টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে অনিয়ম, গোমর ফাঁস করলেই পরেরদিন চাকরি শেষ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সরকারি দলের কয়েকজন নেতার সিন্ডিকেট করে প্রতিবছর তাদের পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এতে করে দিন দিন হাসপাতালে ঠিকাদার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তবুও মুখ বুঝে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। তারা জানিয়েছেন, আজ গোমর ফাঁস করলেই পরেরদিন চাকরি শেষ।

সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে ঠিকাদার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারিদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিবছর কর্মচারী নিয়োগের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। আর টেন্ডারের মাধ্যমেই এর কাজ পেয়েছে এইচআরকে এবং মীম ট্রেডার্স নামের দুইটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ দুইটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী তুহিন ও মোশারফ। আর এ দুইজন ছাড়াও তাদের সাথে রয়েছেন আরেক প্রভাবশালী ঠিকাদার রিপন মিয়া। হাসপাতালে ১৮জন সিকিউরিটি গার্ড, ওয়ার্ডবয় ও ক্লিনার, আয়াসহ মোট ৬৫জন কর্মচারী রয়েছেন।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবছর টেন্ডার আহ্বান করা হলেও সেখানে ওই দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কেউ অংশ নিতে পারছে না প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। ফলে সরকার প্রতিবছরই কোটি কোটি টাকা জলে যাচ্ছে। আর এই টাকার ভাগ নিচ্ছেন হাসপাতালের কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তবে হাসপাতালে ৬৫জন কর্মচারি থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ৪৫জন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী ক্লিনার বলেন, আমি তিন বছর ধরে হাসপাতালে চাকরি করছি। আমারে প্রতি মাসে ঠিকাদার সাত হাজার করে বেতন দেন। বেতন দেওয়ার সময় তারা আবার আমার কাছ থেকে বেতনের দ্বিগুন হারে সোনালী ব্যাংক টাঙ্গাইল শাখার চেকে সই নিয়ে যায়।
একই অবস্থা এক আয়ায়। তিনিও প্রতিমাসে বেতন পান সাত হাজার টাকা। কিন্তু পরিবর্তে তার কাছ থেকেও নেওয়া হয় দ্বিগুন টাকার চেক। তিনি জানান, তার চেক বই ঠিকাদারের কাছেই রয়েছে। প্রতিমাসে তারাই এসে বেতন দিয়ে চেকে স্বাক্ষর নিয়ে যান।

আরেক নারী জানান, তিনিও বেতন পান সাত হাজার টাকা। কিন্তু তার কাছ থেকেও সাদা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তবে তিনি কতটাকা মূল বেতন পান সেটি তিনি জানেন না।

তৃতীয় তলায় ৮ নং ওয়ার্ডের ওয়ার্ড বয় জানান, তিনি প্রতিমাসে আট হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন। তবে বেতন দেওয়ার সময় কোন চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে আর কিছু জানতে চাইয়েন না। আপনি ঠিকাদারদের সাথে কথা বলেন।

হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় কথা হয় এক সিকিউরিটি গার্ডের সাথে। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ১০/১১বছর ধরে একই ঠিকাদারের মাধ্যমে একানে চাকুরি করছি। প্রতিদিন আট ঘন্টা করে ডিউটি করতে হচ্ছে। আট ঘন্টা পর ডিউটিতে আসবে নুরুল ইসলাম এরপর মান্নান মিয়া। তিনি জানান, প্রতিমাসে ঠিকাদার তাকে নয় হাজার টাকা বেতন দিয়ে তার কাছ থেকে আবার বেতনের দ্বিগুন অংকের চেকে স্বাক্ষর নিয়ে নেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক সিকিউরিটি গার্ড জানান, তিনি প্রতিমাসে বেতন পাচ্ছেন নয় হাজার টাকা। কিন্তু বেতন নেওয়ার সময় যে চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয় সেখানে উল্লেখ থাকে ১৬ হাজার ১৩০টাকা।

আরেক গার্ড জানান, তিনিও ১৬ হাজার ১৩০ টাকার চেকে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু প্রতিমাসে তাকে বেতন দেওয়া হয় নয় হাজার টাকা। আর এর যদি প্রতিবাদ বা গোমর ফাঁস করি তাহলে পরের দিনই চাকরি চলে যাবে।

এ বিষয়ে মীম ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারি মোশারফ জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে টাকা জমা করে দেন। টাকা জমা হওয়ার পর তারাই টাকা উত্তোলন করেন। তবে ব্যাংকের (যার যার) সব চেকে আগে থেকেই স্বাক্ষর করে রাখা হয়েছে। আর কোন কর্মচারিদের মূল বেতনের কম দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় চায়ের দোকানী আহত

ঢাকার কেরানীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ইয়ামিন মোল্লা (৫০) নামে এক চায়ের দোকানী আহত হয়েছে। ঘটনাটি …

error: Content is protected !!