অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন: রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, নষ্ট হচ্ছে রাস্তা

 

এস,এম,শামীম(ফুলপুর)ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ- ফুলপুর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বড়ইকান্দী গুদারাঘাট সংলগ্ন কংস নদ বালু ব্যবসায়ীদের লোভের থাবায় এখন ক্ষতবিক্ষত।

অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন,ও ট্রলিযোগে বালু পরিবহনের কারনে নষ্ট হচ্ছে তালদীঘি মুন্সিরহাট জিসিসি রাস্তাটিও।

সরজমিনে দেখা যায় বড়ইকান্দী গুদারাঘাট সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।

একশ্রেনীর অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা লক্ষ লক্ষ ঘনফুট সোমেশ্বরীর মোটা লাল বালু কংস নদ বেয়ে বোলগেট ট্রলারে এনে দু’ফসলি আবাদী জমিতে স্তুপাকৃত জড়ো করে রেখে মোটা দামে বিক্রি করে কামিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

অন্যদিকে বালু পরিবহনের কারণে নষ্ট হচ্ছে নদীর তীরবর্তী এলাকার পরিবেশ। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। বালু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে ফলে সামাজিক নিরাপত্তা ও বেষ্টনী হুমকির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের তদারকির অভাবে এখন কংস নদটিও দিন দিন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ছে। এজন্য এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অপরিকল্পিত ভাবে ট্রলি চলা চলের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে তালদীঘি মুন্সিরহাট জিসিসি রাস্তাটি।

ছোট্ট ছোট্ট ট্রলিযোগে সদ্য নির্মিত তালদীঘি মুন্সিরহাট জিসিসি রাস্তা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে এ বালু ফুলপুর তারাকান্দা সদরে এনে চড়া দামে বিক্রি করছে মজুদকারীরা। বর্ষাকালে বালু এনে সারা বছর এখানে মজুদ করে লক্ষ লক্ষ টাকা কামিয়ে নিলেও সরকার এক কানা কড়িও ট্যাক্স পাচ্ছে না। অপর দিকে ১৩কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাটি অবাধে ধ্বংশ করে যাচ্ছে এই বালুভর্তি ট্রলি গুলো।

ক্ষমতাসীনদের সিন্ডিকেট গড়ে তোলা বালু মহাল দখলে নিয়ে লুটেপুটে খাচ্ছেন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে আইনের কোনো তোয়াক্কা করছেন না তারা। ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে বালু উত্তোলন তো মামুলি ব্যাপার! এর ফলে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইচ্ছে মত যেখান-সেখান থেকে বালু তোলার কারণে নদী ভাঙন ও বাড়ছে, বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপর।ড্রেজার ও পাওয়ার পাম্প লাগিয়ে বালু উত্তোলনে বিধিনিষেধ থাকলেও কিছুরই তোয়াক্কা করছে না বালুখেকো চক্রটি।

স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা নানা কারণে বালু ব্যবসায়ী প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদ করার সাহস করেন না। স্থানীয়রা মনে করেন এভাবে অপরিকল্পিত ভাবে বালু তোলার কারনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাটি অচিরেই নষ্ট হয়ে যাবে। অনতি বিলম্বে এ সব অবৈধ বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ফুলপুর উপজেলা সহ, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন কে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করতে ও সদ্য নির্মিত দৃষ্টি নন্দন এ রাস্তাটি সংরক্ষণের দাবী জানিয়েছেন।

ভূমি মন্ত্রণালয় এর পক্ষ থেকে এ বছরের গোড়ার দিকে অনুমোদন ব্যতিত, নদী বাঁচাতে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন না করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। নির্দেশ মানছেন না মাঠ পর্যায়ের কেউ।

অপর দিকে, বড়ইকান্দী ও বন্ধকোনা মৌজায় ইতিপূর্বে উপজেলা প্রশাসন ফুলপুর প্রস্তাবিত বালু মহাল ঘোষণা করে ইজারা প্রদানে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয়ের সুব্যবস্থা করতে জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

প্রস্তাবিত বালু মহাল বাস্তবায়িত হলে রাস্তা সংরক্ষণ,রাজস্ব আয় সহ শত শত শ্রমিকের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার সচেতন জনগন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ঝালকাঠির রাজাপুরে ২ সন্তানের জননীকে ধর্ষনের চেষ্টা, থানায় মামলা

  মোঃ নাঈম হাসান ঈমন ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ১নং সাতুরিয়া ইউনিয়নের নৈকাঠি …

error: Content is protected !!