২৩ নভেম্বর রাজাপুর হানাদার মুক্ত দিবস

মোঃ নাঈম হাসান ঈমন ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ ২৩ নভেম্বর ১৯৭১ রাজাপুর মুক্ত দিবস। পশ্চিম পাকিস্তানের একপেশী আচরন, নিপীড়ন, নির্যাতন,ধর্ষন,খুন,রাষ্ট্রীয় সম্পদ বন্টনে বৈষম্য অর্থনীতি ও উন্নয়নে বৈষম্য ,চাকরিতে বৈষম্য, সর্বশেষ ৬৯ রের জাতীয় নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর জয় লাভ করার পরেও ক্ষমতা হস্তান্তর না করা সহ পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের নানা অনিয়মের কারনে বাংলাদেশের মানুষেরা গর্জে ওঠে।

 

তারই ধারাবাহিকতায়, বঙ্গবন্ধু শেখ – মুজিবুর রহমানের ডাকে ৭ মার্চ রেডক্রর্স ময়দানে বাংলাদেশের মানুষ সমাবেত হয়। ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনে বাংলাদেশের মানুষেরা ঝাপিয়ে পড়ে। ঝাঁপিয়ে পড়ে পশ্চিম পাকিস্তানে চাকরিরত অসংখ্য বাংলাদেশী।ছুটে আসে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে দেশকে রক্ষা করতে মাতৃভূমি বাংলায়। ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধে।

 

