের সখীপুরে শিশু রাইসার(৩) হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছেন প্রতিবেশি আরমানের স্ত্রী সুমা খান(২২)।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকারের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সুমা খান।

তবে সুমার স্বামী আরমান খান আদালতে হত্যার দায় অস্বীকার করেছেন। সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, আদালতে শিশু হত্যার দায় স্বীকার করে সুমা খান জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত ওই দম্পতিকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জবানবন্দিতে সুমা খান বলেন, হত্যার শিকার রাইসার বাবা রাজু খান ৩-৪ বছর আগে নিজের চাচা আরমান খানের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ধার করে ইরাক চলে যান। দেই-দিচ্ছি বলেও টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না রাজু।

পাওনা টাকা আদায়ে গত সোমবার(১৪ ডিসেম্বর) বিকালে রাইসাকে অপহরণ করে নিজের ঘরে আটকে রাখেন। রাইসাকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করে। তখন আরমানও অন্যদের সঙ্গে রাইসাকে খুঁজতে বের হন।

রাইসা কান্নাকাটি শুরু করলে সুমা খান শিশুটির মুখ চেপে ধরেণ এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। লাশটি বস্তায় ভরে ফেলেন। তবে বাড়ির চারপাশে মানুষের আনাগোনা থাকায় বস্তাটি কোথাও লুকাতে পারেননি তিনি।

নিখোঁজের পাঁচ ঘণ্টা পর ওইদিন রাত ১০টার দিকে প্রতিবেশি আরমানের বাড়ির লাকড়ির মাচা থেকে শিশু রাইসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার(১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে শিশুর মা লিপা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সখীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ প্রতিবেশি আরমান খান(৩৫) ও তার স্ত্রী সুমা খানকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করে।

বুধবার(১৬ ডিসেম্বর) তাদেরকে আদালতে পাঠানো হলে সুমা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে ওই দম্পতিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদাল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ‘ডাকাত’ নিহত

কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিব্ধ হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় (২৫) ডাকাত নিহত হয়েছেন। রোববার দিবাগত …

error: Content is protected !!