বাদাম চাষে ব্যস্ত টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের কৃষকরা

 

নাসির উদ্দিন,টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি: এ বছর পর পর চারবার বন্যার কারণে বসতভিটাসহ সব কিছু হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর যমুনার চরাঞ্চলের কৃষকরা।

 

সম্প্রতি বন্যার পানি নেমে যাওযায় চরাঞ্চলে চার দিকে জেগে উঠেছে বালু চর। আর এ অঞ্চলে বাদাম চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তারা তাদের পরিবারের লোকজন নিয়ে বাদাম বীজ বপন শুরু করেছেন। উপজেলার চিতুলিয়াপাড়া, কালিপুর, বলরামপুর, গাবসারা, রেহাইগাবসারা, বেলটিয়াপাড়া, রুলীপাড়া, জুঙ্গীপুর, সরইপাড়া, কুঠিবয়ড়া, বাসুদেবকোল, ভদ্রশিমুল, শুশুয়া, গোবিন্দপুর, নলছিয়া, রামপুরসহ আরো অনেক গ্রামের কৃষকরা এলাকায় বাদাম চাষ করছেন।

যমুনা নদীর ভাঙন এবং বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে বাদাম বীজ বপন করা শুরু করছেন।

সরজমিনে চরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাদাম চাষের জন্য কৃষকরা জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ বাদামের বীজ বপন করছেন, কেউ লাঙল টানছেন আবার অনেক চাষিরা বীজ বপন করা জমি পরিচর্যা করছেন। সাথে গ্রামীণ নারীরাও বাদাম চাষে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। বাড়ির কাজের পাশাপাশি ছেলেদের সাথে মেয়েরাও সহযোগিতা করছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কাজ করছে স্কুল পড়ুয়া ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও। কাক ডাকা ভোরে সূর্য উঠতে না উঠতেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাষিরা মাঠে বাদাম বীজ বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রামপুর গ্রামের বাদাম চাষি মোঃ নওশের আলী সেখ বলেন, বিগত বন্যায় আমাদের অনেক ক্ষতি সাধিত হয়েছে এবং এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পুরোদমে বাদাম বীজ বপন ও ক্ষেতের পরিচর্যা শুরু করছি। অল্প খরচ, কম পরিশ্রমে এবং কম সময়ে বাদাম চাষে অধিক লাভবান হওয়া যায়। বাদাম চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয় প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা এবং বিঘাপ্রতি ফলন পাওয়া যায় প্রায় ৮ থেকে ১০ মণ। হাট বাজারে বাদামের ভালো চাহিদা থাকায় খরচ বাদে বিঘাপ্রতি লাভ হয় প্রায় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা।

সরইপাড়া গ্রামের বাদাম চাষি কোবাত আলী বলেন, গত বছর আমি ৪ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করে ভালো ফলন এবং বাজারে ভালো দাম পেয়েছিলাম। তাই এ বছর প্রায় ৬ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবারো ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন রাসেলকলেন, যমুনা চরাঞ্চলে বাদাম ও অন্যান্য ফসল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এরই মধ্যে যমুনার চরাঞ্চলে বাদাম চাষ শুরু করছেন কৃষকেরা। মাত্র আড়াই থেকে ৩ মাসের মধ্যে কৃষকের ঘরে উঠে ফসল। সুস্বাদু ও ভিটামিনসমৃদ্ধ এই ফসল একদিকে যেমন খাদ্যে যোগান দিয়ে থাকে তেমনি তেলের চাহিদা পূরণ করে। বাদামের কচি পাতা কেটে কৃষকরা তাদের গরু-ছাগলকে খাওয়ান। এতে গরু-ছাগল তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্যবান হয়। তাছাড়া অন্য ফসলের মতো বাদামের জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। এ বছর ১হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিগত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

 

তিনি আরো বলেন, এ বছর কৃষকদের সহযোগিতা করার জন্য ১হাজার ৬’শ কৃষক পরিবারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং কিছু দিনের মধ্যে সরকারের বরাদ্দকৃত প্রণোদনা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

টাঙ্গাইলে ঘাটাইলে আমন ধানের বাম্পার ফলন

  নাসির উদ্দিন,টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলে ঘাটাইলের মাঠে মাঠে সোনালি পাকা আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের …

error: Content is protected !!