জানা যায় পূর্ব পাকিস্তানের একপেশী আচরনের বিরূদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে লোভনীয় চাকরি, সেনা অফিসার, ক্যাপ্টেন পদ ছেড়ে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে ৯ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর আঃ জলিলের অধীনে বরিশাল অঞ্চলের সাব-সেক্টর কমান্ডার পদে যোগ দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে যুদ্ধ করে ক্যাপ্টন ওমর। বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধের ফাঁকে রাজাপুর থানা দখল মুক্ত করে ২৩ নভেম্বর রাজাপুরে যুদ্ধ করেন ওমর। ওমরের মামা রাজাপুর থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সেনা সদস্য, কে এ আজাদ ও ডেপুটি কমান্ডার সেনা সদস্য আব্দুল হামিদের নেতৃত্ব ২৩ নভেম্বরের সপ্তাখানেক আগে বাঘরী ধানসিঁড়ি নদী এলাকায় এ্যাম্বুস ও অস্রসশ্র নিয়ে পাকিস্তানি সৈনিক এর আগমন প্রতিহত করতে পাহাড়া বসান এবং ২২ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধা সহোযোগি আব্দুল লতিফ হাওলাদারের বাড়ীতে সমাবেত হন, সেখানে আব্দুল লতিফ মুক্তিযোদ্ধাদের গরু জবাই করে রাত দেড়টার দিকে খাওয়া দাওয়া করান। লতিফ হাওলাদারের বাড়ী থেকে মুক্তিযোদ্ধারা বাঘরি হাটের উত্তর মাথায় মসজিদের সামনে নদীর পাড়ে সমবেত হয়। সেখান থেকে যে যে ভাবে পারে খাল পার হয়ে রাজাপুর থানার পাড়ে আসেন। ফজরের আযানে হাইআ আলাসছলা বলার সংঙ্গে সংঙ্গে পূর্বের সিদ্ধান্তমত সেকের হাটের মোঃ ছলিম শেখ, থানার পশ্চিম পাশ থেকে থানায় গ্রেনেট চার্জ করে। শুরু হয় যুদ্ধ, জয় বাংলা স্লোলগান দিয়ে থানার চারপাশ থেকে আক্রমণ করে মুক্তিকামি জনতা। থানার ভিতর থেকে ও থানা ক্লাব থেকে, পুলিশ ও রাজাকাররা পাল্টা গুলি ছুড়ছে তো ছুড়ছেই। চলছে যুদ্ধ। অন্য দিকে কাঁঠালিয়ার চেচরি গ্রামের বিলে বসে ক্যাপ্টেন ওমরের এক পরামর্শ সভায় রাজাপুর থানা দখল মুক্ত করার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২২ নভেম্বর বাদিয়ার ভেসে নৌকার বহর নিয়ে রাজাপুর জীবনদাসকাঠী এলাকায় খালে বিকাল ৫ টায় হাজির হয়ে অবস্থান নেন এবং ২৩ নভেম্বর সকালে রাজাপুর থানা আক্রমণের যোগ দেন।চলছে যুদ্ধ, মুক্তি যোদ্ধাদের চেয়ে পাকিস্তান পুলিশ ও রাজাকারদের অস্র গোলা বারুদ অনেক বেশি। থানার ভিতর থেকে মুক্তি যোদ্ধাদের উপরে মুহু মুহু গুলি ছুড়ছে, সে তুলনায় মুক্তি বাহিনী কিছুনা, তারপরেও মুক্তি যোদ্ধারা যুদ্ধ করছে, হঠাৎ একটি গুলি ক্যাপ্টেন ওমরের পায়ে আঘাত করে, ওমর আহত হন, সহো যোদ্ধাদের বুঝতে না দিয়ে আহত ওমর যুদ্ধ চালিয়ে যান এবং পুলিশ ও রাজাকার বাহিনীকে হ্যান্ড মাইকে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান করেন, বলেন জীবন বাঁচাতে চাইলে আত্নসমর্পন করো, তাতেও পাকবাহিনী আত্নসমর্পন না করলে ওমর থানার পশ্চিম দিক থেকে ২ টি ভারী মটার চার্জ করেন। মটারে বেশ জোরে শব্দ করে এবং থানার পশ্চিম পার্শের আঘাত করলে, শত্রু পক্ষ ৯ টা ৩০ মিনিটে দিকে আত্নসমর্পন করে। রাজাপুর থানা দখলদার মুক্ত হয়ে ওড়ে লাল সবুজের পতাকা। অন্যদিকে যুদ্ধ চলার মধ্যে পাক বাহিনীর গুলিতে ক্যাপটেন ওমরের খালাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক নিহত হয়, এবং ওমর সহ অনেকে মুক্তি যোদ্ধা আহত হয়। ২৩ নভেম্বর যাহারা রাজাপুর থানা মুক্ত করতে যাহরা অংশগ্রহণ করে তাদের মধ্যে অন্য তম ৯ নং সাব-সেক্টরে কমান্ডার ক্যাপ্টেন ওমর, বর্তমান নাম, ব্যারিস্টার মেজর এম, শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, সাবেক মন্ত্রী, রাজাপুর থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সেনা সদস্য কে,এ,আজাদ ডেপুটি কমান্ডার, সেনাসদস্য আব্দুল হামিদ সেনাসদস্য,মোঃ মন্টু মোল্লা বিডিআর নায়েক মোঃ হাতেম আলী নান্নু মিয়া বিডিয়ার মোঃ মন্টু, সেকের হাট বিডিআর মোঃ হারুন অর রশিদ, পুলিশ সদস্য মোঃ আনোয়ার হোসেন খান সাংগর মোঃ মোবাক্ষের বিশ্বাস, সাউথপুর মোঃ মতিউর রহমান, সাংগর, আব্দুল মন্নান খান বদনীকাঠি পুলিশ সদস্য মোঃ শাহ আলম,নৈকাঠি, ছালাম সিকদার ও মোঃ হেমায়েত সিকদার, মোঃ তছলিম, সেকেরহাট মোঃ মানিক জমাদ্দার সাতুরিয়া মোঃ দেলোয়ার হোসেনের মৃধা সাংগর সৈয়দ শাহআলম ও ভাই সৈয়দ শামসুল আলোম, ভাতকাঠী মোঃ মিলু খান ও ভাই মোঃ হুমায়ুন খান, আংগারিয়া মোঃ খায়রুল আলম সরফরাজ, হেমায়েত,তারাবুনিয়া সেকেন্দার আলী ও ভাই এসকেন্দার আলী সাতুরিয়া মোঃ মহসিন মৃধা, মোঃ মানিক,মোঃ মুজলাম মৃধা,আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুস সোবাহান মক্কু,মোঃ ফারুক মৃধা, সাংগর , মোঃ ছোহরাপ পিতা এনছাব আলী, হাতেম আলী নান্নু মোঃ হাসেম কাজী,মোঃ জলিল তালুকদার কাঠীপাড়া, মোঃ আশ্রাব আলী খলিফা ইন্দ্রপাসা আব্দুল জলিল সিকদার আলগী মোঃ খালেক সিকদার ও আব্দুর রশিদ সিকদার ছোট কৈবর্তখালি মোঃ শাহআলম মৃধা আব্দুল মন্নান তালুকদার মনোহরপুর মোঃ জুলফিকার পিতা হামেজ উদ্দিন মৃধা মোঃ নেছার আলী পিতা মোকলেছ উদ্দিন সাংগর মোঃ সুলতানা মুন্সি, তারাবুনিয়া মোঃ মোজাম্মেল হোসেন, সাতুরিয়া মোঃ খলিলুর রহমান নৈকাঠী মোঃ সুলতান খলিফা মোঃ এমরান জমাদ্দার, মোঃ হেদায়েত জমাদ্দার,মোঃ তোফাজ্জেল জমাদ্দার,মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মোঃ কেরামত আলী জমাদ্দার, মোঃ জাহাঙ্গীর কবির,মোঃ খায়রুল বাসার, মোঃ মজিবুর জমাদ্দার,মোঃ আবুল কালাম আজাদ, মীর মুনছুর নৈকাঠি, মোঃ রুহুল আমিন হাওলাদার সাতুরিয়া, মোঃ গনী ফরাজি,চাড়াখালি ছাত্র মোঃ ছালাম সিকদার, শিয়াল কাঠি মোঃ ছালাম সিকদার হেমায়েত সিকদার মীর মুনছুর , মোঃ নুরু,সুলতান মিয়া প্রমুখ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ভূমি কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে ইন্দুরকানীতে মানববন্ধন

  ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুরের মাটিভাঙা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেনকে সরকারি …

error: Content is protected !!