স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’কে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার দাবিতে স্মারকলিপি

অপূর্ব চৌধুরী,জবি প্রতিনিধিঃমুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ ও দুঃসাহসিক ভূমিকার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি’কে বীরবিক্রমসহ ‘স্বাধীনতা পদক’ দেওয়ার দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এ স্মারক প্রদান করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) সাবেক সভাপতি এস এম আল-আমিন। মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপ-সচিব) হাবিবুর রহমান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ) সাবেক ছাত্র। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নৈতিক দায়িত্ব থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে এ দাবি জানান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক ছাত্র এস এম আল-আমিন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আসাদুজ্জামান খান কলেজ পড়ুয়া টগবগে যুবক ছিলেন। সেই সময়ে দেশ মাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি। পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিহত করতে ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ দিনে ফার্মগেইট এর বর্তমান সিকিউরিটি পয়েন্ট রাস্তা বরাবর একটি মজবুত ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল। যেন সেনানিবাস থেকে পাকিস্তানি বাহিনী প্রবেশ করতে না পারে। আর এই ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল কড়ই গাছের গুড়ি ও ভাঙ্গা লোহা-লক্কর দিয়ে।

সেই ব্যারিকেডটি ছিল ফার্মগেইট সিকিউরিটি পয়েন্ট থেকে বর্তমান আল রাজি হাসপাতাল বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে আড়াআড়িভাবে। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে যখন পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে অগ্রসর হয় তখন এতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়। আর বুলডোজার দিয়ে এই ব্যারিকেডের আওতায় গাছের গুড়ি ও লোহা-লক্কর সড়াতে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এই ব্যারিকেডের সামগ্রিক কর্মকান্ডের নেপথ্যে উঠতি যে ছাত্রনেতা নিজের জীবন বাজি রেখে ভূমিকা রেখেছিলেন, তিনি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি।

প্রতিরোধের বিবরণ মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর একান্ত ঘনিষ্ঠ মেজর সিদ্দিক সালিক কর্তৃক প্রণীত Witness to surrender [First published in 1977 by Oxford University Press, Karachi] বইতে সন্নিবেশিত হয়েছে। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের এই ব্যারিকেডের ব্যাপারে আরও অনেক বইতে উল্লেখিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বই মো. আব্দুল বাকী চৌধুরী নবাব কর্তৃক রচিত ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ব্যারিকেডের পুরোধা আসাদুজ্জামান খান কামাল’।

পরবর্তীতে তিনি ২ নং সেক্টরের আওতাধীন থেকে বেশ কতগুলো অপারেশনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন তিনি। তাই তিনিও মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ‘স্বাধীনতা পদক’ পাওয়ার যোগ্য দাবিদার।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

মহান মে দিবস আজ

পয়লা মে আজ। মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা দিন। ১২ ঘণ্টার পরিবর্তে …

error: Content is protected !!