রাজবাড়ীতে আলু নিয়ে চিন্তায় ক্রেতা-বিক্রেতা ও আড়ৎদাররা

শেখ রনজু আহাম্মেদ রাজবাড়ী প্রতিনিধি রাজবাড়ীর বেশির ভাগ বাজারে পর্যাপ্ত পরিমানে শীতকালীন সবজি পাওয়া গেলেও নিখোজ রয়েছে আলু। সব ধরনের তরকারিতে প্রয়োজনীয় এ সবজির যেন দেখা নেই বাজারে। যে কারনে আলু ছাড়াই হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন ক্রেতারা। আর বিক্রেতা ও আড়ৎদাররা জানান সরকারীভাবে বেধে দেওয়া দামে আলু বিক্রি করতে গিয়ে লোকসানের পড়তে হচ্ছে। হতে হচ্ছে জেল ও জরিমানার স্বীকার যে কারনে মোকাম থেকেই আলু আনছেন না তারা।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার একটি ঐতিয্যবাহি ও পুরাতন বাজার হচ্ছে খানখানাপুর। হাজার হাজার মানুষ এই হাট থেকে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করে। ওই হাটে গিয়ে দেখাযায়, সারা হাটে একটিও আলু নেই। কেবল আছে ক্রেতা আর বিক্রেতাকে আলু নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য। আলু কিনতে না পেয়ে হতাশায় ফিরে যাচ্ছেন অনেক ক্রেতা।
এ সময় খানখানাপুর বাজারের ক্রেতা মমতাজ বেগম বলেন, আলু সংরারের এমন একটি প্রয়োজনীয় জিনিস যা প্রতিটি খাবারের সাথেই ব্যাবহার করা হয়। আলু ছাড়া রান্না করা কষ্ট সাধ্য ব্যপার। বাজারে এসে সেই আলু ছাড়াই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। কোন দোকানে এক পোয়া আলুও নেই।

খানখানাপুর কাচা বাজারের ব্যাবসায়ী,আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল জানান, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমানে শীতকালীন সবজি পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে বাজারে বেগুন ৪০ টাকা কেজি, মুলা ৩৫ টাকা কেজি, শষা ৩০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৫০ টাকা কেজি, পটল ৪০ টাকা কেজি, মরিচ ২০০ টাকা কেজি, পেপে ৪০ টাকা কেজি ও পেয়াজ ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। তবে বাজারে আলু না থাকায় ক্রেতাদের সাথে বাক বিতন্ডা লেগেই আছে।

খানখানাপুর বাজারের ব্যাবসায়ী কাদরিয়া বানিজ্যলয়ের মালিক সেলিম মল্লিক ও লুৎফর রহমান বলেন, রংপুরের মোকাম থেকে আলু কিনতে হচ্ছে ৪১ টাকা কেজি দরে যা খরচ খরচাসহ ৪২ টাকা দারিয়েছে সেই আলু ১ টাকা লাভে বিক্রি করলেও তার দাম নিতে হবে ৪৩ টাকা। কিন্তুু সরকার থেকে বলা হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে। এই আদেশ না মানলে জরিমানা গুনতে হচ্ছে তাই আমরা আলু আনা বন্ধ করে দিয়েছি। এতে আমাদের দোকানের শ্রমিকদের বসে বসে বেতন দিতে হচ্ছে।

খানখানাপুর বাজার ব্যাবসায়ী সমিতির সহ সভাপতি পরিমল চন্দ্র পাল বলেন, আমরা পন্য কিনে এনে বিক্রি করি। ভ্রাম্যমান আদালত যদি চালাতেই হয় তবে রংপুরের বড় বড় মোকাম আছে সেখান চালানো হোক। আমরা ছোট ব্যাবসায়ী এভাবে আমাদের জরিমানা ও জেল দিলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। এখন বাজারের আলুর জন্য হাহাকার লেগেছে। প্রশাসন বলছে আপনারা সরকারের নির্দেশ মেনে বিক্রি করেন। আমরা মানবো। আমাদের মোকামেও তারা বলে দিক সরকারের নির্দেশ মেনে আলু বিক্রি করতে হবে।

এ ব্যপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর রাজবাড়ীর সহকারী পরিচালক মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, ভোক্তার অধিকার রক্ষায় আমরা রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন বাজারে বাজারে অভিযান চালাচ্ছি। সরকারী নির্দেশ না মানলে তাদের জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে আলুর যে সংকট তৈরি হয়েছে আশা করা যাচ্ছে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন আলু বাজারের আসলে সেই সংকট কেটে যাবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

নরসিংদীতে আলু লাগামহীন ঘোড়া, প্রতি কেজি ৫০ টাকা

  হৃদয় এস সরকার,নরসিংদী: সরকার আলুর দাম দুই দফা নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও নরসিংদীতে দাম …

error: Content is protected !!