শীতের আগমনী বার্তায় খেজুর রস

 

শীতের আগমনী বার্তা হিসাবে গাছিরা খেজুর গাছ ঝরা শুরু করেছে। এই সময়টিতে তারা সারাদিন কর্মব্যস্ত থাকে। ভোরবেলা উঠে গাছ থেকে রস নামানো। তারপরে রস গুলো জ্বালিয়ে গুড় করা তৈরি করা বিক্রি করা।

আবার দুপুর থেকে উঠে গাছে উঠে গাছ লাগানো এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত এ কর্মকাণ্ড চলে। কেহ কেহ দিনের বেলাতে বাড়তি উপার্জনের জন্য গাছে নারী পেতে রাখে যেগুলোকে গ্রামীণ ভাষায় ওলা বলা হয় সেগুলি তারা সন্ধ্যার পরে অনেক রাত পর্যন্ত জ্বাল দিয়ে ঘর তৈরি করে। এইভাবেই সারা শীতের ৬ মাস চরম ব্যস্ত সময় পার করে তাদের ইনকামের পরিমাণ বেড়ে যায় পারবে পারিবারিক সচ্ছলতা বারে।

খেজুরের গুড়ের মৌ মৌ গন্ধে চারিদিকে মুখরিত হয়।বাচ্চা ছেলে মেয়েরা ঘুম থেকে উঠেই খেজুরের কাঁচা রস মুড়ি দিয়ে খায় এটা গ্রামীণ মানুষের পুরাতন ঐতিহ্য। তারপরে রস জ্বালানির পরে দুধ আর রস মিশিয়ে ভাত খাই এতে অনেকের নেশা আছে।গুড় দিয়ে রুটি খাই খেজুরের রস এবং গুড় দিয়ে বিভিন্ন রকমের পিঠা পায়েস কুলি বিভিন্ন প্রকারের খাদ্যদ্রব্য তৈরি হয় যা অন্য কোন মিষ্টি দিয়ে চিনি বা গুড় দিয়ে তৈরি হয়না খেজুরের গুড়ের স্বাদ এবং গন্ধ আলাদা । খেজুরের গুড়ের সাথে কুশুরের গুড় বা চিনির গন্ধ এবং শাদে অনেকটা পার্থক্য রয়েছে একটির সাথে আরেকটি তুলনা হয়না। গেরস্থ তাদের জমির সীমানায় আইলে সকলেই খেজুরের গাছ লাগিয়ে থাকে খুব অল্প জমিতে অনেক গাছ লাগানো যায়। সামান্যতম ১০ কাটা কিংবা এক বিঘা জমিতে যে পরিমাণ খেজুরের প্রায় ২০০/৩০০ খেজুরের গাছ করা যায় যা দ্বারা একটা মাঝারি গোছের সংসার অবাধে চালানো সম্ভব। তাই বলা যায় খুব স্বল্প জমিতে অনেক খেজুরের গাছ লাগানো যায় এটি একটি বিশাল অর্থকরী ফসল ও বটে কৃষকদের সচ্ছলতা বেড়ে যায়।

খেজুরের গুড়ের মৌসুমে কৃষকেরা দোকান বাকির হালখাতা পরিশোধ করে ছেলে মেয়েদের জামাকাপড় বানিয়ে দেয় এবং সংসারের প্রয়োজনে অন্যান্য কাজকর্ম বা কেনাকাটার জিনিস খেজুরের গুড় রসের উপর নির্ভর করে তারা সারা বছর আশা করে থাকে এবং এই খেজুরের গুড়ের মৌসুমে তারা এটা সমাধান করে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই খেজুরের গাছ আছে
কোন কোন অঞ্চলে আছে একটু নেটে সার্চ দিয়ে দেখে নিতে হবে এইগুলি লালপুর মার্কেট আছে আরও বড় মার্কেট কোথায় আছে জানতে হবে তারপর সর্বশেষ এইগুলি কোথায় যায়
খেজুরের গুড় রস লাগানোর প্রথা কবে থেকে চালু হয়েছে আমাদের পূর্বপুরুষেরা বলতে পারে না তবে খেজুরের রস গুড়ের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং মজাদার খাবার কিভাবে তৈরি করতে হয় তা তারা পূর্ব থেকেই জানি। খেজুরের গুড়ের ক্ষীর একটি মজাদার খাবার।

খেজুরের গুড়ের যে আলাদা একটা গন্ধ এবং স্বাদ আছে এবং খেজুরের গুড় দ্বারা তৈরি করা বিভিন্ন প্রকার মিষ্টান্ন দ্রব্যের একটা অন্য মিষ্টি চিনি বা গুড় দিয়ে তৈরি খাবারে নাই তাই প্রাচীনকাল হইতেই খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি বিভিন্ন রকম পিঠা পায়েস পুলি ইত্যাদি খাওয়ার প্রথা আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত দেওয়া বিশেষত জামাই কে বাড়িতে ডেকে আনা এই প্রথাটি অতি প্রাচীনস্বল্প জমিতে অনেক খেজুরের গাছ লাগাতে পারে যা একটি পরিবারকে স্বচ্ছলতা আনতে অনেক নির্ভরশীল।

 

লেখক: আব্দুর রশিদ মাষ্টার, সিনিয়র সহ সভাপতি, লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাব, নাটোর।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ধর্ষণের ফাঁসি চাই

ধর্ষণের ফাঁসি চাই কবি আসাদুজ্জামান আসাদ অতীত মূর্খ বর্বর নারী জাতি সদা ভোগ্য তুল্য রাজা …

error: Content is protected !!