রাজাপুরে সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ

 

মোঃ নাঈম হাসান ঈমন ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের কাউনদাশকাঠি, নলবুনিয়া,সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধ ভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে কয়টি পাকা স্থাপনা। দিনে দুপুরে ও রাতের আধারে এসব স্থাপনা নির্মাণের কাজ করেছে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ও স্থানীয় তহসিল অফিসকে ম্যানেজ করে কতিপয় ভূমি দস্যুরা এসব স্থাপনা তুলছেন। ফলে বেদখল হচ্ছে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা মূল্যের সরকারি জমি। জানায়ায়, কানুদাশকাঠি নলবুনিয়া বাজার লঙ্ঘনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ২ একর জমি রয়েছে।

 

এর মধ্যে ভূমি অফিসের রয়েছে। মোট জমির প্রায় ৮০ শতাংশ জমি প্রভাবশালী মহলের দখলে রয়েছে। এছাড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের নলবুনিয়া সেতুর নিচের জমি দখল করে আব্দুল কুদ্দুস সেন্টু প্রায় চারটি অবৈধ পাকা স্হাপনার কাজ করেছে, আরও পাঁচটি অবৈধ পাকা স্থাপনা নির্মাণ করার কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা সূত্র জানায়। পোনা নদী হতে নলবুনিয়া থেকে পুটিয়াখালী  হয়ে কচা নদীর সাথে সঞ্জগ হয়ছে। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর আগে কৃষকদের সেচের সুবিধার জন্য খালটি আরও খনন করেন।এখন সেচকাজের জন্য ও পানিনিষ্কাশনের একমাত্র পথ খালটি,খালটির ওপর আব্দুল কুদ্দুস সেন্টু ওরফে(ডাইল) নামে পরিচয় এই ব্যক্তি পাকা দোকান ঘর তৈরি করছেন। সরেজমিনে গেলে দেখা যায়,খালটির পাড় থেকে ভেতরের দিকে প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত কংক্রিটের পিলার নির্মাণ করা হয়েছে।ঢালাইয়ের কাজের জন্য পিলারের ওপরে রড বসানো হয়েছে। খালের পাড়ের অংশে মাটিও ভরাট হয়েছে। ওই স্থানে দেয়াল তৈরি করা হয়েছে। এসব স্থাপনা নির্মাণের জন্য খালের প্রায় ২ শতাংশ জায়গা দখল করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন,১৯৯৫-এর,৬-এর ঙ উপধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছু থাকুক না কেন, জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা অন্য কোনোভাবে শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। এই আইন লঙ্ঘন করে এই ভূমি দস্যু   খালের জমিতে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন।কাউনদাশকাঠীর গ্রামের লোকজন গোপনে বলেন, এলাকার লোকজন,এই ভূমি দস্যুর বয়ে সমনে আসতে চায়না। গ্রামের পানিনিষ্কাশনের একমাত্র পথ খালটি। দখলের কারণে এটি অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে। খালের ওপর পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। ফলে বর্ষা মৌসমে পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। সরকারি খাল এভাবে দখল হলেও প্রশাসনের নজরদারি নেই।

 

তাঁরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ কাজে বাধা দিতেও সাহস পাচ্ছেন না।অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুস সেন্টু কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। সব মিলিয়ে নলবুনিয়া বাজারের বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখল করে ঘর তোলার হিড়িক চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ কতিপয় সরকারী কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীর আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ম্যানেজ করে তোলা হচ্ছে এসব স্থাপনা। জরুরি ভিত্তিতে এসব স্থাপনা তোলার কাজ বন্ধ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন স্থানীয়রা। শিগগিরই অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে সরকারি জমি দখল করা হবে জানিয়েছেন রাজাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহাগ হাওলাদার। 

তিনি বলেন আমরা ইতিমধ্যে রাজাপুর উপজেলার বেশকিছু অবৈধ দখলদার সরকারি জমি ও খাস জমি অবৈধ ভাবে দীর্ঘদিন দখল রেখেছিলেন তাদের এই দখল থেকে আমরা মুক্ত করেছি, পাশাপাশি আমাদের এই অভিযান চলমান রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে যারা এই রকম অবৈধ ভাবে দখলদার আছে তাদের বেশকিছু নথি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রেরণ করেছি। অনুমোদন হয়ে আসলে আমরা আবার কার্যকর্ম শুরু করব।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

নেত্রকোনায় র‌্যাবের হাতে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী আটক

  পলাশ সাহা, নেত্রকোনা ( দূর্গাপুর) প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুরে অস্ত্র ও মাদকসহ মো. সোহেল …

error: Content is protected !!