করোনাকালে এমপিওভুক্ত রাজশাহীর ৩০ কলেজের ৮২৭ শিক্ষক-কর্মচারী

স্টাফ রিপোর্টার: দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণের মুখে কাজ হারিয়ে বেকার হচ্ছিলেন খেটে খাওয়া মানুষজন। চাকরি গেছে বহু বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কর্মীর। সংকটকালে কঠিন হয়ে উঠছিলো সাধারণের জীবনযাপন।

এক পর্যায়ে চরম বেকায়দায় পড়েন বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। ঠিক সেই সময় সুসংবাদ আসে এমপিওর। গত মার্চ থেকে একযোগে শুরু হয় এমপিও কার্যক্রম।

এরই মধ্যে এই প্রক্রিয়ায় এমপিওভুক্ত হয়েছেন রাজশাহী বিভাগের প্রায় ৩০টি নতুন কলেজসহ পুরনো কলেজের ৮২৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী। গত অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে এরিয়াসহ বেতনভাতা পেয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক জনবল এমপিও বিহীন। দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত এরা। নানান সংকট পাড়ি দিয়ে এ পর্যন্ত এসেছেন। বিপুল সংখ্যক আবেদনের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ওই ৮২৭ জনকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।

রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা দপ্তর জানাচ্ছে, এবার এমপিও আবেদন জমা হয়েছে অনলাইনে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে একেবারেই স্বচ্ছতার সাথে। নিজ নিজ আইডি থেকে সুপারিশসহ এমপিও আবেদন প্রেরণ করেছেন কলেজের অধ্যক্ষগণ। তাদের শিক্ষা দপ্তরের বারান্দায় আসতেই হয়নি।

এমপিও আবেদনসমূহ সরাসরি জমা পড়েছে পরিচালকের আইডিতে। সহকারী পরিচালক (কলেজ) আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করেন সুপারিশ করেন। সুপারিশসহ সেই আবেদন চলে যায় উপপরিচালক (কলেজ) বরাবর। তিনিও যাচাই-বাছাই করে সুপারিশসহ সেই আবেদন পাঠিয়ে দেন পরিচালক বরাবর।

প্রোগামারের মাধ্যমে মাউশি অধিদপ্তরের এমপিও কমিটির সভায় উত্থাপনের জন্য প্রেরণ করেন পরিচালক। দেশের ৯টি শিক্ষা অঞ্চলের প্রেরিত আবেদন একই সভায় আলোচনাপূর্বক চুড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বাতিলকৃত আবেদনসমূহ পাঠানো হয় অধ্যক্ষ বরাবর। যাতে পরিমার্জন ও সংশোধন করে আবেদনকারীগণ পুনরায় এমপিও আবেদনের সুযোগ পান। আবেদনসমূহে অনুমোদন ও বাতিলের পর সেগুলো ইএমআইএস সেলের আর্কাইভস এ সংরক্ষিত থাকে।

আঞ্চলিক শিক্ষা দপ্তর সূত্র আরো জানাচ্ছে, এমপিও আবেদন নিস্পত্তির জন্য বিভিন্ন তথ্য আবশ্যিকভাবে প্রদান করতে হয়। শর্ত পূরণ না হওয়ায় এরই মধ্যে রাজশাহী অঞ্চলে বহু সংখ্যক আবেদন বাতিল হছে।

এক্ষেত্রে সংশোধন, যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান ও সংযুক্তিসহ পুনরায় আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তারপরও যথাযথভাবে সংশোধন না থাকায় কিছু আবেদন পুনরায় বাতিল হয়ে যায়। এতে ক্ষুদ্ধ হন আবেদনকারীরা।

