কেরানীগঞ্জে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

“মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার” এ স্লোগান কে সামনে রেখে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উদ্দ্যোগে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ১৭ অক্টোবর জিনজিরা পিএম পাইলট স্কুলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জিনজিরা ইউনিয়নের ১ ২ ৩ ৪ নং ওয়ার্ডের(১নং বিট) জনসাধারনদের নিয়ে আয়োজিত উক্তো সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ দক্ষিণ) মোঃ হুমায়ূন কবির। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, জিনজিরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাজী সাকুর হোসেন সাকু। জিনজিরা পিএম পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দীক, প্রবীন রাজনীতিবিদ হাজী মোঃ সেলিম, কেরানীগঞ্জ গ্রাজুয়েট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ম.ই মামুন, জিনজিরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি হাজী মোঃ মোশতাক হোসেন, মোঃ নাসির উদ্দিন, জাহীদ শরীফ বাপ্পী, মো: সিয়াম জিনজিরা ১,২,৩,৪,৫ নং ওয়ার্ড মেম্বারগনসহ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ হুমায়ন কবির বলেন, একটা দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন করতে গিয়ে পুলিশবাহিনী নিরলশ ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।নারীরা যেন তাদের সমস্যার কথা পুলিশের কাছে সরাসরি খুলে বলতে পারেন তার জন্য প্রতিটি থানাতে আলাদাভাবে নারীও শিশু ডেস্ক খোলা হয়েছে । নির্যাতিতাদের সাপোর্ট দেয়ার জন্য আমাদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার রয়েছে।পুলিশ হচ্ছে প্রথম বিচারক, পুলিশ নিরালশ ভাবে কাজ করছে নারী নির্যতন রোধে।

তিনি আরো বলেন, সবার কাছে অনুরোধ, আপনার শিশুটি কোথায় যাচ্ছে, কার কাছে রেখে যাচ্ছেন তা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। আপনার সন্তান কার সাথে মিশছে কোন বন্ধুূদের সাথে চলছে তা দেখে রাখার দায়িত্ব আপনার। ধর্ষন বিরোধী সচেতনতা পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। যে কোন ধরনের খারাপ পরিস্থিতি দেখলে অবশ্যই থানা পুলিশকে অবগত করবেন অথবা ৯৯৯ এ কল দিবেন। এছাড়া ধর্ষনের শাস্তি যেমন মৃত্যুদন্ড তাই বলে কেউ মিথ্যা মামলা করবেন না। মিথ্যা মামলা করলে শাস্তি ৭ বছরের জেল। আপনাদের যে কোন সমস্যায় ঢাকা জেলা পুলিশ আপনাদের পাশে আছে।

হাজী সাকুর হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিটা বাবা মায়ের উচিত সন্তানের খেয়াল রাখা, বাবা মায়ের লক্ষ করা উচিত তার ছেলেটা কার সাথে মিশে, তার মেয়েটা শালীন পোষাক পরেছে কি না।  আইনের শাসন বাস্তবায়নে প্রয়োজন সুশাসন। সুশাসন নিশ্চিত করতে দরকার পুলিশ বাহিনীর সহযোগীতা। জিনজিরা ইউনিয়ন পরিষদ আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সব সময় মডেল থানা পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করবে।

হাজী মোশতাক হোসেন বলেন, ধর্ষন একটি সামাজিক ব্যাধী, ধর্ষনরোধে আমাদের সামাজিক ভাবে সচেতন হতে হবে। আমাদের বোনদেরও শালীন হতে হবে, আজকাল দেখা যায় ফেসবুকে এক শ্রেনীর কুরুচিপূর্ণ নারী বিভিন্ন অশালীন অঙ্গ ভঙ্গির মাধ্যমে পুরষদের প্রভাবিত করে। যদিও এটা ধর্ষনের একমাত্র কারন না। তারপরেও এটা বন্ধ করতে হবে। সরকার ইন্টারনেট কে সহজলভ্য করে আমাদের উন্নয়নের জন্য কিন্তু একশ্রেনীর অসাধু মানুষ ইন্টারনেটের অপব্যবহার করছে। আমার মনে হয় ফেসবুককে দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা উচিত। এটা বন্ধ রাখলেও কুরুচিপূর্ণ মানুষদের অপরাধ অনেক কমে যাবে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম পিপিএম বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন সফল নারী। তিনি দেশের আইন শৃঙ্খলা উন্নয়নে তিনি নিরলশ কাজ করে যাচ্ছেন। ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড। শুধু তাই নয়, কেউ যদি ধর্ষনের চেস্টা করে তার সাজা  ১০ বছর কারাদণ্ড। কেউ যৌতুক দাবী করলে  ১২ বছরের কারাদণ্ড, নারী ও শিশু অপহরন চেষ্টা করলে  যাবৎ জীবন কারাদণ্ড, ইভটিজিং এর চেষ্টা করলে  ১০ বছরের কারাদণ্ড  এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষন করলে মৃত্যুদন্ড ঘোষনা করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানাবাসী আপনাদের আশেপাশে  যদি ধর্ষনের চেষ্টা করা হয় তা হলে আপনারা রুখে দাড়াবেন। এবং দ্রুত সময়ে আমাদের জানাবেন। মডেল থানা পুলিশ সব সময় আপনাদের পাশে আছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত নারী বক্তরা ধর্ষনের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনাকে অভিনন্দন জানান এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কার্যক্রমে সন্তুষ্টি  প্রকাশ করেন। বর্তমান অফিসার ইনচার্জ মডেল থানার দায়িত্ব নেয়ার পরে  এই এলাকার আইন শৃঙ্খলার অনেক উন্নতি হয়েছে বলেন জানান বক্তারা।

কাজী মাইনুল ইসলাম পিপিএমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জিনজিরা পিএম পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজি প্রভাষক নেহার আফরোজ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

দাদার দাদাগিরিতে গৃহহীন তিন ভাই

এম.এম.জাহিদ হাসান হৃদয় (আনোয়ারা, চট্টগ্রাম): নূর মুহাম্মদ, ইয়ার মুহাম্মদ, মৃত আবু তাহের,আব্দুর রহিম। সম্পর্কে তারা …

error: Content is protected !!