বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একযুগ ধরে এক্স-রে মেশিন অচল

 

শেখ রনজু আহাম্মেদ রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ৫০ শর্য্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন এক যুগ ধরে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক। এতে সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে রোগীদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সরকারীভাবে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের আড়াই লাখ জনবসতির স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শর্য্যা হাসপাতাল ১টি, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ৪টি, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ৩টি ও কমিউনিটি ক্লিনিক ২৩ টি নির্মান করেছে। পূর্বে জনসংখ্যা অনুযায়ী ৩১ শর্য্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ১জন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ১জন, মেডিকেল অফিসার ২জন, কনসালট্যান্ট সার্জারী ১জন, মেডিসিন ১জন, গাইনী ১জন, এনেসথেশিয়া ১জন ও ডেন্টাল সার্জন ১জন সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১জন করে মোট ১৬ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বর্তমানে ৫০ শর্য্যা হাসপাতালে উন্নীত হলেও নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক। যে কজন আছে তা দিয়েই চলছে উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্য সেবা। ২০১৩ সাল হতে এ পর্যন্ত অপারেশন থিয়েটার (ও টি) চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে ।

 

২০০৮ সাল থেকে বিকল হওয়ার কারণে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে মেশিনটিও। উর্ধতন কতৃপক্ষের চাপে মাঝে মধ্যে গাইনী ডাক্তার সহ দক্ষ ডাক্তারদের পোষ্টিং হলেও অনেকেই যোগদান না করে তাদের পছন্দমত স্থানে চলে যান। দীর্ঘদিন চিকিৎসা কাজে ৪র্থশ্রেনী কর্মচারী ২৩টি পদের অন্তত ১১টি পদই শূন্য রয়েছে । ব্যয়ভার বহন করতে না পারায় ৪০ কেবির জেনারেটরটি চালু করার অভাবে গোডাউনে পড়ে আছে। ২০১১ সালে ২৫ মার্চ ৩১ শর্য্যা হতে ৫০ শর্য্যা হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়। ৫০ শর্য্যায় উন্নীতকরনের পর প্রশাসনিক অনুমতিসহ কিছু উপকরনও বরাদ্দ পাওয়া যায়। এ অবস্থার মধ্যেই দিয়েই শুরু হয়েছে ৫০ শর্যার কার্যক্রম। এলাকাবাসী দ্রুত হাসপাতালটিতে জনবল পদায়নের দাবী জানিয়েছেন।

হাসপাতালে আসা রোগীরা জানান, হাসপাতালে রোগী আসলেই তাকে রেফার্ড করা হয় ফরিদপুর। দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে মেশিন না থাকার কারণে রাজবাড়ী বা ফরিদপুরে যেতে হয়। এতে যেমন বাড়ছে সময় ও খরচ ব্যায়। আসলেও রহস্য জনক কারণে এক্স-রে মেশিন সচল হবে কি না তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। হাসপাতালের অপারেশন হয় না বললেই চলে। তবে হাসপাতালের ডাক্তারই আবার ক্লিনিকে অপারেশন করে থাকে। আসলে এ সকল চিকিৎসক অপারেশন করেন, তারা কি আসলেও সার্জন কিনা খতিয়ে দেখতে সিভিল সার্জনকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শাফিন জব্বার জানান, ইতিমধ্যেই এক্স-রে মেশিন আমরা পেয়েছি। এক্স-রে মেশিনটি নতুন ভবনের স্থাপন করা হবে। টেকনিশিয়ানের কারণে এখনো স্থাপন করা হয়নি। আশা করছি দ্রুতই এক্স-রে মেশিন চালু করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

মুদি দোকান করে সংসার চলছে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষিকার

নাসির উদ্দিন,টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালিত …

error: Content is protected !!