নাটোরে লেপ-তোষক তৈরির ধূম, ব্যস্ত কারিগররা

করেসপন্ডেন্ট নাটোর: হেমন্তে নবান্নের আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে হালকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা মৃদু শীত দরজায় কড়া নাড়ছে।শীতের আগমনী বার্তায় প্রতিটি পরিবারে শীত মোকাবেলায় লেপ-তোষকের চাহিদা বাড়ছে।দেশের সবচেয়ে উষ্ণতম অঞ্চল নাটোরের লালপুরে দিনে কিছুটা গরম থাকলেও রাতে শীতল বাতাসে শীতের প্রভাব বর্তমানে বাড়ছে।

তাই বনলতা সেনের স্মৃতি বিজারিত সেই বিখ্যাত কাঁচাগোল্লার সুমিষ্ট রসে ভরা নাটোর জেলার ঐতিহাসিক স্হান লালপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কারিগর রা।
প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী কার্তিক মাসে শীত অনুভূত হলেও পৌষ মাঘ এই দুই মাস শীত কাল।

লালপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জ/হাট-বাজার এবং দোকান পাট ঘুরে দেখা গেছে শীতের প্রভাবে লালপুর জেলার বাসিন্দার আগাম শীতের কাপড় ও লেপ তোষক বানানোর দোকানে ভীড় করেছে।

অনেক পরিবারের লোকজন তাদের বাক্স ভর্তি পুরাতন লেপ-তোষক বের করে মেরামত ও করছে।
শীতে নাকি এবার ২য় রাউন্ড কোভিড-১৯ মোকাবেলা করতে হবে। তাই শীতে এবার লোকাজনকে আগে থেকেই সজাগ হতে দেখা গেছে।

উপজেলার লালপুর বাজারের এক লেপ-তোষক বিক্রেতা বলেন,ক্রেতার ভীড় আস্তে আস্তে আরো বাড়বে এবং আমরা ক্রেতাদের নিকট পূর্বের মতোই স্বাভাবিক দামেই লেপ তোষক তৈরি করে বিক্রয় করছি।

উপজেলারদুড়দুড়িয়া,বিলমাড়ীয়া,মনিহারপুর,নওপাড়া,মহারাজপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে মহিলারা একে অপরের সহযোগিতায় বিভিন্ন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পুরাতন লেপ মেরামতে ব্যস্ত।

জোসনা নামের এক মহিলা বলেন, আমারা মহিলা মানুষ পুরাতন লেপের তুলা বের করে নতুন কাপড় ও তুলা দিয়ে কম খরচে লেপ তৈরি ও মেরামত করি।

এছাড়াও বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জে ফেরি করেও লেপ তোষক বিক্রয় করতে দেখা যাচ্ছে। দোকানীরা অর্ডার গ্রহণ এবং ক্রেতাদের বিভিন্ন রং মানের কাপড় ও তুলা দেখাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এই দৃশ্যগুলো চোখে পড়ার মত।

লেপ-তোষক ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা কোভিড ১৯ এর জন্য যতটুকু সম্ভব ছাড় দিব এবং স্বাভাবিক দামেই লেপ তোষক বিক্রয় করছি বা করবো।

 

অপর দিকে উপজেলার গোপালপুরে অবস্থানরত আজিম নগর রেলগেট এলাকায় গড়ে ওঠা লেপ তোষক বানানোর ১৫/২০ জন কারিগর রয়েছেন।তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,তারা মালিকদের চাহিদা মোতাবেক লেপ তোষক তৈরি করে থাকেন।এতে লেপ তোষক প্রতি মজুরী হিসেবে তাদের ভাগ্যে জোটে ছোট-বড় অনুযায়ী ৩শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত। লেপ তোষক বানানোর কারিগর রমযান আলী, আলম হোসন, হায়দার আলী, মনু মিয়, মুরাদ হোসেন, সাব্বির হোসেন জানান, ছোট বড় প্রকার ভেদে এবার লেপ তোষক বানাতে খরচ পড়ছে ৮শ থেকে ৯ শ টাকা পর্যন্ত।মজুরী, তুলাসহ লেপ তোষক বানানোর কাজে ব্যবহৃত জিনিস পত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় লেপ তোষকের দাম গড়ে ২শ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

নেত্রকোনার হাটখলা বাজারে অগ্নিকান্ড 

পলাশ সাহা, নেত্রকোনা ( দূর্গাপুর) প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতী ইউনিয়নের হাটখলা বাজারে বুধবার ভোর …

error: Content is protected !!