ঘুরে আসুন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা রাজবাড়ী

দিদারুল ইসলামঃ বাংলাদেশের অন্যতম একটি জমিদার বাড়ি হলো ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা রাজবাড়ি এবং এটি ময়মনসিংহ তথা বাংলাদেশের একটি প্রাচীণ নিদর্শন। প্রতিদিনই অসংখ্য ভ্রমণপিয়াসী মানুষ ঘুরতে আসেন এখানে।

“উইকিপিডিয়া” থেকে জানা যায় মুক্তাগাছার তৎকালীন জমিদার ব্রিটিশ রাজন্য কর্তৃক প্রথমে রাজা এবং পরে মহারাজা উপাধি পেয়েছিলেন বিধায় জমিদারের বাসভবন রাজবাড়ী হিসেবে আখ্যায়িত হতো।


সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ

রাজবাড়ীর প্রধান তোরণের পশ্চিম দিকে আটআনি প্রসাদের অবস্থান। ময়মনসিংহ জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরী ১৭২৭ সালে আলীবর্দি খাঁ এর সময়ে এ জমিদারির বন্দোবস্ত পান। খ্রীস্টীয় উনিশ থেকে বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এ জমিদারির উত্তরাধিকারীগণ অন্যান্য স্থাপনা শৈলীতে বিভিন্ন স্থাপনা সমূহ নির্মাণ করেছেন। জমিদার বাড়িটির মধ্যে দুর্গা মন্দির, রাজরাজেশ্বরী মন্দির, তোষাখানা, লোহার নির্মিত দ্বিতল হাওয়া খানা সহ বেশ কয়েকটি ভবন রয়েছে। নাটমন্দিরের পশ্চিমাংশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঞ্চায়নের জন্য ছিলো ঘূর্ণায়মান মঞ্চ। প্রাসাদ প্রাঙ্গনের বাহিরে হয়েছে পাথরের শিব মন্দির, জোড়া মন্দির ও তিন শিব মন্দির; যা তৎসময়ের প্রত্ন ঐতিহ্য বহন করে চলছে। উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত এই তথ্যগুলো দর্শনার্থীরা জমিদার বাড়ির প্রবেশ ধারের বামপাশে ঢোলের উপর থেকেও চোখ বুলিয়ে নিতে পারবেন।


ইতিহাসঃ

“বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন” থেকে জানা যায় জমিদার আচার্য চৌধুরী বংশ মুক্তাগাছা শহরের গোড়াপত্তন করেন । আচার্য চৌধুরী বংশ শহরের গোড়াপত্তন করে এখানেই বসতি স্থাপন করেন। আচার্য চৌধুরী বংশের প্রথম পুরষ শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরী ছিলেন বগুড়ার বাসিন্দা। তিনি মুর্শিদাবাদের দরবারে রাজস্ব বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন নবাবের খুবই আস্থাভাজন। নবাবের দরবারে রাজস্ব বিভাগে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১১৩২ সালে তিনি সেই সময়ের আলাপসিং পরগণার বন্দোবসত্ম নিয়েছিলেন। উলেস্নখ করা যেতে পারে যে, বর্তমানে মুক্তাগাছা শহরসহ মুক্তাগাছা উপজেলার বেশিরভাগই ছিল আলাপসিং পরগণার অন্তর্ভুক্ত।

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নানা কারণে শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর ৪ ছেলে বগুড়া থেকে আলাপসিং এস বসবাসের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর এই ৪ ছেলে হচ্ছে রামরাম, হররাম, বিষ্ণুরাম ও শিবরাম। বসতি স্থাপনের আগে তারা এ পরগণার বিভিন্ন স্থান ঘুরে ফিরে দেখেন এবং বর্তমান মুক্তাগাছা এলাকায় বসতি স্থাপনের জন্য মনস্থির করেন। সে সময়ে আলাপসিং পরগণায় খুব একটা জনবসতি ছিলনা। চারদিকে ছিলো অরণ্য আর জলাভূমি। শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্যের ৪ ছেলে ব্রহ্মপূত্র নদের শাখা নদী আয়মানের তীরবর্তী স্থানে নৌকা ভিড়িয়ে ছিলেন। জমিদারদের পরিত্যক্ত সেই বাড়ীটি সহজেই পর্যটকদের মন কারে।

অবস্থানঃ

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলা শহরে অবস্থিত এই নান্দনিক স্থাপনা টি।

কিভাবে যাবেনঃ

প্রথমে আপনাকে ময়মনসিংহ, জামালপুর অথবা টাংগাইল জেলায় আসতে হবে। ময়মনসিংহ থেকে মুক্তাগাছা উপজেলার দুরত্ব প্রায় ১৯ কিলোমিটার।

টাংগাইল থেকে মুক্তাগাছা উপজেলার দুরত্ব প্রায় ৮২ কিলোমিটার এবং জামালপুর থেকে মুক্তাগাছা উপজেলার দুরত্ব পারে ৪১ কিলোমিটার। (দূরত্ব মাপায় গুগুল ম্যাপ ব্যবহার করা হয়েছে) তাই আপনার এরিয়া থেকে যেই স্থান কাছে হয় আগে সেখানে আসুন তারপর উক্ত জেলা গুলো থেকে মুক্তাগাছা উপজেলায় যাওয়ার বাস / সিএনজি পেয়ে যাবেন। মুক্তাগাছায় নেমে রিকশাওয়ালা কে বললেই রাজবাড়ী নিয়ে যাবে। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি বাস যোগেও মুক্তাগাছা যাওয়া যায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

লালপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী জালালের মোটরসাইকেল শোডাউন

  লালপুর(নাটোর) প্রতিনিধিঃ নাটোরের লালপুরে তিন শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রা ও গণসংযোগ করেছে দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের …

error: Content is protected !!