রাজাপুরে ইমাম ও তার পরিবারের উপর হামলা, ঘটনার ৫দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ!

মোঃ নাঈম হাসান ঈমন ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ

ঝালকাঠির রাজাপুরের রোলা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের মামলা তুলে না নেয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় দক্ষিন পাড়গোপাল জামে মসজিদের ইমাম শাহ আলমসহ ৩ জনকে মারধরের ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ মামলা না নেওয়ায় হামলাকারীদের অব্যাহত হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

রোববার বেলা ১১ টায় রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ইমাম শাহ আলমের স্ত্রী আমিনা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে আমিনা বেগম লিখিত বক্তেব্য বলেন, উপজেলার রোলা গ্রামের ১০ নং জেএল, ৮৯ ও ৯০ নং বিএস খতিয়ানের বিএস ৯৩৮, ৯৩৯, ৯৪০, ১০১২, ১০১৩ নং দাগের কবলা সূত্রে দলিল মূলে আমি ২৪ শতাংশ জমির মালিক। আমার প্রতিপক্ষ একই গ্রামের মৃত রশিদ হাওলাদারের ছেলে মোঃ ইউসুফ আলী হাওলাদার, ইউসুফের স্ত্রী শিউলি বেগম, ইউসুফের ছেলে রিয়াজ হাওলাদার ও মেয়ে ইরানী বেগম আমার ওই জমির মধ্যে তারা কোন জমি পাবে না। তার পরেও তারা অবৈধভাবে বারবার ওই জমি দখলের চেষ্টা করে এবং জমি আমার দখলে থাকায় আমার ঘর ও গোয়াল ঘরের উপর হামলা করলে আমি অসহায় হয়ে আদালতে মামলা করি। মামলায় আমরা রায় পাই। প্রতিপক্ষরা রায়ের বিপক্ষে আপিল করেন। যাহা আদালতে চলমান আছে এবং এমতাবস্থায় প্রতিপক্ষরা ওই জমিতে পেশি শক্তির মাধ্যমে ঘর নির্মানের কাজ শুরু করলে আমি আদালত থেকে ওই জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করাই। সেই নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে প্রতিপক্ষরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, গত ৯ ডিসেম্বর ওই জমিতে আমার গোয়াল ঘরের পাশ থেকে গরুর মলের জৈব সার আনতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন আমার স্বামী মোঃ শাহ আলম (৫৫) কে কোদাল দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। তাকে রক্ষার জন্য মেয়ে সাজিদা বেগম গেলে তাকেও কোদালের হাতল দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এমনকি এ সময় সাজিদার শিশু কন্যা তাশনুবা জামান রাইশা (২) কে ও পিটিয়ে আহত করে। আহত তিনজনই রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি। বর্তমানে প্রতিপক্ষরা আদালতের মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। তাদের ভয়ে এখন তারা বাড়ি ছাড়া। তাদের ভয়ে পরিবারের লোকজন আতংকিত। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা বারবার হামলা করে আসছে। বর্তমানে আমার স্বামী, মেয়ে ও নাতনী আহত হয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি থাকলেও থানা পুলিশ আমার মামলা নেয়নি। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। তিনি প্রশাসনের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

অভিযুক্ত ইউসুফ আলী হাওলাদারের মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় তার মতামত পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ওসি তদন্ত আবুল কালাম আজাদ জানান, তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে একটি জিডি রেকর্ড করে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার সার্টিফিকেট পেলে সে অনুযায়ী মামলা নেয়া হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

সদরঘাটে পা পিছলে পুলিশের এসআই’র মৃত্যু

ঢাকার সদরঘাটে টার্মিনালের পল্টুন থেকে পা পিছলে নদীতে পড়ে পুলিশের এক এসআই’র মৃত্যু হয়েছে। নিহত …

error: Content is protected !!