লাগামহীন কুড়িগ্রামের সবজি বাজার, বিপাকে নিম্ম-মধ্য আয়ের মানুষ

 

শ্রী সৌরভ সাহা, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলার উপজেলা সমূহের বিভিন্ন বাজারে সবজি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারনে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্থিরতা।বাজার নিয়ন্ত্রন বা দেখার কেউ নেই।

বাংলাদেশের দরীদ্রতম জেলা কুড়িগ্রাম।এ জেলায় উল্ল্যেখ যোগ্য কোন কর্মসংস্থান নেই।কৃষি নির্ভর জনগোষ্ঠী। তার উপর করোনার কারনে মানুষের কর্মসংস্থান সংকুচিত ও উপর্যুপরি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত, নদী ভাঙ্গনে গৃহহারা এ অঞ্চলের মানুষ।জীবন ধারনের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহ সবজির বাজার উচ্চ হওয়ায় চরম দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে এ অঞ্চলের মধ্যবিত্ত সহ খেটে খাওয়া মানুষ।

জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে কেজি প্রতি চাল ৫৫/- টাকার উর্ধে,আলু ৫০/- টাকা,পটল ৬০ /- টাকা,কচু ৫০/-টাকা,বেগুন ৮০-৯০/-টাকা,শশা ১২০/- টাকা,ফুলকপি ১৩০/- টাকা,বাধা কপি ৮০/-টাকা,টমেটো ১৪০/-,শিম ১৪০/-টাকা,করলা ৭০/-টাকা, বরবটি-১০০/- টাকা,পেপে ৫০/- টাকা, মাঝারি আকারের চাল কুমড়ার ৫০/- টাকা,মাঝারি আকারের লাউ ৫০/-টাকা,কাচা কলা হালি ৪০/- টাকা,কাচা মরিচ ৩০০/-কেজি, পিয়াজ দেশী১২০/-

আদা ২৫০/-রসুন ১২০/- টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।মানুষের ক্রয় ক্ষমতার উর্ধে হওয়ায় একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হয়।এ বিষয়ে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী দের সংগে কথা বললে তারা জানান- তাদের কিছুই করার নেই।উচ্চ মূল্যেই তাদের কিনতে হচ্ছে।আগাম অতি বন্যায় সবজি কৃষকগণের সবজি আবাদ বিনষ্ট হওয়ায় চাহিদা অনুসারে সবজি পাওয়া যাচ্ছে না।যাও পাওয়া যাচ্ছে তা উচ্চ মূল্যে ক্রয় করতে হচ্ছে।বিধায় বিক্রিও করতে হচ্ছে উচ্চ মূল্যেই।

কুড়িগ্রাম জেলার পাটেশ্বরী বাজারে দেখা হল আঃ হাকিম নামের একজন কৃষকের সাথে।তিনি বাজারের থলি হাতে এ দোকান সে দোকান ঘুরছেন আর সব্জির দাম জিজ্ঞাসা করছেন।অবশেষে কিনলেন কলমি শাক তাও উচ্চ মূল্যেই।

তিনি জানালেন তার পরিবারে ৮ জন সদস্য।একবেলায় তার চাল লাগে প্রায় দুই কেজি।তার উপর সব জিনিসের মূল্য উচ্চ হওয়ায় অধিকাংশ বেলাই লবন পানি ভাত খেতে হচ্ছে।এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে হয়ত মরবেন না,তবে অপুষ্ঠিতে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলবেন হয়ত।এ অবস্থা শুধু এই কৃষকের ই নয় মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, খেটে খাওয়া সকল মানুষের।

বাজার বিশেষজ্ঞ গণের অভিমত বাজারের এই উর্ধমূল্য আগাম বন্যা ও অতি বন্যার কারনে। এ অবস্থা নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে।তখন বাজারে নতুন সবজির আগমন ঘটলে অবস্থার উন্নতি ঘটবে আশা করা যায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

নরসিংদীতে আলু লাগামহীন ঘোড়া, প্রতি কেজি ৫০ টাকা

  হৃদয় এস সরকার,নরসিংদী: সরকার আলুর দাম দুই দফা নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও নরসিংদীতে দাম …

error: Content is protected !!