রাজবাড়ীতে এ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষার নামে আদায়কৃত টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ

শেখ রনজু আহাম্মেদ রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ রাজবাড়ী জেলা শিক্ষা অফিসারের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বালিয়াকান্দিতে এ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষার অজুহাতে নানা ধরণের গলাকাটা ফি আদায় করার অভিযোগ উঠে।

এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বুধবার উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এক জরুরী সভা আহবান করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আম্বিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী এজাজ কায়সার, উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা প্রধানদের নিয়ে জরুরী সভা করা হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী এজাজ কায়সার বলেন, শিক্ষকদের নিয়ে মিটিং করে যাতে নতুন করে কোন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা না নেওয়া হয় এবং যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাদেরকে ফেরত প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আম্বিয়া সুলতানা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায়কৃত টাকা ফেরতের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বালিয়াকান্দি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও নলিয়া শ্যামা মোহন ইনস্টিটিউশনের বিরুদ্ধে গলাকাটা ফি আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।

 

নলিয়া শ্যামা মোহন ইনস্টিটিউশনের গিয়ে দেখাযায়, তড়িঘড়ি করে প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্যে শিক্ষকরা মোটর সাইকেল নিয়ে দ্রুত চলে যাচ্ছে। জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশনার বিষয়ে জানতে গেলে স্কুলের ৭ম শ্রেণীর রাকেস কুন্ডু ও ৮ম শ্রেণীর পার্থ কুন্ডুর নিকট থেকে নিয়েছে ৪ হাজার ৮শত টাকা, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শ্রাবনী রায়ের কাছ থেকে ১৫শত টাকা নিয়েছে, সামান্তা খানের ১৭ শত টাকা দাবী করলেও নিয়েছে ১হাজার টাকা, সপ্তম শ্রেণীর দিপ্ত কাছ থেকে নিয়েছে ২৫শত টাকা, ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তানভীরের নিকট থেকে ১হাজার টাকা, দিব্যুর নিকট থেকে ২হাজার টাকা দাবী করে ৩শত টাকা, নবম শ্রেণীর রিফাতের নিকট ৪ হাজার টাকা দাবী করলেও ১হাজার টাকা, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর নুসরাত জাহান আশার নিকট থেকে ৫শত টাকা, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর সেতু কুন্ডুর নিকট ১৭ শত টাকা দাবী করলেও নিয়েছে ৭শত টাকা, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর বিজয়ের কাছ থেকে ৩শত টাকা, বন্যা বিশ্বাসের নিকট ২ হাজার দাবী করলেও ৫শত টাকা নিয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে না চাইলে প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মিয়া বিভিন্ন ধরণের কটু ও অশ্লিল কথাবার্তা বলে।
বালিয়াকান্দি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র নাদিমুল বাশারের নিকট থেকে ৫শত টাকা নেওয়া হয়েছে। যতবার প্রশ্ন ও পরীক্ষার ব্যবস্থা হবে ততবার টাকা দিতে হবে বলেও প্রকাশ করেন।

 

এসকে রাসেল বলেন, আমার ছেলে বালিয়াকান্দি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। টাকা নেওয়ার কোন নিয়ম না থাকলেও টাকা দাবী করায় আমি শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি বলি, তারপরও আমাকে টাকা দিতে হয়েছে।
এদের মধ্যে কয়েকজন ভ্যান চালক ও মিষ্টি দোকানের কর্মচারী অভিভাবকরা আক্ষেপ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে নিরাপদে রেখেছেন। কিন্তু শিক্ষকরা নানা অজুহাতে আমাদের নিকট থেকে বিভিন্ন অজুহাতে গলাকাটা ফি আদায় করছেন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে, শিক্ষার্থীদের হয়রানীর ভয়ে আমরা প্রতিবাদ করতে পারি না। আমরা এসকল শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীসহ টাকা ফেরত প্রদানের দাবী জানাচ্ছি।

 

রাজবাড়ী জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শামসুন্নাহার চৌধুরী গত ৪ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে সব ধরণের ফি আদায় করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করে স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলেন, উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকগণ, শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বিভিন্ন ধরণের ফি আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফি আদায় করার বিষয়ে সরকারী কোন নির্দেশনা এখন পর্যন্ত প্রদান করা হয়নি। সরকারী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে সব ধরণের ফি আদায় করা থেকে বিরত থাকার জন্য সকল শিক্ষা অফিসারদের পত্র প্রদান করা হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

রাজশাহী কলেজে চাকরির বাজার নিয়ে অনলাইন কর্মশালা 

বেলাল হোসেনঃ রাজশাহী কলেজ বিজনেস ক্লাবের (আরসিবিসি) আয়োজনে অনলাইন সেশন “কিউ&এঃ কর্পোরেট কিউরিওসিটি” অনুষ্ঠিত হয়েছে। …

error: Content is protected !!