অনেকেই ভিন্ন পথে এমপিও পেতে ঘোরাঘুরি করতে থাকেন। আর এই সুযোগ নেন রাজশাহী শিক্ষা দপ্তর কেন্দ্রীক দালাল চক্র। এমপিও পাইয়ে দেয়ার শর্তে মোটা অর্থ হাতিয়ে নেন এমপিও প্রত্যাশিদের কাছ থেকে। শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা, এমপি এমনকি মন্ত্রীদের নাম ভাঙিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের জিম্মি করছে চক্রটি।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, একজন শিক্ষক এমপিও আবেদন করেছিলো সিরাজগঞ্জের বেলকুচি মহিলা ডিগ্রি কলেজ। কিন্তু সেই আবেদন বাতিল হয়েছে। বগুড়া করোনেশন স্কুল এন্ড কলেজের অনেকগুলো আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

এমপিও আবেদন বাতিল হয়েছে জয়পুরহাট আক্কেলপুর মহিলা কলেজ, নাচোল মহিলা কলেজ, নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার বালাতৈর ডিগ্রি কলেজ ও বামুইন স্কুল এন্ড কলেজের। অথচ দালাল চক্র এমপিও পাইয়ে দেয়ার শর্তে এমপিও প্রত্যাশীদের কাছে মোটা অর্থ হাতিয়ে নেন।

এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের ব্যাখ্যা দিয়েছে আঞ্চলিক শিক্ষা দপ্তর। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাপ্য পদের অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি মহিলা ডিগ্রি কলেজ। প্রাপ্যতা নির্ধারণ করতে না পারায় সেই আবেদন বাতিল হয়েছে।

ত্রুটির কারনে বাতিল করা হয়েছে বগুড়া করোনেশন স্কুল এন্ড কলেজের আবেদনগুলো। সনদ ও রেজুলেশনে নামের বানানের অসংগতি থাকায় আবেদন বাতিল হয়েছে আক্কেলপুর মহিলা কলেজের।

নিয়োগ পরীক্ষার সিএস কপিতে ঘঁষামাজা থাকায় নাচোল মহিলা কলেজের একটি আবেদন বাতিল হয়ে যায়। পরে সংশোধন করে পুনরায় আবেদন এসেছে। নিষ্পত্তির জন্য সরেজমিনে যাচাইও হয়েছে।

আর রেজুলেশন ঘঁষামাজা থাকায় দুটি আবেদন বাতিল হয়েছে বালাতৈর ডিগ্রি কলেজের। সেটি সরেজমিনে তদন্ত করবে শিক্ষা দপ্তর। এছাড়া সিএস কপিতে ঘঁষামাজা থাকায় বামুইন স্কুল এন্ড কলেজের একটি আবেদন হয়েছে।

পরে একজন মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে সেই এমপিও পার করার চেষ্টা চালান দালাল সিন্ডিকেটের এক সদস্য।

তবে রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. কামাল হোসেন বলেন, শিক্ষা অঞ্চলগুলোর পরিচালক কলেজ পর্যায়ের এমপিও যাচাই-বাছাই করছেন। সরকারের এমপিও বিকেন্দ্রীকরণের পদক্ষেপ হিসেবে এই কার্যক্রম।

পুরো প্রক্রিয়া হচ্ছে অনলাইনে। এতে করে সেবা প্রার্থী অল্প সময়ে গুণগত সেবা পাচ্ছেন। এমপিও প্রত্যাশিদের অফিসে অযথা ঘোরাঘুরি না করারও পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, করোনা সংকটের ভেতর সরকার এমপিও কার্যক্রম চালিয়েছে। নিজ দল নিয়ে তিনিও রাতদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। এর ফলে মহাদুর্যোগের ভেতরেই প্রায় ৩০টি কলেজের ৮২৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত হয়েছেন।

গত অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে এরিয়াসহ বেতনভাতা পেয়েছেন তারা। এমপিও প্রক্রিয়া চলমান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

রাজশাহী কলেজে চাকরির বাজার নিয়ে অনলাইন কর্মশালা 

বেলাল হোসেনঃ রাজশাহী কলেজ বিজনেস ক্লাবের (আরসিবিসি) আয়োজনে অনলাইন সেশন “কিউ&এঃ কর্পোরেট কিউরিওসিটি” অনুষ্ঠিত হয়েছে। …

error: Content is protected !!