রিফাত হত্যা: আদালতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামি

 

বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা ছয়জন ও জামিনে থাকা আটজনসহ ১৪ অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। রায়ের অপেক্ষায় আছে তারা।

বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের রায় ঘোষণা করবেন।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এই মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার সকাল ৯ টা ৪০ মিনিটের দিকে বরগুনা জেলা কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে শিশু আদালতে নিয়ে আসা হয় ৬ আসামিকে। এ ছাড়া পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে আদালতে হাজির হয় ৮ আসামি।

রিফাত হত্যা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন- মো. রাশিদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজী (১৭), মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার (১৫), মো. আবু আবদুল্লাহ্ ওরফে রায়হান (১৬), মো. ওলিউল্লাহ্ ওরফে অলি (১৬), জয় চন্দ্র সরকার ওরফে চন্দন (১৭), মো. নাইম (১৭), মো: তানভীর হোসেন (১৭), মো. নাজমুল হাসান (১৪), মো. রাকিবুল হাসান নিয়ামত (১৫), মো. সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিবুল্লাহ (১৭), মারুফ মল্লিক (১৭), প্রিন্স মোল্লা (১৫), রাতুল শিকদার জয় (১৬), মো. আরিয়ান হোসেন শ্রাবন (১৬)।

আদালত সুত্রে জানা গেছে, ৬৩ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষে বরগুনা জেলা শিশু আদালতের বিচারক মোঃ হাফিজুর রহমান অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামীর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন।

চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত। ৭৪ জন সাক্ষির সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর বরগুনা শিশু আদালত এ মামমলার রায়ের দিন ধার্য করেন। মামলা ১৪ আসামীর মধ্যে ৭ আসামির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মিন্নিসহ ৬ প্রাপ্তবয়স্ক আসামীকে মৃত্যুদন্ড ও ৪ আসামীকে মুক্তি দেয় বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।

মৃত্যুদন্ডাদেশ পাওয়া আসামীরা হলেন-রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি (২৩), আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), মো. হাসান (১৯), আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯)।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। ওই হত্যাকান্ড সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী প্রকাশ্যে শাহনেওয়াজ রিফাতকে (রিফাত শরীফ) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

ঘটনার পরদিন ২৭ জুন রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ একে একে গ্রেপ্তার করেন এজাহারভুক্ত আসামিদের। রিফাতের ওপর হামলার ছয়দিন পর ২ জুলাই ভোর রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন এ মামলার আলোচিত প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড।

রিফাত হত্যাকান্ডের দুই মাস ছয় দিন পর গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বিকালে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করেন পুলিশ।

এদের মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। একইসঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সুইডেনের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সাথে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ …

error: Content is protected !!